আবারও এশিয়া কাপ হকি ফিরেছে ঢাকায়

প্রথম প্রকাশঃ অক্টোবর ১১, ২০১৭ সময়ঃ ২:২৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:৫৪ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ ৩২ বছর পর আবার এশিয়া কাপ হকি ফিরেছে ঢাকায়। এশিয়ার সেরা ৮ দলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন হকিপ্রেমীরা।

এশিয়া কাপ হকি ফেডারেশন যেদিন ঢাকাকে দশম আসরের ভেন্যু করার সবুজ সঙ্কেত দিয়ে কিছু শর্ত জুড়ে দেয় সেদিন থেকেই আয়োজনের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের।

সময়মতো এশিয়ান হকি ফেডারেশনের সামনে আধুনিক এক হকি স্টেডিয়াম উপস্থাপন করতে পেরেছে বাংলাদেশ। অপেক্ষার পালা শেষ।

আজই (বুধবার) মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের নীল টার্ফে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াইয়ে নামবে ৮ দেশ দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, জাপান, চীন, ওমান ও স্বাগতিক বাংলাদেশ।

৩২ বছর আগের এবং এবার এশিয়া কাপের পার্থক্য অনেক। ১৯৮৫ সালের টুর্নামেন্ট হয়েছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ঘাসের মাঠে। এবার হবে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের নীল টার্ফে। বিশ্বের অনেক দেশ অনেক আগেই টার্ফের সঙ্গে পরিচিত হলেও বাংলাদেশের হকিপ্রেমীদের কাছে তা ছিল কল্পনার বাইরে। তবে বাংলাদেশের হকিও টার্ফের সঙ্গে পরিচয় নতুন নয়। এই তো মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামই দেখেছে দুটি টার্ফ। সবুজ টার্ফটিকে বিদায় দিয়ে দেশের একমাত্র হকি স্টেডিয়াম বুকে ধারণ করেছে নীল টার্ফ।

হকির নিয়ম-কানুনেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। অফসাইড উঠিয়ে দেয়া, পেনাল্টি শুট আউটের প্রবর্তনসহ অসংখ্য পরিবর্তন এসেছে এ খেলাটির নিয়ম-কানুনে। সময়ের পরিবর্তনে স্টিকের জাদুও হয়েছে আরও মনোরম ও আকর্ষণীয়।

প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ আয়োজন বাংলাদেশের হকির ওপর পড়েছিল বিশাল প্রভাব। ওই টুর্নামেন্টের পর হকির বিপ্লব ঘটেছিল লাল-সবুজের দেশে। গাছের ডাল কেটে স্টিক বানিয়ে যেখানে সেখানে খেলতে নেমে যেত কিশোর-তরুণরা। ঠিক যেমন এখন দেখা যায় ক্রিকেটে। হকির সে জাগরণটা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এক সময় হকিকে ধরা হতো ফুটবলের পরই দেশের জনপ্রিয় খেলা। ধীরে ধীরে বিশ্বে হকির জনপ্রিয়তা বাড়লেও বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলেছে স্বকীয়তা।

ঘরের মাঠের এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ শক্তি আর সম্ভাবনায় পিছিয়ে সবার চেয়ে। র‌্যাংকিং বিবেচনায় আন্ডারডগ হয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

হকি যতদিন শুধু ঘাসের মাঠের খেলা ছিল ততদিন দাপট ছিল ভারত-পাকিস্তানের। টার্ফের জগতে ঢোকায় এ দুই দেশের কাছ থেকে হকির শ্রেষ্ঠত্ব চলে যায় ইউরোপে। তবে এশিয়ায় এখনও পরাশক্তি হিসেবে টিকে আছে দক্ষিণ এশিয়ার এ দুই দেশ। যদি এশিয়ার সর্বশেষ দুই লড়াইয়ে বিজয়ের ঘোড়া ছুটিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ঢাকার এশিয়া কাপে দক্ষিণ কোরিয়ায় শুরু করবে টপ ফেবারিট হিসেবে। তবে আবহাওয়া আর ভৌগোলিক দিকটা সমর্থন দেবে ভারত-পাকিস্তানকেও। বাংলাদেশের শক্তি ঘরের মাঠ আর পরিচিত দর্শক।

বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট শুরু করতে হচ্ছে একটা বড় পরীক্ষা দিয়েই। সে পরীক্ষার নাম পাকিস্তান। এশিয়া কাপের সাবেক চ্যাম্পিয়ন দলটির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ম্যাচে বাংলাদেশ কেমন খেলে তার ওপরই নির্ভর করছে দলের পরের ম্যাচগুলো দর্শক কতটা টানতে পারবে। হকি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ যদি লড়াই করতে পারে তাহলে এবারও দর্শকের ঢল নামবে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে।

প্রতিক্ষণ/এডি/শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

0cc0