এ হাত ক্লান্ত কিশোর শ্রমিকের

প্রথম প্রকাশঃ এপ্রিল ২৮, ২০১৭ সময়ঃ ১০:৩০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:০২ অপরাহ্ণ

শারমিন আকতার:

চারদিক অমাবস্যার বিদঘুটে অন্ধকার; সকাল-দুপুর এবং সাঁঝের বেলায়। সব রং ফিকে হয়ে যায় কালোর আঁধারের কাছে। এমনকি আলোর বিচ্ছুরিত সাদাও।

রফিক; বিশাল দৈত্তের মতো আবদ্ধ এক কারখানার কিশোর শ্রমিক। এখানেই তার দিন; এখানেই তার রাত। তার কাছে এটাই একমাত্র জগৎ; যেখানে ভালো আর আলোরা খেলা করে না কখনও। মন্দের কাছে এখানে সবাই অন্ধ; দখিনা জানালাটা, তাও বন্ধ। দম বন্ধ করা আঁধারে এক সিকি আলোর জন্য মাঝেমাঝে শোনা যায় ভালো-মন্দের দ্বন্দ্ব। ব্যস, এটুকুই।

মেশিনে হাত ঘুরাতে ঘুরাতে ক্লান্ত রফিক ঘুমের ঘোরেও শুধু ঘুরছে আর ঘুরছে। চোখ খুলে আবারও সেই মেশিন। পরনের সাদা জামা থেকে ছুপছুপে তেলের বিকট গন্ধ; আর সাদা রঙের উপর কালোর প্রলেপ জমে অন্ধকার কারখানার সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়।

তার কাঁচা বয়সের কচি হাতদুটো ফ্লাসের আলো থেকে সামান্য ছোঁয়া পাওয়ায় কেমন করুণভাবে নেতিয়ে পড়েছে প্রাণহীন যন্ত্রের সামনে। তাকিয়ে দেখুন একবার, আড়চোখে আঁড়িপেতে হলেও। এখানে জমে আছে শত-সহস্র কষ্টের বীজ। যা থেকে প্রতিদিন একটি নয় দুটি নয়; অগণিত ক্ষোভের চারা জন্ম নিচ্ছে।

কিশোর শ্রমিকের হাত; যে জানে না শ্রম কাকে বলে? শুধু জানে, এ দুহাত দিয়ে চালিয়ে যেতে হবে; একটুও বিরাম নেই।
ছিঁড়ে যাওয়া তালু সাক্ষ্য দেয় অসংখ্য নির্মম গল্পগাঁথার। যে হাত হতে পারতো আশার ভবিতব্যে ভরা একরাশ আনন্দ ফসলের গানে মাতোয়ারা, নীল দিগন্তে উড়ে বেড়ানো সাদা ঘুড়ির সঞ্চালক, সিন্ধু সেঁচে মুক্ত তুলে আনা প্রবল আত্মবিশ্বাসী; সে হাত এত দুর্বল-মলিন কেন?

হঠাৎ আলো-আঁধারী মেঝেতে এ কিসের শব্দ! তবে কি রফিকের দুচোখ বেয়ে সব কষ্ট ধুয়ে মুছে একাকার হতে চায়? যদি তাই হয়; তবে যেতে দিন। বাধাহীন আলোর একটু স্বাদ কি দেওয়া যায় না? ঝরুক অশ্রুবৃষ্টি, উঠুক তুফানঝড়।

 

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

0cc0