নজরুলের ‘নারী’ কবিতার নারীরা

প্রথম প্রকাশঃ মার্চ ৮, ২০১৬ সময়ঃ ২:১৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:২০ অপরাহ্ণ

1932157_1714245588857709_1887914792_n

যুগের ধর্ম এই- পীড়ন করিলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই। শোনো মর্ত্যের জীব! অন্যেরে যত করিবে পীড়ন, নিজে হবে তত ক্লীব! সে যুগ হয়েছে বাসি, যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না ক’, নারীরা আছিল দাসী। বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যের যুগ আজি, কেহ রহিবে না বন্দী কাহারও, উঠিছে ডঙ্কা বাজি’। নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পর যুগে আপনারি রচা ঐ কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে! 

12696111_1714247682190833_972523038_n (1)

আজ তুমি ভীরু আড়ালে থাকিয়া নেপথ্যে কও কথা! চোখে চোখে আজ চাহিতে পার না; হাতে রুলি, পায় মল, মাথার ঘোম্টা ছিঁড়ে ফেল নারী, ভেঙে ফেল ও-শিকল! এতদনি শুধু বিলালে অমৃত, আজ প্রয়োজন যবে, যে-হাতে পিয়ালে অমৃত, সে- হাতে কূট বিষ দিতে হবে। পুরুষ-যমের ক্ষুধার কুকুর মুক্ত ও পদাঘাতে লুটায়ে পড়িবে ও চরণ-তলে দলিত যমের সাথে! নারী চাপা ছিল এতদিন, আজ চাপা পড়িয়াছে নর। সে যুগ হয়েছে বাসি, যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না ক’, নারীরা আছিল দাসী। 

12788471_1714247735524161_1980510262_o (1)

শস্যক্ষেত্র উর্বর হ’ল, পুরুষ চালাল হল, নারী সে মাঠে শস্য রোপিয়া করিল সুশ্যামল। নর বাহে হল, নারী বহে জল, সেই জল-মাটি মিশে’ ফসল হইয়া ফলিয়া উঠিল সোনালি ধানের শীষে। সাম্যের গান গাই – আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই। বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী। নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা’ করে নারী হেয়-জ্ঞান? তারে বল, আদি-পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান। অথবা পাপ যে – শয়তান যে – নর নহে নারী নহে, ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে। 

12822953_1714247808857487_1759261950_o

এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল, নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু- গন্ধ সুনির্মল। তাজমহলের পাথর দেখেছে, দেখিয়াছ তার প্রাণ? অন্তরে তার মোমতাজ নারী, বাহিরেতে শা-জাহান। জ্ঞানের লক্ষ্ণী, গানের লক্ষ্ণী, শস্য-লক্ষ্ণী নারী, সুষমা-লক্ষ্ণী নারীই ফিরিছে রূপে রূপে সঞ্চারি’। পুরুষ এনেছে দিবসের জ্বালা তপ্ত রৌদ্রদাহ, কামিনী এনেছে যামিনী- শান্তি, সমীরণ, বারিবাহ। দিবসে দিয়াছে শক্তি- সাহস, নিশীথে হয়েছে বধু, পুরুষ এসেছে মরুতৃষা লয়ে, নারী যোগায়েছে মধু। স্বর্ণ-রৌপ্যভার নারীর অঙ্গ-পরশ লভিয়া হয়েছে অলঙ্কার। নারীর বিরহে, নারীর মিলনে, নর পেল কবি-প্রাণ, যত কথা তার হইল কবিতা, শব্দ হইল গান। জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় অভিযান মাতা ভগ্নী ও বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান। জয়ী পুরুষের তরবারি, প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয়-লক্ষ্ণী নারী। পুরুষ হৃদয়হীন, মানুষ করিতে নারী দিল তারে আধেক হৃদয় ঋণ। সেদিন সুদূর নয়- যেদিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়! 

 

প্রতিক্ষণ/এডি/শাআ

====

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

0cc0