বিএডিসির নোটিশ না মানলে জরিমাসা ১০ হাজার

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৮ সময়ঃ ৪:০৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৪:০৪ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) নোটিশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে নতুন আইন অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার ‘বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন আইন, ২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ অনুমোদনের কথা জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আগে এ বিষয়ে ১৯৬১ সালের একটি অর্ডিন্যান্স ছিল। এটা ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে সংশোধন হয়।’

সামরিক শাসনামলের আইন ও ইংরেজি আইনগুলো বাংলা করে নতুন করে প্রণয়নের সিদ্ধান্ত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই প্রেক্ষাপটে আইনটি করা হয়েছে। আগের আইনের সঙ্গে এর যথেষ্ট মিল রয়েছে।’

কর্পোরেশন এখন যে কাজগুলো করে নতুন আইনেও সেগুলো মোটামুটি তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘খসড়া আইন অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ হবে চেয়ারম্যানসহ ১৬ সদস্য বিশিষ্ট, আগে ছিল ১৪ সদস্যের। কর্পোরেশন ও বোর্ডের প্রধান হবেন চেয়ারম্যান, সরকার চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবে।’

‘কর্পোরেশন এ আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো কাজ করতে বা কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে নোটিশ দিলে এবং ওই ব্যক্তি নোটিশ অনুযায়ী কোনো কাজ করা বা করা থেকে বিরত থাকতে ব্যর্থ হলে কর্পোরেশন ওই কাজের বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ বা সম্পাদন করতে পারবে। এজন্য ব্যয় হওয়া সব অর্থ ওই ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করতে পারবে।’

‘খসড়া আইন অনুযায়ী কেউ বিএডিসির নোটিশ অমান্য করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে’- জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘যদি কেউ এ অপরাধ দ্বিতীয়বার করে তবে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে জরিমানা দিতে হবে। আগে নোটিশ দেয়ার বিষয়টি থাকলেও তা অমান্য করলে কোনো দণ্ড ছিল না।’

কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিএডিসি নোটিশ দিয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।

শফিউল আলম আরো বলেন, ‘কর্পোরেশনের কোনো ভূমি বা স্থাপনা রক্ষার সীমানা প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করলে, দালান বা দেয়ালের ভার রক্ষার্থে ঠেস দেয়ার জন্য স্থাপিত কোনো বস্তু অপসারণ, খনন করা বা ভেঙে ফেলা কোনো সড়ক বা ভূমিতে স্থাপিত বাতি নিভিয়ে ফেললে, কর্পোরেশনের আদেশ না মেনে যাতায়াতের পথ বন্ধ করলে, কর্পোরেশনের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আগে এক্ষেত্রে শুধু ৫০ টাকা জরিমানা ছিল।’

কর্পোরেশনের নিয়োগ করা ঠিকাদারকে বাধা এবং কর্পোরেশের কোনো সীমানা বা দিকনির্দেশক চিহ্ন অপসারণ করলেও ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, ‘কর্পোরেশনের লিখিত অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন কোনো জমিতে চাষবাদ করেন বা চাষাবাদের জন্য প্রস্তুত করেন বা ওই জমিতে কোনো ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করেন বা গাছ কাটেন বা ভূমি খনন করেন, তবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

আগের আইনে এসব অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ২০০ টাকা জরিমানা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কেউ কর্পোরেশনের ভূমি দখলে রাখলে কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বা তার কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি শক্তি প্রয়োগ করে ভূমিতে প্রবেশ করতে পারবেন এবং কর্পোরেশনের পক্ষে ভূমির দখল নিতে পারবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘খসড়া আইন অনুযায়ী বিশিষ্ট সাংবাদিক বা শিক্ষাবিদ বা জনসংযোগে দক্ষ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করবে সরকার।’

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০১৮
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮  
0cc0