ভালো গল্প পেলে যেকোনো চরিত্রে অভিনয় করতে প্রস্তুত

প্রথম প্রকাশঃ অক্টোবর ২১, ২০১৭ সময়ঃ ৫:৫৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:০৩ অপরাহ্ণ

রাকিব হাসান:

 

সানজিদা মিলা। একাধারে মডেল, উপস্থাপক এবং অভিনেত্রী। মডেলিং এ অনিয়মিত হলেও মঞ্চ এবং টেলিভিশনে উপস্থাপনার পাশাপাশি নাটকে নিয়মিত তিনি। তার অভিনীত বেশকিছু নাটক ইতোমধ্যে দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আরটিভিতে প্রচারিত ‘নোয়াশাল’ নাটকটি তার ক্যারিয়ারের টানিং পয়েন্ট।

এছাড়া বেশকিছু নাটকে তিনি তার অভিনয় দক্ষতা তুলে ধরেছেন। দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘অলি’। এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন সানজিদা। নাটকটি ইতোমধ্যেই দর্শক হৃদয়ে ঠাঁই করে নিতে শুরু করেছে।

ভালো গল্প পেলে সানজিদা যেকোনো চরিত্রে অভিনয় করতে প্রস্তুত। নায়িকার চরিত্রে যেমন অভিনয় করেছেন তেমনি কাজের মেয়ে, পুলিশ অফিসার, পাগলী এবং মায়ের চরিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। প্রতিনিয়তিই চরিত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। এতে তার নায়িকা ইমেজে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা এ বিষয়ে চিন্তিত নন তিনি।

অভিনয়ই হচ্ছে তার ধ্যান-জ্ঞান। সে কারণে কোন চরিত্রে অভিনয় করছেন, চরিত্রের গভীরে যেতে পারছেন কিনা; সেটাই তার কাছে মূল বিবেচ্য বিষয়। ধারাবাহিক অলিতে তার চরিত্রটা চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন তিনি। এই সিরিয়ালে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরতে পারবেন বলে আশাবাদী সানজিদা।

তারকাখ্যাতি কেমন উপভোগ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে সানজিদা জানান, ‘খুব ভালো লাগার মতো একটা অনুভূতি। ধরেন সদরঘাটে চা খেতে গেলাম। দোকানদার চিনতে পেরে বলল, ‘আপনার নোয়াশাল নাটক দেখেছি, খুব ভালো লেগেছে। বিল দিতে হবে না’। আবার অনেক জোরাজুরির পরও সিএনজি ড্রাইভার হয়তো ভাড়াটাই নিতে চাইলো না। এ ধরনের অনেক ঘটনা আছে, বেশ উপভোগ করি।

নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে মিডিয়াতে একটা অবস্থান তৈরি করলেও শুরুর পথটা অত মসৃণ ছিলো না সানজিদার। পরিবারের উৎসাহে বরগুনাতে টুকটাক উপস্থাপনা দিয়ে শুরু। এরপর ঢাকায় এসে কলেজে ভর্তি হবার পর ঢাকা আর্ট থিয়েটার। স্কুলের মাধ্যমে অনুশীলন শুরু। কলেজে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। ঐ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০ হাজার টাকা পুরস্কার পান তিনি। এরপর অনন্যাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে বেশ জনপ্রিয় হন। এছাড়া বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে উপস্থাপনার পাশাপাশি মঞ্চে অভিনয়েও মনোনিবেশ করেন। ছোটপর্দায়ও বেশ কিছু নাটকে তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে পরিচালকদের নজরে আসেন এই অভিনেত্রী।

সুযোগ পেলে বিকল্পধারার চলচ্চিত্রেও অভিনয় করবেন বলে জানালেন সানজিদা। তবে বাণিজ্যিক ছবিতে কাজের কোনো আগ্রহ নেই তার। এ পর্যন্ত বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এরমধ্যে ‘রেজা রনির যত কাণ্ডকারখানা’, ‘টাকার নাম বাবাজী’, ‘আধুনিক ছেলে’, ‘পকেটমার’, ‘সেন্টেমেন্টাল’, ‘ভালো থেকো’, ‘একটি রাত’ এবং ‘অত:পর ভালবাসা’।

ছোটবেলা থেকেই সানজিদা ভীষণ একরোখা। নিজের আত্নসম্মানবোধ ও পেশাদারিত্ব মনোভাব বজায় রেখে ভালো গল্পের যেকোনো চরিত্রে অভিনয়ে তার আপত্তি নেই।পেশাদারিত্বের বিষয়টিতে তিনি কোনোভাবেই ছাড় দিতে রাজী নন। সে কারণেই একের পর এক নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে নিজেকে ভাঙা-গড়ার এক অদ্ভুত খেলায় সম্পৃক্ত করেন তিনি।

নায়িকা ইমেজ নয়, অভিনেত্রী ইমেজটাকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সানজিদা। ‘নোয়াশাল’ এবং ‘অলি’র পর আরো কিছু ভালো নাটক দর্শককে উপহার দিতে চান বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সানজিদা। প্রতিক্ষণ পরিবারের পক্ষ থেকে সানজিদার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

প্রতিক্ষণ/এডি/শাআ

 

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

0cc0