আপনি কি জানেন শিলা বৃষ্টি কেন বিপদজনক?

প্রকাশঃ মার্চ ৩০, ২০২৬ সময়ঃ ৯:২৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:২৩ অপরাহ্ণ

কালো আকাশ, ঝোড়ো হাওয়া, তারপর বৃষ্টি—এটা স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু হঠাৎ যদি দেখো, আকাশ থেকে পানি না পড়ে বরফের ছোট ছোট বল পড়ছে, তখনই বুঝে নিও শিলাবৃষ্টি হচ্ছে। বসন্তকালে বাংলাদেশে অনেকেই এর মুখোমুখি হন। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—শিলাবৃষ্টি কেন হয় এবং এর পেছনে আকাশে কী ঘটে?

বজ্রঝড়ের ভেতরের রহস্য

শিলাবৃষ্টি সাধারণ বৃষ্টির মতো নয়। এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী বজ্রঝড়। বজ্রঝড়ের সময় আকাশে যে বিশাল মেঘ তৈরি হয়, তাকে বলে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ। এই মেঘগুলো কখনো ১০–১২ কিলোমিটার পর্যন্ত উঁচুতে পৌঁছায়।

মেঘের ভেতরে বাতাস উপরের দিকে খুব শক্তভাবে উঠতে থাকে, যা বলা হয় আপড্রাফট। এই বাতাস ছোট পানির ফোঁটাকে মেঘের উপরের ঠান্ডা অংশে ঠেলে নিয়ে যায়। এখানে পানির ফোঁটাগুলো বরফে পরিণত হয়। এভাবেই ছোট ছোট বরফকণা তৈরি হয়, যা শিলার বীজ হিসেবে কাজ করে।

ছোট কণা থেকে বড় শিলা

প্রাথমিকভাবে এই বরফকণাগুলো ছোট হয়। কিন্তু ঝড়ের ভেতরে এগুলো বারবার উপরে-নিচে ওঠানামা করে। উপরে গেলে ঠান্ডায় জমে, নিচে নামলে তুলনামূলক গরম অংশে আবার পানি লেগে নতুন বরফ স্তর তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় শিলার ওপরের স্তরগুলো পেঁয়াজের মতো লেয়ার তৈরি করে।

যত বেশি সময় ধরে শিলার ওঠানামা হয়, তত বড় হয় শিলা। কখনো মটরদানার মতো ছোট, আবার কখনো টেনিস বলের মতো বড়ও হতে পারে।

শিলার ভেতরের লেয়ার

শিলা কেটে ভেতর দেখলে দেখা যায় একেকটা স্তর—একটা স্বচ্ছ, আরেকটা সাদা। স্বচ্ছ বরফ ধীরে ধীরে জমে, আর দ্রুত জমলে ভেতরে বাতাস আটকে যায়, যা সাদা বা অস্বচ্ছ দেখায়। একসাথে মিলিত হয়ে এই স্তরগুলো শিলার ভিতরে সুন্দর লেয়ার তৈরি করে।

মাটিতে পড়ার সময়

ঝড়ের ভেতরে যতক্ষণ বাতাস শক্তিশালী থাকে, শিলাগুলো মেঘের ভেতরেই ঘুরতে থাকে। কিন্তু একসময় শিলা এত ভারী হয়ে যায় যে বাতাস আর ধরে রাখতে পারে না। তখন শিলা মাটিতে পড়ে—এটিই শিলাবৃষ্টি।

বাংলাদেশে কখন বেশি হয়

বাংলাদেশে শিলাবৃষ্টি সাধারণত বসন্তকালে, অর্থাৎ মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এই সময়কালকে অনেকেই কালবৈশাখী মৌসুম হিসেবে চেনেন। বসন্তের শেষ দিক থেকে বর্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত মাঝেমধ্যে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, যেমন রাজশাহীরংপুর, শিলাবৃষ্টির জন্য তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ। খোলা সমতল এলাকার প্রভাবও বেশি বোঝা যায়।

শিলাবৃষ্টি কেন বিপজ্জনক

দর্শনীয় হলেও শিলাবৃষ্টি অনেক সময় ক্ষতিকর। বড় শিলা ফসল নষ্ট করতে পারে, টিনের ছাদে গর্ত করতে পারে, এবং কখনো কখনো মানুষ বা গবাদি পশুও আহত হতে পারে। তাই শিলাবৃষ্টি শুরু হলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি।

সংক্ষেপে

শিলাবৃষ্টি হওয়ার জন্য দরকার শক্তিশালী বজ্রঝড়। ঠান্ডা মেঘের অংশে পানি বরফে পরিণত হয়। বারবার ওঠানামার ফলে শিলা বড় হয় এবং যখন ভারী হয়ে পড়ে, মাটিতে আসে। প্রকৃতির এই খেলা একদিকে দারুণ, অন্যদিকে একটু ভয়ঙ্কর। তাই কালো মেঘ ও ঝোড়ো হাওয়া দেখলেই শুধু বৃষ্টি ভাবলেই হবে না, শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও মাথায় রাখতে হবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

May 2026
SSMTWTF
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 
20G