ওমরা হজের ভিসা দিচ্ছেনা সৌদি সরকার

প্রকাশঃ এপ্রিল ৩০, ২০১৫ সময়ঃ ২:১০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:০৩ অপরাহ্ণ

hazবাংলাদেশকে নানা অভিযোগে  ব্ল্যাকলিস্টে ফেলেছে সৌদি আরব। তাই সৌদি সরকার গত এক মাস ধরে বাংলাদেশিদের ওমরা ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কবে আবার ভিসা দেয়া শুরু করবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চিয়তা।

এদিকে, সরকারি নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিয়েও হজে যেতে পারছেন না সিলেটের ১হাজার ২৬২জন হজযাত্রী। ধর্মমন্ত্রণালয়ে ডাটা এন্ট্রি না হওয়ায় এই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে ওমরা ভিসা নিয়ে হাজারো মানুষ সৌদি আরবে রয়েছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না এসে অবৈধভাবে সেখানে থেকে যাচ্ছে। সৌদি সরকারও অবৈধদের চিহ্নিত করতে পারছে না। গত ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত যারা ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন তাদের একটি অংশ দেশে ফিরে আসেনি। আর বিষয়টি সৌদি সরকারের নজরে আসামাত্র তারা বাংলাদেশকে ব্ল্যাকলিস্টে ফেলেছে এবং বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

জানা গেছে, সৌদি আরবের মিনিস্ট্রি অব ফরেন এফেয়ার্সের বেঁধে দেয়া নতুন নিয়মে বাংলাদেশ থেকে ওমরা হজযাত্রীদের দেশটিতে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়মে রয়েছে যারা ওমরা ভিসায় সৌদি যাবেন তাদেরকে নির্ধারিত এজেন্ট বা কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। প্রতি মাসে এর সঠিক হিসাব সৌদি সরকারের কাছে প্রদান করতে হবে।

ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৪০-৫০ হাজার মানুষ ওমরা পালন করতে গেছেন সৌদি গেছেন। তাদের ১৪ থেকে ২৮ দিন মেয়াদের ভিসা ছিল। এদের বেশির ভাগ দেশে ফিরে এলেও প্রায় দেড় হাজারের মতো হাজি দেশে ফিরেননি। তারা অবৈধভাবে এখনও দেশটিতে রয়ে গেছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশিদের না ফেরার বিষয়টি জানার পর সৌদি সরকার গত ২২শে মার্চ থেকে পুরোপুরিভাবে ওমরা ভিসা প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে

প্রতিবছর রমজান মাসেই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার মানুষ ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে যান। পবিত্র হজের পরে রমজানই হচ্ছে ওমরাহর মওসুম। এ মৌসুমে সিলেট থেকেও ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষ ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে যান। কিন্তু এ ঘটনার পর বাংলাদেশ আর কোনো ভিসা পাচ্ছে না। এতে করে যেমনি বাংলাদেশের ওমরাহ পালনকারীরা হতাশ হবেন তেমনি লোকসানে পড়বেন ট্রাভেল এজেন্সির মালিকরা। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার ওমরা ভিসা প্রাপ্তির জন্য জমা পড়ে আছে। সে ভিসাগুলোও দেয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সৌদি দূতাবাস।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এ বছরের ২৬ ফেরুয়ারির মধ্যে হজে গমনেচ্ছুদের টাকা জমা দেয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কিন্তু এর ৪দিন পূর্বে ২২ ফেরুয়ারি ধর্মমন্ত্রণালয় ডাটা এণ্ট্রি বন্ধ করে দেয়। যে কারণে ২২ তারিখের পরে জমা দেয়া হজ গমনেচ্ছুদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

সূত্রটি আরো জানায়- অসাধু কিছু ট্রাভেলস ব্যবসায়ীর যোগসাজশে ৪দিন পূর্বে ডাটা এন্ট্রি বন্ধ করে দিয়ে অবৈধ হাজিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যে কারণে বৈধ উপায়ে আবেদনকারীদের নাম বাদ পড়ে যায়। আর তাতেই সিলেটের ১হাজার ২৬২ হজযাত্রীর হজে যাওয়া নিয়ে এ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

প্রতিক্ষণ/এডি/সালাহউদ্দিন

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

জানুয়ারি ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ডিসেম্বর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
0cc0