কোরবানির ঈদকে ঘিরে চেস্ট ফ্রিজার বিক্রিতে নতুন রেকর্ড

প্রকাশঃ মে ২৮, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের ইলেকট্রনিক্স ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স বাজারে কিছুটা ক্রেতা আগ্রহ দেখা গেছে। বিশেষ করে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের প্রয়োজন বাড়ায় ডিপ ফ্রিজ বা চেস্ট ফ্রিজারের বিক্রি এবার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির ঈদ ঘিরে মাংস সংরক্ষণে মানুষের সচেতনতা বাড়ায় এ ধরনের পণ্যের চাহিদাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ক্রেতাদের কেনাকাটার ধরণেও পরিবর্তন এসেছে। আগের মতো উচ্চমূল্যের পণ্যের দিকে ঝোঁক কমে গিয়ে অনেকেই এখন প্রয়োজনভিত্তিক ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী পণ্য বেছে নিচ্ছেন। তাদের মতে, বর্তমান বাজারে “লাক্সারি” নয়, বরং “ব্যবহারিক প্রয়োজন” এখন ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলছে।

ইলেকট্রনিক্স খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মতে, ঈদ উপলক্ষে বিক্রি মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির পণ্যের চাহিদা কিছুটা কম ছিল। নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে থেকেই বেশিরভাগ ক্রেতা কেনাকাটা করেছেন। একই সঙ্গে অনেকেই বিকল্প ব্র্যান্ড বা মাঝারি দামের পণ্যের দিকে ঝুঁকেছেন। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অর্থনৈতিক চাপের সময় সাধারণত মধ্যম দামের পণ্যের বাজারই বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এবারও সেই প্রবণতা দেখা গেছে।

তাদের ভাষ্য, কোরবানির ঈদ ঘিরে সাধারণত রেফ্রিজারেটরের বিক্রি বাড়লেও এবার শুরু থেকেই ডিপ ফ্রিজের প্রতি আলাদা আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেক জায়গায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপও তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের তুলনায় এখন অনেক পরিবার দীর্ঘ সময়ের জন্য মাংস সংরক্ষণে আগ্রহী হওয়ায় আলাদা ডিপ ফ্রিজের ব্যবহার বাড়ছে।

এদিকে রান্নাঘর সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ব্লেন্ডার, প্রেসার কুকারসহ বিভিন্ন কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সের বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। কোরবানির মাংস প্রস্তুত ও সংরক্ষণের প্রয়োজনকে এর প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, শহুরে ব্যস্ত জীবনে রান্নাঘরের কাজ সহজ করতে ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ব্যবহারও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে দীর্ঘ ঈদ ছুটি এবং মানুষের আগেভাগে রাজধানী ছাড়ার কারণে অনেক শোরুমে প্রত্যাশিত ভিড় দেখা যায়নি বলেও জানিয়েছেন বিক্রেতারা। অনেক ক্রেতাই শেষ মুহূর্তের পরিবর্তে আগেভাগে কেনাকাটা সম্পন্ন করেছেন বলেও ধারণা ব্যবসায়ীদের।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মানুষ বিলাসী পণ্যের চেয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে ডিপ ফ্রিজ, রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি ও সংরক্ষণসংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজার এবার তুলনামূলক বেশি সক্রিয় ছিল। তাদের মতে, এটি শুধু ঈদকেন্দ্রিক সাময়িক প্রবণতা নয়, বরং ভোক্তাদের ব্যয় আচরণে পরিবর্তনেরও একটি ইঙ্গিত।

তাদের ধারণা, সামনের সময়ে বাজার পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে ইলেকট্রনিক্স খাতে বিক্রি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রয়োজনভিত্তিক পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

June 2026
SSMTWTF
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
20G