চবিতে আবাসন সংকট: নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা

প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৬ সময়ঃ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

চবি প্রতিনিধি

ytutyueচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে খাতাপত্রে ‘সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়’ হলেও প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে এসেও কাটেনি আবাসিক সংকট। উল্টো দিন দিন এ আবাসিক সংকট বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। আর এ সুযোগে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি ছাত্রাবাস। এ সব ছাত্রাবাস (কটেজ) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় ফায়দা লুটছে এর মালিকারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট বইয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ২৪ হাজার ২৮৩ জন। কিন্তু ১০টি হল ও একটি হোস্টেল মিলিয়ে মোট ৪,২৯৫টি আসন রয়েছে। সে হিসাবে মাত্র ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আবাসন সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রাবাসগুলোতে থাকছে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী (বাকী ছাত্র-ছাত্রী থাকেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরে চট্রগ্রাম সিটিতে)। আর এর বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। শুধু তাই নয়, এ সব ছাত্রাবাসগুলোতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এ সব ছাত্রাবাসে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ছাত্রাবাসগুলোতে আবাসিক হলগুলোর মতো নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যার ফলে প্রায়ই মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে।

ytyutghjছাত্রাবাসগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরের অবস্থা খুবই নাজুক। কোথাও পড়ে আছে ময়লার স্তূপ, নেই পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। রুমের ভেতর নেই পর্যাপ্ত জায়গা। ফলে থাকতে হচ্ছে গাদাগাদি করে। কোনোটিতে দেখা যায় দেয়াল ফাটা। যার ফলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে থাকছে শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রাবাসের বাসিন্দা  সারোয়ার আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না নিশ্চিত করতে না পাড়ায় আমাদের ঝুঁকি নিয়ে থাকতে হচ্ছে এ সব জরাজীর্ণ ছাত্রাবাসগুলোতে। ছাত্রাবাসে নেই সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ফলে পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটছে। এ ছাড়াও নেই কোনো নিরাপত্তা। যার ফলে আমাদের প্রায়ই খোয়া যাচ্ছে মূল্যবান জিনিসপত্র।’

আবাসন সংকট কেবল ছেলেরা নয়, আবাসন সংকটের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরাও। হলে গাদাগাদি করে এক রুমে ৮-৯ জন করে থাকতে হয় তাদের। আবার অনেকে থাকছেন গণরুমগুলোতে। আর যাদের এই সব গণরুমেও জায়গা হয়নি তাদের বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের আশপাশের মেসগুলোতে। এ সব এলাকাতেও নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ytyutgyuihমেসে অবস্থানরত চবি ছাত্রী রিংকী রানী সৌম বলেন, ‘হলে সিটের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে আমাকে থাকতে হচ্ছে মেসে। পোহাতে হচ্ছে নানা রকম সমস্যা। গুনতে হচ্ছে অধিক পরিমাণ ভাড়া। এ ছাড়া নানান ধরনের হয়রানির শিকারও হতে হচ্ছে।’

ছাত্রাবাস মালিক সমিতির সভাপতি হাজী শাহ আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিতরে প্রায় ৮০টি ছাত্রাবাসে প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করে। ছাত্রাবাসগুলো যাতে পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখা হয় সে জন্য ছাত্রাবাস মালিকদের বলা হচ্ছে। এ ছাড়াও ছাত্রাবাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য ছাত্রাবাস মালিকদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।’ এ সময় তিনি ভাড়া বেশি নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সংকটের কথা স্বীকার করে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. কামরুল হুদা বলেন, ‘একটি ছাত্র হল ও একটি ছাত্রী হল খুব শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সংকট কিছুটা হলেও নিরসন হবে বলে আমরা আশা করছি।’

প্রতিক্ষণ/এডি/এফটি

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G