ছাত্ররাজনীতির আকাশে চাঁদের আলো মুন

প্রথম প্রকাশঃ জুলাই ৯, ২০১৬ সময়ঃ ১০:০৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

প্রতিক্ষণ ডেস্ক:

1526414_888904834496712_5956092794533105343_nঅন্ধকার রাত্রিতে চাঁদের আলোর প্রয়োজন হয়। পথ খুঁজে পাওয়ার জন্য, নির্ভরতা খুঁজে পাওয়ার জন্য। তেমনি মানুষের জীবনের সংকটকালীন অন্ধকার মুহূর্তেও মানুষের প্রয়োজন হয় নির্ভরতাস্বরূপ আলোর। আর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছে এবং ঢাবি ক্যাম্পাস ও কবি সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তেমনি এক আলোর নাম খালেদা হোসেন মুন। তরুণ রাজনীতিবিদ খালেদা হোসেন মুন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি।

একদিন কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রত্যয় ভবনের ১০১ নাম্বার কক্ষে বসে কথা বলার সুযোগ হয় মুজিবাদর্শের অকুতোভয় সৈনিক ও জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার মিশনের অক্লান্ত কর্মী, ক্যাম্পাসের অসম্ভব জনপ্রিয় এই তরুণ ছাত্রনেতার সঙ্গে। আর সুযোগ পেয়েই জেনে নেই তাঁর রাজনীতি জীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের কথকথা।

খালেদা হোসেন মুনের জন্ম ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ সালে; মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফের ফরিদপুরে। বাবা বেলায়েত হোসেন এবং মা আছিয়া হোসেন। জনাব বেলায়েত হোসেন ফরিদপুর সুগারমিলে চাকরি করতেন। বাবা-মায়ের দু কন্যার মধ্যে মুন কনিষ্ঠ।

মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবাকে হারান মুন। স্বাভাবিকভাবেই সন্তানের জন্য এ এক অসহনীয় দুঃখের অভিজ্ঞতা। মুনের জন্যও তাই ছিল। কিন্তু খালেদা হোসেন মুন অন্য ধাতুতে গড়া মানুষ। সেই বাল্যকাল থেকেই তিনি কখনো শোক আঁকড়ে ধরে বসে থাকেন না, বরং শোককে পরিণত করেন শক্তিতে। তাই অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েও তিনি কখনো থেমে থাকেননি। জীবনযুদ্ধে, পড়াশোনার ক্ষেত্রে, আর এখন রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে – সব ক্ষেত্রেই তিনি এগিয়ে চলেছেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে।

গণিতে তুখোড় মুন বরাবরের ভালো ছাত্রী। সবসময়ই ভাল রেজাল্টের জন্য প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন। ২০০৬ সালে তিনি ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি এবং ২০০৮ সালে সরকারি সারদাসুন্দরী মহিলা কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। দুটো পরীক্ষাতেই তিনি জিপিএ ফাইভ অর্জন করেন।

এরপর ২০০৯ সালে ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উর্ত্তীর্ণ হয়ে খালেদা হোসেন মুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে ভর্তি হন। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বর্ষ থেকেই।

11138500_851138224940040_2468690461936137851_n

মুন ছাত্ররাজনীতির পবিত্র অঙ্গনে প্রবেশ করেন এক সময়কার শামসুন্নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক নুপূর খানম দুলির হাত ধরে। নুপূর খানমের রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা, ব্যক্তিত্ব, কর্মীদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা প্রভৃতি খালেদা হোসেন মুনকে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করে। আর মুন সবসময়ই ছিলেন নিজ নেত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত, নেত্রীর বিপদ-আপদে সবসময়ই সম্মুখে থেকে লড়াই করেছেন তিনি। তাই ছাত্ররাজনীতির অঙ্গনে তাঁর উপর আলোটা পড়তে খুব বেশি দেরি হয়নি।

গল্প এগিয়ে যেতে থাকে খালেদা হোসেন মুনের সঙ্গে। কথা বলতে বলতে প্রশ্ন করি ছাত্রলীগের নিষ্ঠাবান এই নেত্রীকে, “শৈশব-কৈশোরে এমন কি কিছু ঘটেছিল যাতে হৃদয়ে রাজনীতির প্রতি আগ্রহের বীজ রোপিত হয়েছিল?”

উত্তরে মুন কৈশোরের একটি গল্প বলেন। ২০০৫ সালে তিনি যখন ক্লাস টেনে পড়তেন তখন পরপর দুদিনে তাঁর জীবনে দুটো মনে রাখার মতো ঘটনা ঘটে। তিনি ফরিপুর গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গে দেখা হয়। আর এর পরদিনই বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া গ্রেনেড হামলায় নিহত হন। সেই কথার সূত্র ধরে মুনের গণিত শিক্ষক রেজাউল করিম, যিনি মুনের অংকের প্রতি ভালোবাসার কারণে তাঁকে একটু বিশেষ যত্ন নিয়ে পড়াতেন, তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করেছিলেন তারা সবাই বড় হয়ে কী হতে চায়। জবাবে সবাই মোটামুটি চিকিৎসক, প্রকোশলীর মতো গৎবাধা উত্তরই দিয়েছিল। তাই শিক্ষক রেজাউল করিম জনাব কিবরিয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, কেন কেউ রাজনীতিবিদ হতে চায় না? শাহ এ এম এস কিবরিয়া সবসময় ক্লাসে ফার্স্ট হতেন। এ ধারাবাহিকতায় ভালো ছাত্ররা যদি রাজনীতি অঙ্গনে প্রবেশ করে তবে রাজনীতি অঙ্গনের জন্য তা খুবই ইতিবাচক হবে।

সেদিনের সেই কথাগুলোই যে এই তরুণ রাজনীতিবিদকে রাজনীতির প্রতি উৎসাহিত করেছে ঠিক তা নয়। তবে রাজনীতি অঙ্গনে প্রবেশের পর প্রায়শই শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের বলা সেই কথাগুলো ভাবেন মুন, বিস্মিত হয়ে ভাবেন মানুষের জীবনে কখন কোন কথা সত্যি হয়ে যায়।

10411115_843090972411432_4093449603858214559_n

খালেদা হোসেন মুনের রাজনীতিতে হাতেখঁড়ি হয় শামসুন্নাহার হলে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনতম ছাত্রী হল কবি সুফিয়া কামাল হল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফের ইচ্ছায় তিনি এই হলে চলে আসেন। দেশপ্রেমিক খালেদা হোসেন মুন কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিনি এই সম্মানটি অর্জন করেন।

জানতে চাই এই নেত্রীর কাছে, তাঁর রাজনীতি করার বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা কীভাবে দেখেন। এ প্রশ্নের জবাবে মুন জানান, তাঁর পরিবার সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। কিন্তু পরিবার থেকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে কখনো বাঁধা আসেনি, বরং সবাই বিষয়টি নিয়ে বেশ খুশি। তবে তাঁর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরিবারের সদস্যরা মাঝে মাঝে চিন্তিত হয়ে পড়েন বলেন জানান সম্ভাবনাময় এই রাজনীতিবিদ।

হঠাৎ প্রশ্ন করি খালেদা হোসেন মুনকে, “নারী হিসেবে ছাত্ররাজনীতি করতে কোন বাড়তি স্ট্রাগল কি করতে হয়?” উত্তরে তিনি বলেন, “স্ট্রাগল বলতে যখন আমাদের মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ কিংবা বক্তৃতা হয়, তখন ২০জন পুরুষ নেতার মাঝে আমাকে নিজের জায়গা করে নিতে হয়। মেয়ে বলে কেউ যে আমাকে বাড়তি কোন সুবিধা দেয় তা না।” তিনি আরো যোগ করেন, “দলীয় কর্মসূচিতে কিছু ভিড়ভাট্টা, ধাক্কাধাক্কি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু আমাকে সাধারণত এসবের মুখোমুখি হতে হয় না। এমনটা কখনো হয় না যে কেউ একজন আমাকে ধাক্কা দেবে।”

“কারণ?” জিজ্ঞেস করি।

“কারণ নিজের সেই জায়গাটা আমি আগেই তৈরি করে রেখেছি।”

এমনটাই খালেদা হোসেন মুনের ব্যক্তিত্ব।

12008451_1623842514555365_1537031708_o

তারপরও ছাত্ররাজনীতিতে নারীর অবস্থানের সম্পূর্ণ স্বরূপ জানার উদ্দেশ্য নিয়ে আবার একটা অপ্রিয় প্রশ্ন করি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদককে। “এমন কি কখনো হয়েছে মেয়ে হওয়ার কারণে রাজনীতিতে কেউ আপনাকে কিছুটা ছোট করে দেখার চেষ্টা করেছে?”

এই প্রশ্নে সদা হাস্যোজ্জ্বল খালেদা হোসেন মুনের হাসিমুখ ম্লান হয় না। বরং এই বাউন্সারে বুদ্ধিদীপ্ত শটে হুক করে ছক্কা হাকালেন তিনি। বললেন, “আমি শেখ হাসিনার রাজনীতি করি। শেখ হাসিনাকে কি কেউ কখনো নারী বলে ছোট করার সাহস রাখে? তাহলে আমাকে ছোট করে দেখবে কেন?”

ঐতিহাসিক দল আওয়ামী লীগের ভার্তৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে সম্পূর্ণ জেন্ডার সংবেদনশীল সংগঠন বলে উল্লেখ করেন মুন, যেখানে সবাই ভাই-ভাই, ভাই-বোন নয়।

“কিন্তু ছাত্ররাজনীতিতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অংশগ্রহণ এখনও কম।” প্রশ্ন করি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতিকে। জানতে চাই, “এর পেছনের কারণ কী? আর কীভাবে ছাত্ররাজনীতিতে মেয়েদের অংশগ্রণ বাড়ানো সম্ভব?”

উত্তরে মেয়েদের ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণের হার কম থাকার পেছনে তিনি কারণ হিসেবে মূলত পারিবারিক বাঁধা এবং পরবর্তীতে ছেলেবন্ধুদের কাছ থেকে আসা বাঁধাকে উল্লেখ করেন। তবে মেয়েদের প্রতি তাঁর আহবান এমন জীবনসঙ্গী বেছে না নেওয়ার জন্য, যারা তার স্বপ্নসারথী হতে পারে না।

আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে মেধাবী এই ছাত্রনেতা বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে আছে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারী সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এমন কোন নিয়ম যদি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রেও যুক্ত করা যায় তাহলে তা নিঃসন্দেহে মেয়েদের ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রণের হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

তরুন এই মেধাবী রাজনীতিবিদের মতে ভালো নেতা হওয়ার গুণ হচ্ছে নিজের কর্মীদের সব ক্ষেত্রে প্রাধাণ্য দেওয়া। কর্মীরা যেন কখনো ভূক্তভোগী না হয়। নিজের কর্মীদের অন্যায়ের দায় নেতা তার কাঁধে নেবে। কিন্তু নেতা থাকতে তার কর্মীদের কেউ যাতে একটা আঁচড়ও দিতে না পারে এমনটাই হওয়া উচিত নেতার মনোভাব। তিনি বলেন, একজন ভালো নেতা সবসময়ই কর্মীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।

10955651_791003907620139_8242852382500530967_n

কিন্তু হল সভাপতি তো কেবল দলেরই সভাপতি নয়, তিনি তো সমগ্র হলের ছাত্রীদেরও অভিভাবক। তাহলে হলের সাধারণ ছাত্রীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন? এমন প্রশ্নও মনে আসা স্বাভাবিক। আমার মনেও এসেছিল।

তবে এ প্রশ্নের উত্তর আমি খালেদা হোসেন মুনের কাছে না খুঁজে বরং সাধারন ছাত্রীদের কাছেই খুঁজতে যাই এবং যা দেখি তা সত্যিই বিস্ময়কর।

কবি সুফিয়া কামাল হলে এমন একটি মেয়েও নেই যে খালেদা হোসেন মুনকে ভালোবাসে না। তাঁকে সবাই ভয়ও করে। কিন্তু এই ভয় আসে কেবলই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে। যে কোন সাধারণ মেয়ে যে কোন সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করতে পারে “মুন আপু”র সঙ্গে। এই স্বাভাবিক সম্পর্কটা তিনি সবার সাথে তৈরি করে রেখেছেন। খালেদা হোসেন মুনের মানবিকতা, মহৎ হৃদয় ও সহযোগিতার গল্পগুলো হলজুড়ে কিংবদন্তীর মতো প্রচলিত আছে।

খালেদা হোসেন মুন বলেন, “একজন নেতার জীবনে দুটো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য থাকে। মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা ও দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করা। যখন কোন নেতা নিজের দায়িত্ব পালন করে, মানুষের ভালোবাসা সে পাবেই। আমি আমার দায়িত্ব ঠিকঠাকভাবে পালন করি।”

কর্মী ও সাধারণ ছাত্রীদের মধ্যে অসম্ভব রকম জনপ্রিয় এই ছাত্রনেতা নিজের রাজনীতি জীবনের মূলমন্ত্র হিসেবে ছাত্রলীগের মূলমন্ত্রকেই গ্রহণ করেছেন। আর তা হলো – “শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি”। যতদিন বেঁচে থাকবেন, তিনি শিক্ষা গ্রহণ করে যেতে চান আর শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগ ও নিজেকে সামনে অর্থ্যাৎ প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।

“রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও জনগণকে কি দিয়ে যেতে চান আপনি?” এমন প্রশ্নের জবাবে মুন স্মরণ করেন নিজের আদর্শ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের শেষ ভাষণের কথা, যেখানে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন দেশের সব শিক্ষিত মানুষরা দেশের কৃষক-শ্রমিকদের টাকায় পড়ালেখা করে দেশকে কি দিচ্ছেন?

এই আদর্শিক জায়গা থেকেই মুন দেশের মানুষকে অনেক কিছু দেওয়ার ইচ্ছা হৃদয়ে লালন করেন। এমনকি তা যদি রাজনীতির মাধ্যমে নাও হয়, তবে অর্থনৈতিক বা অন্য কোন ভাবে। পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞানের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি দেশের সকল মানুষের যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন বলে জানান।

সবসময় নিজের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতেই পছন্দ করেন খালেদা হোসেন মুন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে কখনোই বাড়ি থেকে টাকা আনেননি, বিভিন্ন মেধাবৃত্তি ও ইন্সটিটিউটের বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করার মাধ্যমেই নিজের খরচটা চালিয়ে নিয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিজীবনের এই দায়িত্ববোধ রাজনীতিজীবনেও দেখা যায়। মুনের বিবেচনাবোধ ও রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজির প্রশংসা তাঁর দলের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থী সবাই করে থাকেন। কোথায় শ্রীকৃষ্ণের বাঁশরি আর কোথায় বিষ্ণুদেবের সুদর্শন চক্র প্রয়োগ করতে হবে সেটা মুন ভালো করেই জানেন।

11046797_924382124282316_2890187683595313313_nখালেদা হোসেন মুন যেন বর্ন লিডার। তাই হয়তো অন্যদের চেয়ে আলাদা এই মেয়েটিকে ক্লাস এইটে পড়ার সময়ই তাঁর বন্ধুরা নেত্রী বলে সম্বোধন করতো।

ছাত্রলীগের এই অসামান্য সৈনিক মানুষের মিথ্যা কথা বলা পছন্দ করেন না, পছন্দ করেন না কেউ সুপারিশ করুক সেটাও। ২০১৪ সালে কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে ২০ জন শিবির কর্মীকে বহিস্কৃত করায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। সে সময় আওয়ামীলীগের উপর মহল থেকেও শিবিরের দু একজন কর্মীর জন্য কিছু সুপারিশ এসেছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত মুজিবাদর্শের সৈনিককে এসব কিছুই বিচলিত করতে পারেনি।

আরেকটা বিষয় এই তরুণ ছাত্রনেতা খুব অপছন্দ করেন। কেউ যদি নিজ পরিশ্রমে সাফল্য অর্জন করে তবে তাকে অনেকেই ঈর্ষা করেন, যেটা তাঁর খুব অপছন্দ। তাঁর মতে যোগ্য ব্যক্তির সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হওয়ার বদলে তার সদগুণগুলো নিজের মধ্যে আত্নস্থ করাই প্রকৃত মানুষের কাজ।

সবার সাথে গল্প করতে, সবাইকে সাথে নিয়ে পথ চলতে পছন্দ করা মুনের নিজের মেয়েদের জন্য আত্নত্যাগের গল্প তাঁর যে কোন কর্মীর সাথে কথা বললেই জানা যায়। কী পরিমাণ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তিনি পেয়ে থাকেন কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। “মুন আপু”র যে কোন আদেশ পালনে তাঁর কর্মীরা সদা প্রস্তুত। মুনের প্রতি এমনি তাঁর কর্মীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

খালেদা হোসেন মুন তাঁর কর্মীদের ভালোবাসেন, আবার শাসনও করেন। কিন্তু যা করেন তা কেবল নিজের মেয়েদের ভালোর জন্যই। তাঁর কর্মীরা বলেন, খালেদা হোসেন মুনের মতো মানুষকে নিজেদের অভিভাবক হিসেবে পাওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের একটি।

খালেদা হোসেন মুন রাজপথের নেত্রী। প্রয়োজনে রক্ত দেওয়ার মানসিকতা রাখেন। তাই ফেসবুকীয় রাজনীতি তাঁর ঘোর অপছন্দ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সেসময় দেশের কোন না কোন অঞ্চল হতে পেট্রোল বোমায় মানুষের নিহত বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যেত। কিন্তু এক রকম বিস্ময়করভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের রাজনীতির পীঠস্থান থেকে কোন দূর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। এর কারণ ছিল ছাত্রলীগ। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেই দিনগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হল শাখাগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাহায্য কামনা করেছিলেন। দু বছর আগের সেই উত্তাল সময়ে যে ছাত্রনেতারা মাঠে থেকে ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে ক্লাস করা, পরীক্ষা দেওয়া নিশ্চিত করেছিলেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন দুঃসাহসী দেশপ্রেমিক খালেদা হোসেন মুন।

তরুণ এই নেত্রী খুব দ্রুতই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের গন্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু তা নিয়ে গর্বের লেশমাত্র নেই মুনের মধ্যে। নিজেকে খুবই সাধারণ বলে মনে করেন তিনি। অহংকার পতনের মূল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার বয়স এখনো অনেক কম। এখনো এমন বড় কিছু হতে পারেনি। আমি অবশ্যই এমন দাম্ভিকতা নিয়ে হাঁটবো না যাতে আমার অহংকারের ভারে মাটি কাঁপে।”

সদা কর্মব্যস্ত এই তুখোড় ছাত্রনেতা খুব বেশি অবসর যে পান তা নয়। কিন্তু অবসর সময়ে তিনি ভালোবাসেন মুভি দেখতে। এই চমৎকার মানুষটির কাছ থেকে জানতে পারি, মুভির ব্যাপারে তিনি সর্বভূক। বাংলা, ইংরেজি, ভারতীয় থেকে শুরু করে পার্সিয়ান কিংবা টার্কিশ – ভালো মুভি হলে কোন কিছুতেই তাঁর অরুচি নেই।

এছাড়া আরো ভালোবাসেন তিনি রান্না করতে। মন খারাপ হলেই মুন রান্না করেন এবং তাঁর কর্মী, জুনিয়র সবাইকে একসাথে নিয়ে খান। এমনকি ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে নতুন নতুন রান্না শিখতেও খুব পছন্দ করেন তিনি।

খালেদা হোসেন মুন বিশ্বাস করেন, অন্যের ক্ষতি করে কেউ জীবনে কখনো ভালো থাকতে পারে না। কিছু কিছু মানুষ নেতা হয়ে গেলে অহংকারী হয়ে পড়েন, এই বিষয়টা মুন পছন্দ করেন না। কারণ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এটা ছিল না। জাতির পিতা দেশের আপামর জনসাধারণের মঙ্গল চাইতেন আর মুনের আদর্শও ঠিক এটাই।

অন্য অনেকের মতো খালেদা হোসেন মুন নেতাবান্ধব কর্মী নন, কর্মীবান্ধব নেতা। কথায় নয়, কাজেই তাঁর পরিচয়।

13439231_1038694176184443_8339503368205614296_n

মুজিবাদর্শের এই বীর সেনানী বিশ্বাস করেন, মানুষ যতটুকু পরিশ্রম করবে, আল্লাহ মানুষকে সেই পরিশ্রমের ফল অবশ্যই দেবেন।

রাজনীতিবিদ মুন সম্পর্কে অনেকটা জানার পর ব্যক্তি মুন সম্পর্কে জানার আগ্রহটা আবার জেগে ওঠে। তাই প্রশ্ন করি, “ব্যক্তি খালেদা হোসেন মুনকে তাঁর কাছের মানুষেরা কীভাবে দেখেন?”

এর উত্তরে ফরিদপুরের এই কৃতী সন্তান জানান, যারা তাঁর চেয়ে বয়সে বড় তারা তাঁকে একটু রাগী বলেই মনে করেন। কিন্তু রাগী তিনি কেবল প্রয়োজনের সময়। এমনিতে ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্ট ব্যক্তিগতই রেখে সবসময় হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করেন তিনি, পছন্দ করেন সবার মধ্যে একজন হয়ে থাকতে।

ব্যক্তিগত জীবন কিংবা রাজনীতি জীবন কোন কিছু নিয়েই কোন অপূর্ণতা নেই তাঁর। তিনি মনে করেন, জীবনে যা চেয়েছেন আল্লাহ তাঁকে সব কিছুই দিয়েছেন।

আজীবন রাজনীতি নিয়েই থাকার ইচ্ছা মেধাবী এই ছাত্রনেতার। ছাত্ররাজনীতির আঙ্গিনা পেরিয়ে একসময় জাতীয় রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন মুন। তবে এটাও জানেন, সে জন্য সাধনা ও পরিশ্রমের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

সব শেষে সবচেয়ে মোক্ষম প্রশ্নটি করি, “প্রায় ৮ বছরের রাজনীতি জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী?”

“ভালোবাসা।”

এই প্রশ্নের উত্তরটাও মুন মুনসুলভই দিলেন।

তিনি বলেন, “কবি সুফিয়া কামাল হল, বিজ্ঞান অনুষদের ছেলেদের ৩টি হল, ক্যাম্পাসের সবার এবং আমার বিভাগের সকলের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসাই আমার এই ৮ বছরের রাজনীতি জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, সবচেয়ে বড় অর্জন।”

রাত গভীর হয়ে আসে। আমিও সামনে অসীম সম্ভাবনা নিয়ে চলা এই তরুণ ছাত্রনেতার সঙ্গে আলাপের সমাপ্তি টানি। সমাপ্তি টানার আগে হৃদয় থেকে সাফল্য কামনা করি অসম্ভব ভালো এই মানুষটির। কারণ খালেদা হোসেন মুনের মতো মানুষের সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গন্ডিতে আটকে থাকে না। তা দেশ ও দশের মঙ্গলের ইতিহাস রচনা করে।

 

 

============

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G