বন্ধ হওয়ার পথে দেশের ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

প্রকাশঃ মে ১৭, ২০২৬ সময়ঃ ১০:১২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:১২ অপরাহ্ণ

দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাস থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

অবসায়নের জন্য বিবেচনায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও প্রতিষ্ঠানগুলো হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবসায়নের আওতায় আনা হবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। তার সঙ্গে আরও দুজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। পরে ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এরপরই অবসায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।

ব্যাংক রেজুলেশন আইনে সংকটে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, একীভূতকরণ কিংবা বন্ধ করার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধের বিষয়টিও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের তালিকায় আনা হয়। সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিজিংকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এছাড়া ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ খেলাপি ঋণ রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আলোচিত ব্যবসায়ী পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

June 2026
SSMTWTF
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
20G