বাংলাদেশের সেরা ৮ তারকা জুটি

প্রথম প্রকাশঃ আগস্ট ১৮, ২০১৫ সময়ঃ ৭:৪৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ

ফারজানা ওয়াহিদ

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে জুটি বেধেছেন অনেক তারকারাই। তাদের মধ্য বেশ কয়েকটি জুটিকে দাম্পত্য জীবনেও জুটি বাধতে দেখা গেছে।  বাংলা চলচ্চিত্র যাঁদের কাছে ঋণী, এখন নিভৃত জীবন নিয়ে ভাল আছেন তারা। আজ আপনাদের জন্য থাকছে বাংলাদেশের সেরা তারকা ৮ জুটি।

 

নাঈম-শাবনাজঃ

তারকা
তখন ১৯৯০। প্রয়াত বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশাম তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘চাঁদনী’র জন্য দুজন নতুন মুখ বাছাই করেন। সেই দুজনই হলো নবাব পরিবারের ছেলে নাঈম আর বিক্রমপুরের মেয়ে শাবনাজ। প্রথম ছবিতেই জুটি হিসেবে ব্যাপক সাড়া ফেলেন নাঈম-শাবনাজ।  চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়েই ঘনিষ্ঠ হন নাঈম-শাবনাজ। শুরু থেকেই তাদের প্রেম কাহিনী মিডিয়ায় আসে।  অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনা ভেঙে ১৯৯৬ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এ জুটি।  চলচ্চিত্র তারকাদের জীবনে স্বাভাবিক যে কালিমার রেশ থাকে, তার কোন ছিটেফোঁটাও নেই তাদের ব্যক্তি জীবনে। বিয়ের পর দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে আসা এ জুটির সময় কাটে দু’ মেয়ে, সংসার আর ব্যবসা নিয়ে।

তিশা- মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীঃতারকা

ঢালিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় দম্পতির নাম তিশা-ফারুকী। যাদের একজন হলেন নামকরা অভিনেত্রী এবং অপরজন বিখ্যাত পরিচালক। ঢালিউডের এই জুটি অবশ্য প্রেম করেই বিয়ের পিড়িতে বসেছিলেন। তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমটা মূলত শুরু হয় তিশার একটি বিজ্ঞাপন দেখার পর থেকে। এরপর ফারুকী পরিচালিত ‘পারাপার’ টেলিফিল্মে কাজ করতে গিয়ে চেনাজানা শুরু দু’জনার। ‘সিক্সটি নাইন’ নাটক করতে গিয়ে ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক পরিণতি পায় বিয়েতে। ২০১৩ সালের ১৬ জুলাই ফারুকী ও তিশা ঘটা করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিপাশা-তৌকির আহমেদঃ

তারকা

একসময়ের জনপ্রিয় টেলিভিশন জুটি তৌকির আহমেদ এবং বিপাশা হায়াত। তৌকির আহমেদ মুলত নাটক নির্মাণ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এবং বিপাশা হায়াত ব্যস্ত নাটক লেখা ও ছবি আকাঁ নিয়া। জনপ্রিয় নাট্যদম্পতি জুটি তৌকির আহমেদ ও বিপাশা হায়াত নাট্যজগতে দুজনই অসাধারণ, ব্যক্তিজীবনে তারা সবার জন্য রোলমডেল। একসময়ের টিভি নাটকের তুমুল জনপ্রিয় জুটি তৌকির-বিপাশা। এখন তারা বাস্তবেও জুটি ও সুখী দম্পতি। তৌকির আহমেদ বর্তমানে অভিনয় এবং পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ত। আর বিপাশা অভিনয় না করলেও নাটকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নিয়মিত নাটক লিখছেন। সমীকরণটা ছিল এ রকম- শমী-তৌকির ও জাহিদ-বিপাশা। পর্দা ও পর্দার বাইরে এ দুই জুটি নিয়েই চর্চা হতো বেশি। কিন্তু হঠাৎ করেই ঘোষণা এলো, তৌকির-বিপাশা বিয়ে করতে যাচ্ছেন। কারণ হিসেবে জানা গেল ভালোবাসার কথা। এখনো সেই ভালোবাসার ঘোরেই আছেন দুজন।

আলী যাকের-সারা যাকেরঃ

তারকা

মঞ্চের আলোয় আলোকিত দুজন। বন্ধুত্ব হতে সময় লাগেনি। চুপিসারে একে অপরকে গিফট করতেন নিজের প্রিয় জিনিসটা। ইংরেজিতে বেশ কৌশলী চিঠি লিখতেন আলী যাকের। ঝরঝরা সুন্দর হাতের লেখায় মুগ্ধ হতেন সারা। জবাবটাও দিতেন মজা করে। মনের অজান্তে দিনে দিনে বন্ধুত্বের সুতায় টান লাগে, বাড়তি কিছু চাচ্ছিলেন দুজনই। আজকালকার ছেলেমেয়েদের মতো তখন প্রেম করার অত সুযোগ আর ছিল কই! অগত্যা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান আলী যাকের। ব্যস, ‘অতঃপর তাঁহারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলেন।

জাহিদ হাসান-মৌঃ

তারকা

জাহিদ হাসান তখন টেলিভিশনের এক নম্বর অভিনেতা। আর মৌ দেশসেরা মডেল। এ দুইয়ের সমন্বয়ে হানিফ সংকেত ‘ইত্যাদি’তে হাজির করেন দুজনকে। ‘আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে…’ গানে দুজন জমিয়ে পারফর্ম করলেন। আর শুটিংয়ের সময় দুজনের মনেই নাকি তখন ‘ইশক’ নামক ব্যাধি সংক্রমিত হয়েছিল। পত্রিকার এমন সংবাদে দুজনই ‘নাহ্’ বলে এড়িয়ে গেলেন। পরে অবশ্য স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। জাহিদ হাসিমুখে তখন বললেন, ‘বিশ্বাস করেন, যখন এ নিউজগুলো ছাপা হয়, তখন আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কই ছিল না। বরং এসব নিউজ আসার পর আমি ভেবেছি, আমাদের একটা রিলেশন হলে কেমন হয়! কারণ তখন সারাক্ষণ এ ব্যাপারটা মাথায় থাকত।’ যা হোক, সম্পর্কটা হয়েই গেল। কিন্তু মৌর মা কিছুতেই জাহিদকে নিজের জামাই হিসেবে মানতে পারেননি। অনেক যুদ্ধ করে মৌকে ঘরে তোলেন জাহিদ। আর এখন তারা দাম্পত্য জীবনেও জুটিবদ্ধ হয়ে আছেন।

 

তাহসান মিথিলাঃ

তারকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াকালে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেন মেধাবী ছাত্র তাহসান। সে সময় মিথিলার সঙ্গে পরিচয়। সেই গল্প মিথিলার কাছেই শোনা যাক, ‘আমার এক বন্ধু তার ছোট ভাইয়ের জন্য তাহসানের অটোগ্রাফ নিতে যাচ্ছে। মূলত তাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্যই তাহসানের বাড়িতে হাজির হওয়া।’ ওই সময় মিথিলাও তাহসানের কিছু গান শুনেছেন, কিন্তু ভক্ত হননি। তাই প্রথম পরিচয়েই তাহসানের ব্যান্ড ব্ল্যাককে নিয়ে অনেক সমালোচনা করেন মিথিলা। আর বুঝে ওঠার আগেই তাহসানের মনের ঘরে বাঁধা পড়লেন। ভালোবাসা দিবস এলেই বাড়ির দরজায় ফুল রেখে এসে মিথিলাকে ফোন করতেন তাহসান। তখন তারা দুজনই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সে গল্প এক দশক আগের। বর্তমান সময়ে অভিনয়-সঙ্গীতে জনপ্রিয় তারকা ও সুখী দম্পতি হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত তাহসান-মিথিলা জুটি।

বর্ষা অনন্ত জলিলঃ

তারকা

বর্তমান চলচ্চিত্র অঙ্গনের আলোচিত নাম এম এ অনন্ত জলিল। ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও হঠাৎ করেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রবেশ করেন তিনি। আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে এই তারকা চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রবেশের সাথে সাথে যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত রেখেছেন। তিনি একমাত্র তারকা যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে অন্ধকার সময় থেকে আলোর ভুবনে ফিরিয়ে এনেছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান সময়ের বহুত আলোচিত দুই মুখ অনন্ত ও
বর্ষা। বাস্তব জীবনের স্বামী-স্ত্রী। এ জুটি রূপালী পর্দায় নায়ক নায়িকা সেজে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একাধিক হিট ছবি।

মৌসুমি ওমর সানিঃ

তারকা

সুখময় দাম্পত্য জীবনের দেড় যুগ পূর্ণ করেছেন দেশীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি ওমর সানি ও মৌসুমী। গত মাসে তাদের বিবাহিত জীবনের ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। তৎকালীন হোটেল শেরাটনে (বর্তমান রূপসী বাংলা) অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।পরিচয়টা হয়েছিল ‘দোলা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে। সেই সময়ে তাদের মধ্যে ভালো লাগাটা তৈরি হয়। এরপরই তাদের সুখের ট্রেনের যাত্রা যা আজও অমলিন।  দীর্ঘ জীবনে তারা দুজনই চলচ্চিত্রশিল্পকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বলেছেন, যত দিন বাঁচবেন, তত দিন শিল্পের সেবা করে যাবেন।

প্রতিক্ষন/এডমি/এফজে

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G