বিশ্ব মিডিয়ায় টাইগারদের জয়

প্রথম প্রকাশঃ মার্চ ১০, ২০১৫ সময়ঃ ৩:১৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক, প্রতিক্ষণ ডটকম:

tiger der

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলছে বাংলাদেশ। আফগানদের ১০৫ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি, শ্রীলংকার কাছে হারলেও স্কটল্যান্ডের ৩১৮ রান তাড়া করে জয়ের পর ইংল্যান্ডকেও হারিয়ে দিল টিম বাংলাদেশ।

সুদূর অস্ট্রেলিয়ায় বসে বিশ্বকে বাঘের গর্জন শোনালেন মাশরাফি-মুশফিক-সাকিব-মাহমুদউল্লাহ-রুবেলরা; ক্রিকেটের সূতিকাগার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন একাদশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে।

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব মিডিয়ার সংবাদে বাংলাদেশ মানেই প্রায়ই নেতিবাচক। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় হচ্ছে নানা ধরণের আলোচনা-সমালোচনা।

আর ক্রিকেট নিয়ে চাঁছাছোলা মন্তব্য আর বিশ্লেষণে প্রতিপক্ষকে তো বটেই, নিজের দলকেও ধুয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বরাবরই এক ধাপ এগিয়ে। এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার চাবুক থেকে রেহাই পায়নি বাংলাদেশও।

তবে অ্যাডিলেডে ইংলিশদের বধের মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের সক্ষমতার কথা জানান দিলো লাল সবুজের বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

আর তাই মাশরাফি বিন মুর্তজার দল নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইংলিশ গণমাধ্যমও।

ইংল্যান্ডের অধিকাংশ নামজাদা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ বাংলাদেশের কাছে ইংলিশদের পরাজয়ের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফ তাদের প্রতিবেদনে পরাজয়ের নানা ব্যবচ্ছেদ করেছে।

একটি খবরের শিরোনাম, ‘বাংলাদেশের কাছে লজ্জাজনক পরাজয়ে ইংল্যান্ডের বিদায়।’

আরেক প্রভাবশালী পত্রিকা ‘গার্ডিয়ান শিরোনাম করে, ‘বাংলাদেশ-ধাক্কায় গ্রুপ পর্বেই ইংল্যান্ডের বিদায়।’ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, ‘বাংলাদেশের কাছে লজ্জার হারে ইংল্যান্ডের দ্রুত বিদায় নিশ্চিত।’

বিবিসির ইংরেজি ভার্সনে শিরোনামে লেখা হয়েছে,‘হেরে বিশ্বকাপ থেকে ইংল্যান্ডের বিদায়’। বিবিসির বাংলা ভার্সনের শিরোনাম ছিল ‘ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ’। অপর এক সংবাদের শিরোনাম করা হয়েছে ‘অ্যাডিলেডে বাঘের গর্জন’।

ব্রিটিশ টেবলয়েড ডেইলি মেইলের শিরোনাম ছিল ‘অ্যাডিলেড ওভালে বাংলাদেশের কাছে ১৫ রানে হেরে ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে ইংল্যান্ডের লজ্জার বিদায়’। সংবাদটিতে শোভা পায় রুবেল-তাসকিনদের বীরত্বের ছবি।

ট্যাবলয়েডটি লিখেছে, ‘ক্রিকেটে হাসির খোড়াক জোগানোর মতো অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে অবশেষে মুক্তি: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে বিদায় নিয়ে ইংল্যান্ডের চূড়ান্ত লজ্জা।’

সংবাদে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা একটি ভিডিও জুড়ে দিয়েছে ডেইলি মেইল। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে জনতার উৎসব।

একই ধরনের শিরোনাম করা হয়েছে ডেইলি মিররে।

কেবল ইংলিশ সংবাদমাধ্যমই নয়, বাংলাদেশের প্রশংসায় অস্ট্রেলিয়ার পত্রিকাগুলোও।

দ্য অস্ট্রেলিয়ান লিখেছে, ‘বিশ্বকাপ থেকে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়েছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের হোম পেজে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহদের উল্লাসের ছবি। যেখানে শিরোনাম করা হয় ‘ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করল বাংলাদেশ’।

দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের শিরোনাম করা হয়েছে ‘বিশ্বকাপ ফাইনাল মিস করবে ইংল্যান্ড’। সংবাদটিতে ইংল্যান্ড-বাংলাদেশের ম্যাচের সমীকরণ ও তার ফল উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নকআউটপর্বে খেলার ইতিহাস গড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের প্রভাবশালীসহ প্রায় সব মিডয়ায় বাংলাদেশের ইংল্যান্ড বধের সংবাদ বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের শিরোনাম দেয় ‘বাংলাদেশ ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দিল।’

প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) শিরোনাম ছিল ‘ইংল্যান্ডকে বিদায় করেছে বাংলাদেশ, কোয়ার্টারে প্রতিপক্ষ হতে পারে ভারতের’।

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ধুকতে থাকা ইংল্যান্ড।’

এনডিটিভির শিরোনাম করা হয় ‘ইংল্যান্ডকে বিদায় করেছে বাংলাদেশ, সম্ভবত কোয়ার্টারে মুখোমুখি হবে ভারতের’।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারের শিরোনাম ছিল ‘ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টারে বাংলাদেশ’।

পাকিস্তানের নামকরা প্রায় সব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের জয়ের খবরটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

পাকিস্তানের ডন পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে শিরোনাম করা হয় ‘মাহমুদউল্লাহ-রুবেল মিলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করেছে ইংল্যান্ডকে।’

প্রতিক্ষণ /এডি/আরিফ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G