মিডিয়াতে নেই যে সাবান সুন্দরীরা

প্রথম প্রকাশঃ আগস্ট ২০, ২০১৫ সময়ঃ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ

ফারজানা ওয়াহিদ

fetureমিডিয়া জগৎ মানে নানা রঙের স্বপ্নের হাতছানি। নিজেকে তুলে ধরার, নিজের ভেতরের সৃষ্টিশীলতা সবার সামনে উন্মোচন করার জন্য মিডিয়া যেন এক পরীক্ষিত মঞ্চ। সেই মঞ্চে নিজেকে দেখতে ভালোবাসেন অনেকেই। আজ যারা লাক্স সুন্দরী তাদের মধ্য অনেকেই নিয়মিত মিডিয়ার সাথে জড়িত আবার অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায় না মিডিয়াতে। তাদের এই খুঁজে না পাওয়ার জন্যই হয়তো তাদেরকে অনেকে ব্যাঙ্গ করে ডাকেন ‘সাবান সুন্দরী।’

শানারৈ দেবী শানুmila1 (2)

এক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মণিপুরী মেয়ে শানু। লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার এর প্রথম অর্থাৎ ২০০৫ এর সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হয়েছিলেন শানারৈ দেবী শানু। সিলেট শানুর জন্মশহর। ২০০৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর পরিবারের অমতে ৫ বছরের পুরনো প্রেমিক শান্তুনু বিশ্বাসকে বিয়ে করেন শানু। শানুর স্বামী একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পদে কর্মরত রয়েছেন। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সের একটি ছেলে রয়েছে।

তবে এই বিয়ের ফলে শানুর সাথে তার পরিবারের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। মনিপুরী সমাজে কোনো বাঙালিকে বিয়ে করা সমর্থন করা হয়না। নিজেদের মধ্যেই বিয়ে হতে হয়। এতে মণিপুরী ধর্মের চরম অসম্মান করা হয়েছে! তিনি আর ফিরে যেতে পারবেন না এলাকায়।

শানু অভিনীত  নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্তাকাহিনি, বুকে তার চন্দনের ঘ্রাণ, ইলেকশন ইলেকশন, সংসার সুখের হয় বেদনার গুণে। বর্তমানে তিনি মিডিয়া থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

ইশরাত জাহান চৈতী

choiti২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার সেরার মুকুটটি অর্জন করেন ইশরাত জাহান চৈতী। চৈতীর ছিল গানবাজনার শখ। গাইতেন নজরুলসংগীত। তারকা হওয়ার পর একসময়ের গায়িকা চৈতীর দিনকালও বদলে গেছে। তবে গাজীপুরের পৈতৃক নিবাস ছেড়ে অন্যদের মতো স্থায়ীভাবে ঢাকাবাসী হননি তিনি। শান্ত-মারিয়ম ইউনিভার্সিটিতে ফ্যাশন ডিজাইন পড়ুয়া চৈতী এর মধ্যে একটি মিক্সড অ্যালবামের দুটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।

তবে মিডিয়ায় তাকে খুব একটা বেশি দেখা যায় না। চৈতী অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে শাহজাহান চৌধুরী পরিচালিত “মধুমতি” এবং নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জীবন সংসার’, ‘প্রতিপক্ষ’ ও ‘খ-ও’। ২০১৩ সালের মে মাসে বিয়ে করেছেন চৈতী। স্বামী সাইফ পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ৪ বছর আগে থেকেই তাদের দুজনের মধ্যে মন-দেয়া নেয়ার ব্যাপারটি ঘটেছিল। বর্তমানে তিনিও মিডিয়াতে কাজ করছেন না।

সামিয়া সাঈদsamiya1

২০১২ সালে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম হন কুমিল্লার সামিয়া সাঈদ।  আলভী আহমেদের ‘ইনক্রিমেন্ট’ নামক নাটকের মাধ্যমে মিডিয়ায় পথচলা শুরু হয় সামিয়ার। চালচলন আর কথাবার্তায় সামিয়া বেশ দুরন্ত। রয়েছে  ক্যারম এবং বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা। সামিয়ার বাবা জাহাজে কাজ করতেন।

সেই সুবাদে বহু দেশের সুমদ্র সীমা ছোয়ার সুযোগ হয়েছে সামিয়ার। সামিয়া বর্তমানে নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সামিয়া অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে – ‘কেউ কেউ মৃত জোনাকি’, জাবির রাসেলের ‘নিউটনের তৃতীয়সূত্র’, ‘মলম পার্টি’ ‘দশ মিলিয়ন ডলার’ প্রভৃতি। তাকে এখন আর কোন নাটকে দেখা যায় না।

 অপি করিম api  karim 1

বাংলা নাট্যাঙ্গনের পরিচিত ‍মুখ অপি করিম। লাক্স ফটোজেনিক সুন্দরী খ্যাত অপি করিম এর পুরো নাম তুহিন আরা অপি করিম। ধারাবাহিক ও খন্ড নাটকের পাশাপাশি “ব্যাচেলর” ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে অপি করিম ব্যাপক দর্শক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রেও অপি করিম মডেল হিসেবে অভিনয় করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের ১লা মে জন্মগ্রহণ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) এর শিক্ষকতাও করেন।

গুণী এই অভিনেত্রীর পছন্দের তালিকায় রয়েছে ঘুরে বেড়ানো। বাইরের খাবারগুলোর মধ্যে তার প্রিয় খাবার হলো চটপটি। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নাচও করেন।

অপি করিম সর্বপ্রথম শিশু শিল্পী হিসেবে বিখ্যাত ধারাবাহিক “সকাল সন্ধ্যায়” অভিনয় করেন। এই ধারাবাহিকে তার চরিত্রের নাম ছিল পারুল। এরপর তিনি অনেকদিন অভিনয়ের বাইরে ছিলেন। এরপর তিনি “আনন্দধারা” ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে মডেল হিসেবে ফিরে আসেন। এই আনন্দধারা ম্যাগাজিনের মাধ্যমেই ১৯৯৯ সালে অপি করিম মিস ফটোজেনিক পুরষ্কারে ভূষিত হন। বর্তমানে তাকে নতুন কোন নাটকে দেখা যাচ্ছে না।

মিলা হোসেনmila1 (1)

 ২০০০ সালের লাক্স আনন্দধারা মিস ফটোসুন্দরী মিলা হোসেন ২০০৩ সাল থেকে স্থায়ীভাবে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। সম্প্রতি তিনি দিন কয়েকের জন্য দেশে ফিরেছেন। এরই ফাঁকে কয়েকটি নাটক ও বিজ্ঞাপনে কাজ করছেন। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর তিনি আবার নিউইয়র্কে ফিরে যাবেন। ২০০৩ সালের পর মিডিয়ার কোনো কাজের সঙ্গেই তার সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু এবার ঢাকায় ফিরে মিলা আবারো নাটক এবং বিজ্ঞাপনে কাজ শুরু করেছেন। আর সে কারণেই নতুন করে আবারো আলোচনায় এসেছেন তিনি। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার মেয়ে মিলা হোসেনের দাদা শাকিল উদ্দিন মজুমদার ঢাকার আজিমপুরের চেয়ারম্যান ছিলেন। যে কারণে আজিমপুরের চেয়ারম্যান বাড়ির কন্যা হিসেবেই তিনি পরিচিতি অর্জন করেছেন। যদিও এখন তার স্থায়ী আবাসস্থল নিউইয়র্ক। মিলা নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ বলে মনে করেন। ঢাকা শহরটা তার যেমন পছন্দ; ঠিক তেমনি এখানকার মানুষের প্রতিও তার অফুরান ভালোবাসা রয়েছে। আজিমপুর গার্লস স্কুল, উইমেন্স ফেডারেশন কলেজ ও ইডেন কলেজে মিলার শিক্ষাজীবন কেটেছে। ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স শেষ করার পর পরই তার বিয়ে হয়ে যায়। স্বামীকে নিয়ে পাড়ি জমান সুদূর নিউইয়র্কে।

কুসুম শিকদারkusum1

 ২০০২ সালের লাক্স আনন্দধারা মিস ফটোসুন্দরী হলেন কুসুম শিকদার। লাক্স আনন্দধারা মিস ফটোসুন্দরী হওয়া পরে তাকে অনেকবার মিডিয়াতে দেখা গেছে। কিন্তু আজকাল তাকে আর মিডিয়া জগতে পাওয়া যায় না। তবে শোনা যাচ্ছে তিনি নাকি আবারও ভালো ভালো ছবি খুজচ্ছেন। আশা করা যাচ্ছে তাকে আবারও আমরা মিডিয়া জগতে পাব।

কুসুম শিকদার তার সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে অনেক আগেই নিজের একটি গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি অভিনয়ের অনেকটা বাইরেই আছেন বলা যায়। চলচ্চিত্র তো নয়ই, কয়েক মাসের মধ্যে তিনি উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন নাটকেও অভিনয় করেননি।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর; রোজ রবিবার কুসুম সিকদার বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে কর্মরত লায়েস এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

এই সকল সাবান সুন্দরী কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আগতদের মধ্যে ২/১ জন মিডিয়াতে ভাল স্থান করে নিতে পারলেও শেষ পর্যন্ত তাদের কেউই গণমাধ্যমে স্থায়ী হননি, হতে চাননি। এদের অনেকেই সাবান সুন্দরী হবার পরও শেষ পর্যন্ত মিডিয়াতে নিজেদের প্রকাশ করতে পারেন নি। আবার অনেক মডেলকেই দেখা যায়, অল্প দিনে ঢাকঢোল পিটিয়ে নায়িকা সাইনবোর্ড লাগিয়ে জড়িয়ে যাচ্ছেন নানা রকম ভুল পথে।

অথচ সাবান সুন্দরী প্রতিযোগিতার শুরুরর দিকে এই সুন্দরীদের প্রভাবিত করা হয়েছে যে, এটা একটা স্বপ্নময় জগত। এ জগতে না আসলে তোমার রূপের কোনো মূল্যই নেই। তারা সেই প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে একসময় স্বপ্নময় জগতে পা রাখলেও তাদের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। হারিয়ে গেছে পর্দার আড়ালে আবারও কেউ কেউ লোভের বশবর্তী হয়ে স্ট্যাটাস ধরে রাখতে পা বাড়িয়েছে বিপথে…অন্ধকারে……!!

প্রতিক্ষন/এডমি/এফজে

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G