যে কারনে এবার বর্ষায় বৃষ্টিপাত কম হতে পারে

প্রকাশঃ মে ২০, ২০২৬ সময়ঃ ১১:২২ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৩২ অপরাহ্ণ

প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এ পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে। এর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ু দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে বর্ষার আগমন বিলম্বিত হওয়া, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং অস্বস্তিকর গরম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মে-জুলাই মৌসুমে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর জলবায়ু মডেলেও বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

ইউরোপীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থার বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রশান্ত মহাসাগরের নিনো অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে মাঝারি থেকে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এল নিনো কী

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি জলবায়ুগত প্রক্রিয়া। সাধারণত কয়েক বছর পরপর এটি দেখা দেয়। এর বিপরীত পরিস্থিতিকে বলা হয় লা নিনা, যখন ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়।

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে এই দুই প্রক্রিয়া। এল নিনোর সময় কোথাও খরা ও তাপপ্রবাহ বাড়ে, আবার কোথাও বৃষ্টিপাত কমে যায়। বিপরীতে লা নিনার সময় অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রবণতা বাড়তে দেখা যায়।

বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো সরাসরি বাংলাদেশের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ না করলেও দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ুর গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এর কারণে বর্ষা কিছুটা দেরিতে আসা কিংবা মৌসুমজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাব মূল্যায়নে ‘টেলিকানেকশন’ বা দূরবর্তী জলবায়ুগত সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গেলে এবং বাণিজ্যিক বায়ুর গতি দুর্বল হলে দক্ষিণ এশিয়ার বৃষ্টিপাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

তাদের মতে, বর্ষায় বৃষ্টি কম হলে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বাতাসের গতি কম থাকলে শরীর থেকে ঘাম সহজে শুকাতে পারে না, ফলে অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হয়।

কেমন হতে পারে এবারের বর্ষা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মে থেকে জুলাই সময়ের মৌসুমি পূর্বাভাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে কয়েকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে, যার মধ্যে এক বা দুটি নিম্নচাপ কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, জুনের প্রথমার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। এ সময় বিক্ষিপ্তভাবে কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির ঘটনাও ঘটতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য, বর্তমানে জলবায়ুর ধরনে দ্রুত পরিবর্তন আসায় দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস সবসময় পুরোপুরি মিলে নাও যেতে পারে। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এবারের বর্ষায় বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

June 2026
SSMTWTF
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
20G