শরীরে কিসের দাগ মাইকেল ফেলপসের?(ভিডিও)

প্রথম প্রকাশঃ আগস্ট ১০, ২০১৬ সময়ঃ ৫:৩২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৫:৩২ অপরাহ্ণ

প্রতিক্ষণ ডেস্ক:

photo-1470683353

এবারের রিও অলিম্পিকে ১৯তম সোনা জিতেছেন মাইকেল ফেলপস। কিন্তু এই ১৯তম সোনা জয়ের মুহূর্তে মাইকেল ফেলপস এর জয় উদযাপন এর চেয়ে তার শরীরের দিকে চোখ ছিল সবার। শুধু তাই নয় তার শরীরের দিকে যেতেই আঁতকে উঠলেন অনেকেই। তাঁর শরীর এর বুক, পেট এবং পিঠ জুড়ে ছিল কালচে গোলাপি বা বেগুনি ছোপ ছোপ দাগ। তাহলে জোঁকে কামড়াল নাকি বিশ্বজয়ী এই সাঁতারুকে! অনেকে অনেক কিছুই ভাবলেন। সবার জিজ্ঞাসা, কেন এই দাগ শরীরজুড়ে? আর কিসেরই বা এই দাগ? রাশিয়ার পক্ষ থেকে তো পাল্টা তোপও দাগলো তার উপর, তবে কি মাইকেল ফেলপস অন্যায়ভাবে কিছু নিচ্ছেন তার শরীরে, যার প্রতিফলন তার শরীরের দাগগুলো।

এখন প্রশ্ন হল মাইকেল ফেলপস এর শরীরের দাগগুলো তাহলে কীসের? অন্যায় বা অপরাধের কোন কিছু নয়তো? তবে সব সন্দেহের অবসান ঘটিয়ে আসল রহস্যের সন্ধান পাওয়া যায়। ফেলপসের গায়ে এই গোল দাগগুলো আসলে একধরনের থেরাপির ফসল। এই থেরাপির নাম কাপিং থেরাপি। কাপিং থেরাপি পদ্ধতি অনেক প্রাচীন এক চিকিৎ​সাব্যবস্থা। আকুপাংচার বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই থেরাপি মূল কাজ হল গিয়ে শরীরের নেতিয়ে পড়া পেশিগুলো দ্রুত সজীব করে তুলতে সাহায্য করা।

এই পদ্ধতিতে অনেকটা গোল বাল্বের মতো দেখতে ছোট কাচের বোতলের ভেতরে কাগজ জ্বালিয়ে অক্সিজেনশূন্য করা হয়। তারপর দ্রুত সেটি লাগিয়ে দেওয়া হয় শরীরে। ভেতরে বাতাস থাকে না বলে সেটা শরীরের চামড়ায় চুম্বকের মতো লেগে থাকে। এই টানের ফলে শরীরের চামড়া দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসতে চায়। আর এ কারনেই এই থে​রাপি তাই শরীরে এমন গোল গোল কালচে ধরনের দাগ পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্র অলিম্পিক দলের অনেক ক্রীড়াবিদের কাছেই এই কাপিং থেরাপি বেশ জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থাও (আইওসি) এই থেরাপিকে আইনানুগ হিসেবেই স্বীকার করে নিয়েছে। এর আগে অনেক অ্যাথলেটের গায়ে এমন দাগ লক্ষ করা গিয়েছে। তবে মাইকেল ফেলপস বলেই ব্যাপারটা বাকি পৃথিবীর সবার নজরে চলে আসলো। থেরাপিটি আইওসির চোখে নিয়মসিদ্ধ হলেও রাশিয়ার গণমাধ্যম সেটা মানতে রাজি নয়। তারা এটিকে নিষিদ্ধ ডোপিংয়েরই আরেক রূপ হিসেবে দেখতে চাচ্ছে।

রাশিয়ার গণমাধ্যমের দাবি, হলিউডি ধারা অনুসরণ করেই যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাথলেটরা এই থেরাপি গ্রহণ করেছেন। এই থেরাপির মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন–প্রক্রিয়া উন্নত হয়, প্রচণ্ড পরিশ্রমের পর নেতিয়ে পড়া পেশিগুলোও খুব দ্রুত প্রাণ ফিরে পায়। তাদের বক্তব্য, এই থেরাপির গুণাগুণ নিষিদ্ধঘোষিত উপাদান মেলডোনিয়ামের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। রাশিয়ান টেনিস তারকা মারিয়া শারাপোভা মেলডোনিয়াম নেওয়ার দায়েই তো নিষিদ্ধ।

তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই যুক্তিকে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে। যদিও এই কাপিং থেরাপি পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক এখনো চলমান।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

 

 

প্রতিক্ষণ/এডি/এএসটি

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

0cc0