টবেও টমেটোর ভালো ফলন সম্ভব !

প্রকাশঃ জানুয়ারি ৬, ২০১৯ সময়ঃ ১২:১৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:১১ অপরাহ্ণ

প্রতিক্ষণ ডেস্ক :

সালাদ বা সবজি দুই ক্ষেত্রেই টমেটোর কদর অনেক। ভিটামিন আর স্বাদের দিক দিয়েও এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদিও টমেটো শিতকালীন সবজি কিন্তু এখন প্রায়ই আগাম ফসল হিসেবে এর চাষ হর হামেশায় হয়ে থাকে। আর আগাম বাজারে আসলে এর দামও থাকে বেশি। টমেটোর চাষ পদ্ধতি অতীব জটিল না হওয়ায় খুব সহজে নুন্যতম শ্রম ব্যায় করে বাড়ির আংগিনায়, ছাদে বা টবে টমেটো চাষ করে অনেক ফলন আহরন করা যায়। এখানে টবে টমেটো চাষ নিয়ে আলোচনা করা হলো, কিভাবে সহজেই ছাদের অল্প জায়গায় শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে টবেই চাষ করে ফলাতে পারেন অধিক পরিমানে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর বারমাসি টমেটো।

চাষ পদ্ধতি
ছাদে টমেটো চাষের জন্য বেলে-দোআশ মাটি উত্তম। মাটির সংগে তিন ভাগের এক ভাগ গোবর এবং কিছু টিএসপি সার মিশিয়ে ১০-১৫ দিন রেখে দিয়ে প্রস্তুত করে নিতে হবে। টমেটোর চারা লাগানোর জন্য ড্রাম/টব ছাড়াও ছোট ছোট কন্টেইনার এমন কি ২ কেজি আটার প্যাকেটও ব্যবহার করা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি কন্টেইনার/প্যাকেটে একটি করে চারা দিতে হবে। চারা একটু বড় হলে প্রতিটি গাছের জন্য ১ চা চামচ পরিমান টিএসপি সার পূণরায় দিতে হবে। গাছটিকে একটি শক্ত কাঠির সাথে বেধে দিতে হবে। নিচের পূরানো পাতা এবং কিছু ডাল ফেলে দিতে হবে যাতে গাছটি বেশী ঝোপড়া না হয়ে যায়।

অন্যান্য পরিচর্যা
টবের মাটি কয়েকদিন পর পর হালকা নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে যাতে টমেটো গাছে আগাছা জন্মাতে না পারে। টমেটোর ফুল ধরা শুরু করলে সরিষার খৈল পচা পানি পাতলা করে গাছে ১০-১২ দিন অন্তর অন্তর নিয়মিত দিতে হবে।

টমেটোর পোকামাকড় ও রোগবালাই
টমেটো গাছ অনেক সময় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পাতা কোকড়িয়ে যায়। এক গাছ আক্রান্ত হলে কিছুদিনের মধ্যেই অন্য গাছও আক্রান্ত হয়। একসময় সমস্ত বাগানে ছড়িয়ে পড়ে। তাই কোন গাছ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে দেখলে সাথে সাথে তা ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

টমেটো চারা রোপণের পদ্ধতি ও যত্ন 

টবে টমেটো চাষে আপনি দুটি পদ্ধতি অনুসরন করতে পারেন–

প্রথমত, আপনি নার্সারি থেকে টমেটোর ভালো জাত এর চারা নিয়ে এসে আপনার বড় টবটিতে অথবা বস্তায় লাগিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে বস্তা অথবা টবের মাটিকে নিড়ানি দিয়ে খুঁচিয়ে আগে থেকেই বেশ ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এরপর যে প্লাস্টিকে মোড়ানো অবস্থায় আপনার চারাটি কিনে আনবেন সেটাকে সাবধানে মাটি থেকে ছাড়িয়ে নিতে হবে। লক্ষ্য রাখবেন যেন এতে চারাটির মূলের কোনও ক্ষতি না হয়। এরপর টবের মাটিতে বেশ গভীর গর্ত করে তাতে চারাটি বসিয়ে দিন ও মাটি 

ভরে দিন কাণ্ডের চারপাশে। এই চারাটিতে বেশ করে পানি দিতে হবে কিন্তু লক্ষ্য রাখুন যেন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়।

দ্বিতীয়ত, টমেটোর বীজ থেকে গাছ গজানো। বাড়ির বাগানে বেশি করে টমেটো গাছ লাগাতে চাইলে এটি করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে আগে ভালো জাতের বীজ কিনে নিতে হবে। এরপর টবের আর্দ্র মাটিতে ছিটিয়ে দিতে হবে বীজগুলোকে। অঙ্কুরোদ্গমের পর চারাগুলো বড় হতে শুরু করলে এগুলোকে বেশ আলো আসে এমন স্থানে রাখুন এবং কোনোভাবেই যেন এগুলোতে পানির অভাব না হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখুন। কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা রোদ রাখতে হবে আপনার গাছগুলোকে, ৮ ঘণ্টা হলে ভালো হয়।

যখন দেখবেন নিজের লাগানো গাছ বড় হয়ে যখন টমেটো ফলে তা দেখতে ভালোই লাগবে। আর গাছ থেকে নিয়ে তাজা সেই টমেটো সালাদ বা তরকারিতে দিয়ে খেতে নিশ্চয়ই আরো অসাধারণ লাগবে। তবে এর জন্য যত্ন করতে হবে। 

ভালো ফলন পাওয়ার উপায়গুলো আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিই-

১. গাছ যখন বেড়ে ওঠা শুরু করবে; তখন টবের প্রায় পুরোটাই মাটি দিয়ে ভরে দিন। এতে গাছ ভালো বাড়বে।
২. পর্যাপ্ত রোদ আসে এমন স্থানে টব বসান, এতে গাছ তার নিজের খাদ্য সহজেই তৈরি করতে পারবে।
৩. রোদের তাপ খুব বেশি হলে বিকেলের দিকে টব সরিয়ে নিন বা ছায়ার ব্যবস্থা করুন।

৪. নিয়ম করে দুই-তিন দিন পর পর পানি দেয়া ভালো। গাছ বড় হলে পানি সরবরাহ বাড়াতে হবে।
৫. টবে এক বা একাধিক খুঁটি পুঁতে তার সাথে গাছটিকে বেঁধে দিলে ভালো হয়।
৬. নেট দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন, তাতে পোকামাকড়ের আক্রমণ করার সুযোগ কমে যাবে।
৭. গাছের বয়স ছয় সপ্তাহ হলে গাছের গোড়ায় প্রতি সপ্তাহে একটু করে সার দিতে পারেন।
৮. শীত ও গরমে সঠিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে শুকনো পাতা বা শাকসবজির খোসা দিন।

প্রতি/ এডি/রন

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

জানুয়ারি ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ডিসেম্বর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
0cc0