টেলিভিশন সাংবাদিকতার কৌশল (পর্ব-২): রাকিব হাসান

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৫ সময়ঃ ৪:২৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:২৩ অপরাহ্ণ

Jn3যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে টেলিভিশন সাংবাদিকতার প্রায়োগিক দিক সম্পর্কে এ বিভাগের প্রতিটি শিক্ষার্থীর একটি স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরী বলে আমি মনে করি। তবে দু:খজনক হলেও সত্যি গতানুগতিক পাঠদান পদ্ধতি এবং টেলিভিশন সাংবাদিকতায় প্র্যাকটিক্যাল বিষয় নিয়ে তেমন কোন বই না থাকায় শিক্ষার্থীদের যেমন হিমশিম খেতে হচ্ছে, তেমনি এ পেশায় যারা আগ্রহী তারাও পাচ্ছেন না কোন দিক-নির্দেশনা। এ দুটি বিষয় মাথায় রেখেই ১ম পর্বে প্যাকেজের শুধু লিংক নিয়ে আলোচনা করেছি। এবার ২য় পর্বে লিংকের পাশাপাশি টেলিভিশন সাংবাদিকতায় সময়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা যাক-
যেকোন দৈনিকের ক্ষেত্রে যেমন স্পেস বা স্থান একটি জরুরী বিষয়। তেমনি টেলিভিশন সাংবাদিকতায় সময়

খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সময়ের বিষয়টি মাথায় রেখে একটি প্যাকেজে লিংক, ভয়েজ ওভার, সিংক, ভক্সপপ এগুলো সাজাতে হয়।

সময়ের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ দিক হচ্ছে, সময় কখনো বাড়ানো হয় আবার কখনো কমিয়ে দেয়া হয়। সাধারণত ডেইলি ইভেন্ট কোন প্যােেকজের ক্ষেত্রে দেড় মিনিট থেকে দুই মিনিট সময় বরাদ্ধ দেওয়া হয়। আর বিশেষ সংবাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২মিনিট ৩০ সেকেন্ড সময় দেয়া হয়। বেশি গুরুত্ব দেয়া হলে ৩মিনিট দেয়া যেতে পারে। এর বেশি কোনক্রমেই দেয়া হয় না।

কারণ সংবাদের মোট স্থায়িত্ব ৩০/৪০ মিনিট। ঐ সময়ের মধ্যেই সব রিপোর্ট প্রচার করতে হয়। যে কারণে সম্পাদনা পর্ষদকে ( কর্তব্যরত চিফ নিউজ এডিটর, নিউজ এডিটর, ডেপুটি নিউজ এডিটর, জয়েন্ট নিউজ এডিটর) কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে সময়ের সমন্বয় করতে হয়। আর এই কাজে সহায়তা করেন রিপোর্টাররা।

উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, যদি পুরো সংবাদটি ৩০ মিনিটের হয় তাহলে কয়টি প্যাকেজ, উভ, উভ সিংক, ইনভিশন সিংক যাবে, এগুলোর স্থায়িত্ব (duration) কত হবে, এমনকি যে প্যাকেজগুলো প্রচারিত হবে সেগুলোর লিংকের স্থায়িত্ব কত হবে তা সম্পূর্ণ হিসেব করে ৩০ মিনিটের বেশি হয়ে যাচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।

যদি কোনভাবেই ৩০ মিনিটের বেশি হয়ে যায় তাহলে প্রোগ্রাম ডিপার্টমেন্ট বা কর্তৃপক্ষের কাছে এনসিএকে (নিউজ রুম) জবাবদিহি করতে হয়। কারণ, প্রতিটি সেকেন্ড-মিনিট বরাদ্ধ থাকে বিজ্ঞাপন, নাটক, প্রমোসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য। যে কারণে পুরো সংবাদটি নির্ধারিত ৩০/৪০ মিনিটে রাখতে সতর্ক থাকতে হয় নিউজ রুমকে।

সংবাদ প্রচারের আগে যদি নিউজ প্রডিউসার দেখেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগবে, তখন তৎক্ষণিকভাবে তিনি সম্পাদনা পর্ষদকে বিষয়টি অবহিত করেন। আর এরপর সম্পাদনা পর্ষদ রান-ডাউন (যেখানে প্রতিটি সংবাদ এবং তার সময় উল্লেখ থাকে) দেখে, যে রিপোর্টগুলো অপেক্ষাকৃত বড় সে কয়েকজন রিপোর্টারকে ডেকে তাদের জন্য বরাদ্ধকৃত ২মিনিট অথবা ২মিনিট ৩০ সেকেন্ডের রিপোর্টটির স্থায়িত্ব (সিংক, ভক্সপপ, প্রয়োজনে ভয়েজ ওভার) কমিয়ে সমন্বয় করতে বলা হয়। আর এই জায়গাটিতে কর্তব্যরত ডিএনইদের সাথে রিপোর্টারদের দ্বন্দ্ব বা অসন্তোষ তৈরি হয়। কেননা একজন রিপোর্টার কোনোভাবেই তার রিপোর্টটিকে বরাদ্ধকৃত সময়ের চেয়ে আর সংক্ষেপ করতে চাননা। কিন্তু পত্রিকার সহ সম্পাদকের মতো টেলিভিশনের ডিএনই’রাও নাছোড়বান্দা। ভিডিও এডিটরের সহায়তায় প্রয়োজনমাফিক রিপোর্টটিতে কাঁচি চালিয়ে ডিউরেশন কমিয়ে দেন বা কমাতে বাধ্য হন। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই সময়ের সমন্বয়ের প্রয়োজনেই তাদের এটি করতে হয়।

এ বিষয়ে আমার নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি- ‘ফুটপাতে মোটর সাইকেল’ নিয়ে একুশে টিভিতে একটি বিশেষ ধারাবাহিক রিপোর্টের ১ম পর্বের জন্য আমাকে বরাদ্ধ দেয়া হয় ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। কিন্তু রিপোর্টটি তৈরি করার পর আমাকে তা ২০ সেকেন্ড কমিয়ে ২ মিনিট ১০ সেকেন্ড করে দিতে বলেন কর্তব্যরত ডিএনই। বিষয়টি আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। কারণ এটা করলে দুটি ভক্সপপ (বক্তব্য) বাদ দিয়ে দিতে হবে। এ কারণে আমার রিপোর্টটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে বলে আমি তাকে জানাই। তিনি নির্ধারিত সময়ের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে প্রয়োজনে ভয়েজ ওভার সংক্ষেপ করে সমন্বয় করতে বলেন। তখন সময়ের সাথে সমন্বয় করেই রিপোর্টটির পরিপূর্ণতার দিকে আমাকে নজর দিতে হয়েছিল।

মূলত টেলিভিশন সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত সময়ের সাথে এমনভাবে সমন্বয় করতে হয় যেন একদিকে নিউজরুমের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থায়িত্ব (duration) ঠিক থাকে, আবার অন্যদিকে নিজের রিপোর্টটির বিষয়বস্তু সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপিত হয়। আর এই দুটির সমন্বয় যে রিপোর্টার যতটা মুন্সিয়ানার সাথে করতে পারেন তিনি ততটা দক্ষ বলে বিবেচিত হন।

সময়ের হিসেব নিয়ে একটি তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে আমার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অনার্স ৩য় বর্ষে আমাদের টেলিভিশন সাংবাদিকতা কোর্সটি পড়াতেন শহিদুল হক স্যার। একদিন তিনি এসাইনমেন্ট দিলেন একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে একটি ৫ মিনিটের প্রতিবেদন লিখে তাকে জমা দিতে। কিন্তু এই ৫ মিনিটের হিসেব কিভাবে করব, কীভাবে স্ক্রিপ্ট লিখব, লিংক-সিংক-ভক্সপপ-ভয়েজওভার কিভাবে সমন্বয় করব এ বিষয়ে তার কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না।

৫মিনিট ডিউরেশন বা স্থায়িত্বের বিষয়টি কীভাবে হিসেব করা হবে সে সম্পর্কে ক্লাসের কোনো শিক্ষার্থীর ধারণা ছিল না। হক স্যারের কাছে জানতে গেলে তিন বরাবরের মত বিষয়টি এড়িয়ে যান। ৩ দিন ঘুরাঘুরি করে কোনো সমাধান না পেয়ে মোবাইলে টেলিভিশন রিপোর্ট ভিডিও করা এবং রেডিওর খবর শুনে শুনে লেখা শুরু করলাম। কিন্তু সময়ের হিসাব সম্পর্কে ধারণা পেলাম না। অবশেষে বেশকিছু বই খোঁজাখুঁজি করে একটি বইতে পেলাম ৩ শব্দ = ১ সেকেন্ড। সেভাবে হিসেব করে ৫ মিনিটের একটি প্রতিবেদন লিখে স্যারকে জমা দিলাম। সেসময় আমার সামনে আমার নিজের চেষ্টায় করা এই মডেলটি ছাড়া টেলিভিশন সাংবাদিকতার অন্য কোন প্র্যাকটিক্যাল উদাহরণ বা স্ক্রিপ্ট ছিলনা।

তবে দু:খজনক হলেও সত্য, পরবর্তীতে টেলিভিশন সাংবাদিকতায় এসে দেখি ৫ মিনিটে কোনো প্রতিবেদন টেলিভিশনে হয়না। আর ৩ শব্দ = ১ সেকেন্ড বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল। সঠিক হচ্ছে ২ শব্দ= ১ সেকেন্ড। মূলত ঐ কোর্সে টেলিভিশন সাংবাদিকতার বিষয়ে প্রাপ্তি তেমন কিছুই ছিল না বললেই চলে।

তবে পরবর্তীতে ৪র্থ বর্ষে ‘এডভান্স টেলিভিশন সাংবাদিকতা’ কোর্সে টেলিভিশন সাংবাদিকতার খুঁটিনাটি বিভিন্ন দিক সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন বিভাগের মেধাবী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ স্যার। সেসময় তিনি এ কোর্সটি না পড়ালে থিওরিটাও হয়তো অন্ধকারে থেকে যেতো।

যা হোক, টেলিভিশন সাংবাদিকতায় সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কর্তব্যরত ডিএনই একটি রিপোটের্র জন্য যদি ২মিনিট সময় বরাদ্ধ দেন, আর প্যাকেজের ভয়েজ ওভারে যদি ১২০ শব্দ থাকে, তাহলে ভয়েজওভারে কত সময় লাগবে ? হ্যাঁ খুবই সহজ, ২ শব্দ = ১ সেকেন্ড, তার মানে সময় দাঁড়াচ্ছে ৬০ সেকেন্ড অর্থাৎ ১ মিনিট। ভয়েজ ওভার যদি এক মিনিটি হয় তাহলে বাকি অংশ (ভক্সপপ, সিংক) ৫০/৫৫ সেকেন্ডে শেষ করতে হবে। অর্থাৎ কোনোভাবেই ২ মিনিটের বেশি করা যাবেনা। রিপোর্টটি শেষ করার পর এর ডিউরেশন জানিয়ে দিতে হবে কর্তব্যরত ডিএনই বা নিউজ এডিটরকে। সময়ের প্রয়োজনে তিনি হয়তো আবারো সংক্ষেপ করতে বলতে পারেন ! এটাই হলো বাস্তবতা!!

মোট কয়টি প্যাকেজ, উভ, উভ সিংক, ইনভিশন সিংক যাবে এগুলোর স্থায়িত্ব (duration) হিসেব করার সাথে সাথে প্রতিটি প্যাকেজের লিংকের স্থায়িত্ব হিসেব করেন সম্পাদনা পর্ষদ। কারণ লিংক পড়তে যদি নিউজ প্রেজেন্টারের বেশি / কম সময় লাগে, তবে তা নির্ধারিত ৩০ মিনিটের কম বা বেশি হবে। তাই প্রয়োজনমাফিক লিংক ছোট বা বড় করার মাধ্যমেও সময়ের সাথে সমন্বয় করা হয়। এ কাজটি দ্রুততার সাথে করা হলেও সংবাদের মূল থিম যেন ঠিক থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় আনা হয়। কেননা, কোনো একটি শব্দ বা বাক্য সংযোজন / বিয়োজনে পুরো অর্থ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। তাই লিংক ঠিক করার ক্ষেত্রে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারকে ডেকে মূল থিম ঠিক আছে কিনা বা কোনো কিছু সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হন নিউজ এডিটর।

টেলিভিশনের খবরে প্রথমেই সংবাদ শিরোনাম জানিয়ে দেয়া হয়। এরপর গুরুত্ব অনুযায়ী সংবাদগুলো একে একে পাঠ করা হয়। লিংকের অংশটুকু শোনার পর দর্শক সংবাদটি সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা পায়। আর রিপোর্টারের রিপোর্ট দেখার পর বিষয়টি সম্পর্কে দর্শকের ধারণাটি পরিষ্কার বা স্পষ্ট হয়। সাধারণত প্রেজেন্টার লিংক পড়ার মাধ্যমেই দর্শকের বিস্তারিত জানার আগ্রহ বা কৌতূহলকে আরো বাড়িয়ে দেন । এরপর রিপোর্টে বিস্তারিত জানার মাধ্যমে দর্শক নিজেকে তথ্যসমৃদ্ধ করতে পেরে স্বস্থির ঢেঁকুর তোলেন।

আগে বলা হতো নলেজ ইজ পাওয়ার। আর এখন বলা হয় ইনফরমেশন ইজ সুপার পাওয়ার। দর্শক এখন অনেক সচেতন, নিজেকে তথ্য-সমৃদ্ধ রাখতে তারা প্রতিনিয়ত টেলিভিশনের খবর দেখেন। প্রতিদিনের আড্ডায় বিভিন্ন চ্যানেলের খবর নিয়ে তুলনামুলক আলোচনাও করেন তারা। সুতরাং যেকোনো প্যাকেজের লিংক থেকে শুরু করে পে-অফ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিতে দর্শককে বস্তুনিষ্ট তথ্য দিতে দক্ষতার ছাপ রাখতে হয় টেলিভিশন সাংবাদিকদের। আর সেকারণেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে, বস্তুনিষ্ঠতার পাশাপাশি সৃজনশীলতাকেও গুরুত্ব দেয়া হয়। কাজটি লিংক থেকেই শুরু করতে হয়। জটিল, কঠিন বা সাংঘর্ষিক শব্দ বা বাক্যের ব্যবহার বাদ দিয়ে সহজ-সরল শব্দে বস্তুনিষ্ট তথ্য উপস্থাপনের পক্রিয়াটি শুরু হয় লিংকের মাধ্যমে। আর রিপোর্টের পরবর্তী অংশে শুধু এই ধারাবাহিকতাটুকু (continuity) বজায় রাখতে হয়। আরও কিছু লিংকের উদাহরণ নিচে দেওয়া হল:

উদাহরণ-১: ফুটপাতে মোটর সাইকেল চলাচল করায় রাজধানেিত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। প্রায় সময় মোটর সাইকেলের ধাক্কায় হতাহত হচ্ছেন পথচারীরা। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে কিছু অর্থ জরিমানাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম। তবে এ বিভাগের মতে, সচেতনতার পাশাপাশি মোটর সাইকেলের জন্য আলাদা লেইন রাখা প্রয়োজন। আর বিশেজ্ঞরা বলছেন, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেই ফুটপাত নিরাপদ রাখা সম্ভব। আলমগীর হোসেনের ক্যামেরায় রাকিব হাসানের ধারাবাহিক রিপোর্টের শেষ পর্ব।

উদাহরণ-২: হল উদ্ধারের দাবিতে আজও উত্তাল ছিলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অবরোধ, রাস্তায় আগুন, মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে শিক্ষার্থীরা। দাবী আদায় না হলে ২৭শে ফেব্রুয়ারী শিক্ষামন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ আরো কঠোর কর্মসূচীর হুঁশিয়ারী দিয়েছেন তারা। এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবীর সাথে একাতœতা জানালেও আন্দোলনের কারণে শিক্ষার পরিবেশ বিঘিœত না করার আহ্বান জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। বিস্তারিত রাকিব হাসানের রিপোর্টে।

উদাহরণ-৩: রিমান্ড এবং মামলার বেড়াজাল হতে কিছুতেই বেরুতে পারছেন না ১৯ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। একটি মামলায় খালাস হলে আরো ২ টি মামলায় শ্যেন এরেস্ট দেখিয়ে আবারও রিমান্ড এবং রিমান্ড শুনানীর জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা। নেতাকর্মীদের মুক্ত করতে না পেরে হতাশ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিএনপির আইনজীবীদের। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, বিভিন্ন উসকানি ও সহিংসতার ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ আছে বলেই এসব মামলা দেয়া হচ্ছে। মোহাম্মদ হানিফের ক্যামেরায় রাকিব হাসানের বিশেষ রিপোর্ট।

উদাহরণ-৪: পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির কার্যক্রমে যারা ক্ষুব্ধ, তারাই রিজওয়ানা হাসানের স্বামীকে অপহরণ করে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা। দেশের জন্য কাজ করে যদি পরিবারকে এভাবে হুমকির মুখে পড়তে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ কাজ করতে উৎসাহ দেখাবে না বলেও মনে করেন তারা। বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামীকে অক্ষতভাবে ফিরিয়ে দেয়ারও দাবী জানান তারা। রিপোর্ট করছেন রাকিব হাসান।

উদাহরণ-৫: সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তারেক রহমানকে খালাস দেয়া অবসরপ্রাপ্ত বিচারক মোতাহের হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ এনে দুদকের অনুসন্ধানকে বিচার ব্যবস্থার প্রতি নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে দাবী করেছেন বিএনপির আইনজীবীরা। একই সাথে তারেক রহমানের শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে রমনা থানায় দায়ের করা দুদকের মামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। এবিষয়ে আইনমন্ত্রী জানান,কার কার সম্পদের হিসাব তলব করা হবে তা দুদকের একান্ত নিজস্ব ব্যাপার, এখানে তার কোন ভূমিকা নেই। অপরদিকে দুদকের আইনজীবী জানান, রাষ্ট্র চাইলে যেকোন নাগরিকের সম্পদের হিসাব তলব করতে পারে। আব্দুর রাজ্জাকের ক্যামেরায় রাকিব হাসানের বিশেষ রিপোর্ট।

লিংক নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করা হল। ‘পর্ব – ৩ ’ এ আলোচনা হবে ভয়েজ ওভার- সিংক – ভক্সপপ নিয়ে। ( চলবে)…

 

রাকিব হাসান, লেখক ও সাংবাদিক

[email protected]

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

এপ্রিল ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
20G