শিল্পী এস এম সুলতানের ৯১তম জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশঃ আগস্ট ১০, ২০১৫ সময়ঃ ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:১৩ অপরাহ্ণ

প্রতিক্ষণ ডেস্ক

sm sultan

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান জীবনের অবিনাশী বোধ ও শিকড়ের শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করে ছিলেন তার স্বকীয় ধারার চিত্রকর্ম দিয়ে। তিনি আধুনিকতার সংমিশ্রণে ফুটিয়ে তুলেছিলেন মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তির উত্থানকে। এই কিংবদন্তি চারুশিল্পির ৯১তম জন্মবার্ষিকী আজ।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, সুলতান ফাউন্ডেশন, এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপি নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে থাকছে শিল্পীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো, কবর জিয়ারত, কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা। নড়াইলে শনিবার তিনদিন ব্যাপী আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমীর চারু শিল্পী পরিষদের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে আর্টক্যাম্পের উদ্বোধন করেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ।

এদিকে শিল্পীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৬ আগস্ট থেকে সুলতান মঞ্চে চার দিনব্যাপী সুলতান উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের  বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের চিত্র শিল্পীদের নিয়ে আর্টক্যাম্প, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সঙ্গীত-নৃত্যানুষ্ঠান, নাটক, ডুকুমেন্টারি ফ্লিম প্রদর্শনী এবং নড়াইলের চিত্রা নদীতে নারী ও পুরুষের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।

১৯২৪ সালের আজকের এই দিনে নড়াইল পৌরসভার মাছিমদিয়া গ্রামের এক দরিদ্র রাজমিস্ত্রির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশবে এস এম সুলতানের ডাক নাম ছিল লাল মিয়া। এস এম সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে বিকেল ৪ টা ৩৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷

জীবদ্দশাতেই কিংবদন্তি হয়ে ওঠা সুলতান বিচিত্র ধরনের ছবি এঁকে সারাবিশ্বে হইচই ফেলে দেন। তিনিই প্রথম এশীয়, যার আঁকা ছবি পাবলো পিকাসো, সালভাদর দালির মতো বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্মের সঙ্গে প্রদর্শিত হয়েছে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার এই ছবিগুলো প্রদর্শিত হয় লন্ডনের ভিক্টোরিয়া এমব্যাঙ্কমেন্ট ও লেইস্টার গ্যালারিতে। তার কিছু বিখ্যাত চিত্র কর্মের ভেতর “ম্যাসাকার”, “জিপসি পরিবার”, “কৃষক”, “প্রথম রোপণ”, “চর দখল” ও “আদম সুরত” অন্যতম।

সুলতান তার চিত্রকর্মের জন্য অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৮২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ম্যান অব দ্য ইয়ার, একই বছর একুশে পদক, ’৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আর্টিস্ট ইন রেসিডেন্স, ’৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক এবং ’৯৯ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউটের ৫০ বছর পূর্তিতে সম্মাননা (মরণোত্তর) পদক উল্লেখযোগ্য।

প্রতিক্ষণ/এডি/ইম

আরো সংবাদঃ

সর্বশেষ সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G