হজমের সমস্যা এড়াতে ডাল ভিজানোর সহজ নিয়ম
প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ডাল যেন এক অপরিহার্য উপাদান। মাছ, মাংস বা সবজি যাই থাকুক না কেন, ডাল ছাড়া অনেকেরই খাবার অপূর্ণ থেকে যায়। ভাত কিংবা রুটি—দুটোর সঙ্গেই সমানভাবে মানিয়ে যায় এই পুষ্টিকর খাবারটি। তবে আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেকেই রান্নার আগে ডাল ভিজিয়ে রাখার অভ্যাস থেকে সরে এসেছেন। সময় বাঁচাতে সরাসরি ডাল রান্না করে ফেলেন, কিন্তু এর ফলে হজমের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
ডাল শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। এতে রয়েছে ফোলেট, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে এই পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পেতে হলে ডাল রান্নার আগে নির্দিষ্ট সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এতে ডাল নরম হয়, সহজে সেদ্ধ হয় এবং হজমও অনেকটা সহজ হয়ে যায়।
বিভিন্ন ধরনের ডালের জন্য ভিজিয়ে রাখার সময়ও ভিন্ন। সবুজ মুগডাল সাধারণত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়, আর হলুদ মুগডাল অন্তত আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখাই যথেষ্ট। ছোলার ডাল ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, অড়হড় ডাল ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা উপকারী। অন্যদিকে রাজমা ও কাবলি ছোলা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা উচিত। কালো ছোলা ও মটর ডাল ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, আর মুসুর ডাল ১ থেকে ২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলেই যথেষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোলা ও মটরের মতো কিছু ডাল তুলনামূলক ভারী হওয়ায় হজম করা কঠিন। এগুলো আগে থেকে ভিজিয়ে রাখলে ডালের ভেতরে থাকা অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টের মাত্রা কমে যায়, যা হজমে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া ডালের বাইরের স্তরে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড অনেক সময় পেটে গ্যাস বা বদহজমের কারণ হতে পারে। ডাল কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এই উপাদান অনেকটাই দূর হয়ে যায়। একইভাবে ভিজিয়ে রাখার ফলে পলিফেনল ও ট্যানিনের পরিমাণও কমে, যা শরীরকে ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ সহজে শোষণ করতে সাহায্য করে।
সব মিলিয়ে, সামান্য সময় নিয়ে ডাল ভিজিয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে তা শুধু হজমের জন্যই নয়, শরীরের পুষ্টি গ্রহণের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতি / এডি / শাআ











