কোচিং সংস্কৃতি বন্ধে বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ সময়ঃ ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যুগোপযোগী করতে নতুন শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কোচিং সেন্টার, নোট–গাইড বই প্রকাশ এবং প্রাইভেট টিউশন পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে একটি আলাদা বিধিমালা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে, যার খসড়া ইতোমধ্যে জনমত নেওয়ার জন্য অনলাইনে প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত **শিক্ষা আইন–২০২৬ (খসড়া)**তে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হবে, এরপর ধীরে ধীরে নিরুৎসাহিত করা হবে এবং শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোচিং ও গাইড বইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের মৌলিক চিন্তাশক্তি নষ্ট করছে। অনেক শিক্ষার্থী পাঠ্যবই বাদ দিয়ে শুধুই নোট–গাইড মুখস্থ করছে, যা মানসম্মত শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর। পাশাপাশি কোচিং নির্ভরতার কারণে দরিদ্র ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করা। এজন্য দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, পাঠ্যবইভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং উন্নত মানের শ্রেণিপাঠ নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্য পূরণ করতে কোচিং ও প্রাইভেট টিউশন সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলেই নতুন আইনে বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনাও উঠেছে। অভিভাবক ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, কার্যকর শাস্তির বিধান ছাড়া শিক্ষা আইন অর্থহীন। তিনি বর্তমান সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে আসায় এই উদ্যোগকে লোকদেখানো বলে মন্তব্য করেন এবং তাড়াহুড়া করে আইন প্রণয়নের চেষ্টা বন্ধ করার দাবি জানান।

প্রতি /এডি /শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G