নির্বাচন মৌসুমে হোয়াটসঅ্যাপ–মেসেঞ্জার লিঙ্কে সতর্কতা
নির্বাচন এলেই মোবাইলের ইনবক্স ভরে যায় রাজনৈতিক বার্তা, প্রচার কল, জরিপ লিংক আর নানা ধরনের নোটিফিকেশনে। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেই নিঃশব্দে সক্রিয় হয়ে ওঠে সাইবার অপরাধীরা। তারা ভোটের উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একটি ভুল ক্লিকেই হারাতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ব্যাংকের টাকা।
কীভাবে মানুষকে ফাঁদে ফেলে?
ভুয়া জরুরি বার্তা পাঠানো
‘ভোটকেন্দ্র বদলে গেছে’, ‘ভোটার তথ্য যাচাই করুন’, ‘সরকারি সুবিধা পেতে ফর্ম পূরণ করুন’—এমন বার্তা দিয়ে লিংক পাঠানো হয়। ক্লিক করলে নকল ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে এনআইডি, ফোন নম্বর বা ওটিপি চাওয়া হয়।
সরকারি পরিচয়ে প্রতারণা
নির্বাচন কমিশন বা সরকারি দপ্তরের লোগো ব্যবহার করে মেসেজ পাঠানো হয়। দেখতে আসল মনে হলেও ভেতরের লিংকটি ভুয়া। তথ্য দিলে তা সরাসরি হ্যাকারদের হাতে চলে যায়।
ক্ষতিকর অ্যাপ ডাউনলোড করানো
‘লাইভ ভোটের ফল দেখুন’ বা ‘গোপন জরিপ রিপোর্ট ডাউনলোড করুন’—এমন টোপ দিয়ে ফাইল পাঠানো হয়। ইনস্টল করলে ফোনে স্পাইওয়্যার ঢুকে পড়ে এবং আপনার কার্যকলাপ নজরদারি করা হয়।
বিশ্বাসের অপব্যবহার (সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং)
কেউ নিজেকে প্রার্থীর কর্মী বা জরিপকারী পরিচয় দিয়ে ফোন করে তথ্য চাইতে পারে—কখনো ভয় দেখিয়ে, কখনো সহানুভূতি দেখিয়ে।
কেন হোয়াটসঅ্যাপ–মেসেঞ্জার বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?
১.বার্তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে
২.অনেক সময় পরিচিত কারও হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট থেকে লিংক আসে
৩.গ্রুপে একবার লিংক গেলে মুহূর্তেই শত মানুষ ক্লিক করতে পারে
৪. এনক্রিপ্টেড হওয়ায় ভুয়া লিংক ধরাও কঠিন
সন্দেহজনক লিংক চিনবেন যেভাবে:
১.অদ্ভুত ওয়েব ঠিকানা (.xyz, .top, .club ইত্যাদি)
২. অযথা ব্যক্তিগত তথ্য বা ওটিপি চাওয়া
৩. ‘এখনই ক্লিক না করলে আইডি বন্ধ’—এ ধরনের ভয় দেখানো ভাষা
৪. অপরিচিত নম্বর বা নতুন প্রোফাইল থেকে বার্তা
৫.অবাস্তব পুরস্কার বা লোভনীয় অফার
মনে রাখবেন: কোনো সরকারি সংস্থা হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে ব্যাংক তথ্য বা ওটিপি চায় না।
নিরাপদ থাকতে যা করবেন:
১.অপরিচিত লিংক এড়িয়ে চলুন
২.কখনোই ওটিপি বা পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না
৩.ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলে দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু করুন
৪.ফোন ও অ্যাপ সবসময় আপডেট রাখুন
৫.সন্দেহজনক বার্তা রিপোর্ট ও ব্লক করুন
৬.বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন
ভুল করে ক্লিক করলে কী করবেন:
১.দ্রুত পাসওয়ার্ড বদলান
২.ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সে কল করুন
৩. সন্দেহজনক লেনদেন নজরে রাখুন
৪.প্রয়োজনে সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ দিন
ভোটের মৌসুমে তথ্য জানার আগ্রহ স্বাভাবিক—কিন্তু এক ক্লিকের অসতর্কতায় বড় ক্ষতি হতে পারে। সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।










