আপনার নামে আগেই ভোট পড়েছে —কী করবেন?
ভোট দিতে গিয়ে দেখলেন আপনার নামে আগেই ভোট পড়েছে — কী করবেন?
ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যদি শুনতে পান, “আপনার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে”—এটা যে কারও জন্যই হতবাক করার মতো ঘটনা। অনেকেই তখন
বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে যান বা রেগে যান। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এ অবস্থায়ও আপনার ভোটাধিকার পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। আইন আপনাকে দ্বিতীয় সুযোগ দেয়।
প্রথমেই যা করবেন: ভোটার তালিকায় আপনার নামের পাশে আগে থেকেই স্বাক্ষর বা টিপসই থাকলে সঙ্গে সঙ্গে প্রিসাইডিং অফিসারকে বিষয়টি জানাবেন।
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দেখিয়ে প্রমাণ করবেন যে আপনিই প্রকৃত ভোটার। কোনো ঝগড়া নয়—শান্তভাবে অভিযোগ জানান।
চাইতে পারেন ‘টেন্ডারড ভোট’: বাংলাদেশের নির্বাচন আইনে এমন পরিস্থিতির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা আছে, যাকে বলা হয় টেন্ডারড ভোট (প্রদত্ত ভোট)।
যদি প্রিসাইডিং অফিসার নিশ্চিত হন যে আপনার নামে অন্য কেউ ভোট দিয়েছে, তাহলে তিনি আপনাকে একটি বিশেষ ব্যালট পেপার দেবেন।
এই ব্যালটে আপনি আপনার পছন্দের প্রতীকে সিল দেবেন। তবে এটি সাধারণ ব্যালট বাক্সে যাবে না। আলাদা খামে সংরক্ষণ করা হবে।
এই ভোট কি গণনা হয়?
সাধারণ ফল ঘোষণার সময় সাধারণত টেন্ডারড ভোট ধরা হয় না। কিন্তু— ফল খুব কাছাকাছি হলে, অথবা কেউ আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে, তখন আদালতের নির্দেশে এসব ভোট গণনা করা হতে পারে। তাই আপনার ভোট একেবারেই গুরুত্বহীন নয়।
ছদ্মবেশে ভোট দিলে কী হয়?
অন্যের নামে ভোট দেওয়া গুরুতর অপরাধ। ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এমনকি কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কেউ যদি বলে “আপনার ভোট হয়ে গেছে”—তবুও হতাশ হয়ে চলে যাবেন না।
আইন জানলে আপনি আপনার অধিকার রক্ষা করতে পারবেন।
সচেতন থাকুন, শান্ত থাকুন, এবং নিজের ভোটাধিকার নিশ্চিত করুন।
প্রতি /এডি/শাআ










