খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, মোচড়ানো ব্যথা, হঠাৎ গ্যাস, কখনো অনিয়ন্ত্রিত ডায়রিয়া—আবার কখনো দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য। এমন সমস্যা এখন অনেকের দৈনন্দিন সঙ্গী হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে কঠিন ব্যাপার হলো—ডাক্তার দেখিয়ে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও অনেক সময় কোনো নির্দিষ্ট রোগ ধরা পড়ে না। অথচ কষ্টটা থাকে রোজকার।
এই অস্বস্তির পেছনে প্রায়ই যে কারণটি লুকিয়ে থাকে, তার নাম আইবিএস (Irritable Bowel Syndrome) বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম। এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয়, ক্যানসারও নয়, এমনকি পেটের ভেতরে কোনো ক্ষতও তৈরি করে না। বরং এটি অন্ত্রের অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার সমস্যা—যেখানে সামান্য খাবার বদল বা মানসিক চাপেও অন্ত্র “বিদ্রোহ” করে বসে।
কেন হয় আইবিএস?
আইবিএস সাধারণত একক কারণে হয় না; বরং কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করে—
অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা
অনিয়মিত খাবারের সময়
অতিরিক্ত তেল, ঝাল ও ভাজাপোড়া
কম পানি পান করা
বেশি চা, কফি বা কোমল পানীয় গ্রহণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের মধ্যে আইবিএস তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। হরমোনের ওঠানামা ও মানসিক চাপ এতে বড় ভূমিকা রাখে।
আইবিএস মানেই সব খাবার বাদ নয়
অনেকে মনে করেন আইবিএস হলে প্রায় সবকিছু খাওয়া বন্ধ করে দিতে হয়—এটা ভুল ধারণা। আসল বিষয় হলো, নিজের শরীরের সঙ্গে মানানসই খাবার বেছে নেওয়া।
আইবিএসের ধরন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস বদলাতে হয়—
🔹 আইবিএস-ডি (ডায়রিয়া প্রধান):
উপকারী: সাদা ভাত, ওটস, কলা, সিদ্ধ ডিম, মাছ
এড়াতে হবে: ভাজাপোড়া, ঝাল, কফি, কোমল পানীয়, দুধ
🔹 আইবিএস-সি (কোষ্ঠকাঠিন্য প্রধান):
উপকারী: রান্না করা সবজি, পেঁপে, ওটস, প্রচুর পানি
সমস্যা বাড়ায়: কম পানি, অতিরিক্ত ময়দাজাত খাবার
🔹 আইবিএস-এম (মিশ্র ধরনের):
সহজপাচ্য খাবার
ধীরে ধীরে ফাইবার বাড়ানো
কোন খাবারে সমস্যা হয়—তা লিখে রাখা
যেসব খাবার সাধারণত সমস্যা বাড়ায়
অতিরিক্ত তেল-ঝাল
কাঁচা পেঁয়াজ ও বাঁধাকপি
কোমল পানীয়
অতিরিক্ত চা-কফি
কৃত্রিম মিষ্টি
যাদের ল্যাকটোজ সমস্যা আছে—তাদের জন্য দুধ
আইবিএস নিয়ন্ত্রণের সহজ নিয়ম
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার
ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া
একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে খাওয়া
পর্যাপ্ত পানি পান
মানসিক চাপ কমানো
“ফুড ডায়েরি” রাখা—কোন খাবারে সমস্যা হয় লিখে রাখা
শেষ কথা:
আইবিএস ভয়ংকর কোনো রোগ নয়। কিন্তু এটি অবহেলা করলে জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলতে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত রুটিন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আইবিএস নিয়েও স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন করা সম্পূর্ণ সম্ভব।
প্রতি /এডি /শাআ