হেলিকপ্টার থেকে বোমা নিক্ষেপের নির্দেশ দেন হাসিনা: প্রসিকিউটর জোহা

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫ সময়ঃ ৬:৩০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৬:৩০ অপরাহ্ণ

প্রতিক্ষণ ডেস্ক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মারণাস্ত্র (লেথাল ইউপেন) ব্যবহারের পাশাপাশি ড্রোন দিয়ে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করে হেলিকপ্টার থেকে বোমা নিক্ষেপের (বোম্বিং) নির্দেশ দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বুধবার এমন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন জনের বিরুদ্ধে ট্রাব্যুনাল তার সাক্ষ্যগ্রহণ করে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

প্রসিকিউটর তানভীর জোহা বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন ভিডিও ও অডিও রেকর্ড সংগ্রহ করি। এরমধ্যে কয়েকটি ফোনালাপে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক মন্ত্রী, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুর কণ্ঠস্বর শনাক্ত করি।’

‘এসব ফোনালাপ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে “লেথাল উইপেন” ব্যবহার করে সরাসরি গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন,’ বলেন তিনি।

প্রসিকিউটর জোহা আরো বলেন, ‘এছাড়া শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ড্রোন দিয়ে আন্দোলনকারীদের অবস্থান চিহ্নিত করে হেলিকপ্টার থেকে বোমা নিক্ষেপের ( বম্বিং) করার জন্য নির্দেশ দেন।’

‘তিনি আন্দোলকারীদের “রাজাকার” চিহ্নিত করে ফাঁসির নির্দেশও দিয়েছিলেন,’ যোগ করেন জোহা।

তিনি আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধের জন্যও শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করেন।

ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

এ মামলায় অন্যান্য সাক্ষীর পাশাপাশি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ট্রাইব্যুনালে তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন।

এছাড়াও জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে আরও সাক্ষ্য দিয়েছেন দুজন। তারা হলেন– আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার রেকর্ড ও লাইব্রেরি ইনচার্জ মো. কামরুল হোসাইন ও আনিসুর রহমান। তাদের জেরা করেন রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী। এছাড়াও ৪৯তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ মাহামুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী।

গত ১০ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। পরে এ মামলায় তাকে রাজস্বাক্ষী করা হয়।

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G