হাদির বিচারের দাবিতে নাহিদরা কোথায়?

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ সময়ঃ ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
নাহিদ, মনে আছে তো—তোমাদের যখন গোপালগঞ্জে আটকে রাখা হয়েছিল, তখন ওসমান হাদি একাই মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে হুংকার দিয়েছিল: “২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন না হলে… ছিঁড়ে ফেলবো!”
আর আজ? ১৪ দিন হয়ে গেল—বিচার তো দূরের কথা, খুনিটা কে সেটা শনাক্ত করার পরেও গ্রেফতার করা হচ্ছে না!
কিন্তু তোমরা? একেবারে চুপ। তোমাদের যারা আগে বড় বড় কথা বলেছিল, তারা আজ কোথায়?
সবচেয়ে জঘন্য যে বিষয় দেখলাম—শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চ বসেছে শহিদ হাদির বিচারের দাবিতে, তোমাদের সারজিস, মাহফুজ, আসিফ, তুমি—একজনও সেখানে গেলে না! এটাই তোমাদের জুলাইয়ের নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার? নতুন বন্দোবস্ত? কেন এমন করলে? ক্ষমতার অংক নষ্ট হবে? সমীকরণ ভেঙে যাবে?
অথচ তোমাদের স্লোগান ছিল—ক্ষমতা না, জনতা? —জনতা, জনতা! সেই তোমরা এখন ‘জনতা’কে বাদ দিয়ে ‘ক্ষমতা’কে আঁকড়ে ধরতে চাইছ। মানুষের পাশে থাকার কথা বলে এখন তোমরা ক্ষমতার অংক কষছো, সুবিধার হিসাব মিলাচ্ছো। চুপ থাকারও একটা ভাষা আছে—আর তোমাদের এই চুপ খুব পরিষ্কার ভাষায় অনেক কিছু বলে দিচ্ছে। আর যাই করো, হাদির রক্তের সাথে বেইমানি করার দুঃসাহস করো না। এর পরিণাম ভালো হবে না। তোমরা নেতা হতে চাও—কিন্তু দায় নিতে ভয় পাও। কিন্ত মনে রেখ—রক্তের বিচার থেমে থাকলে, ইতিহাস তোমাদের ক্ষমা করবে না।
সুতরাং ক্ষমতার দরজায় লাইনে দাঁড়িয়ে, নিরাপদ দূরত্বে বসে আর হিসাব কষো না। জনতার কাতারে সামিল হয়ে যাও, সবাইকে নিয়ে শাহবাগে চলে আসো— শহিদ হাদির হত্যাকারিদের বিচারের দাবিতে, আজই।
নাহিদ, “দ্য প্যাট্রিয়ট” কবিতাটা পড়েছ কখন? একটু মনে করিয়ে দিই—
সেখানে এক দেশপ্রেমিককে সবাই মাথায় তুলে রেখেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে তার কাজের কারণেই মানুষের ভালোবাসা নষ্ট হয়ে যায়।
একসময় নানা অভিযোগে তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হচ্ছিল, আর জনতা তার দিকে পাথর আর থুতু ছুঁড়ে মারছিল। তখন সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেছিল—‘Man is unjust but God is Just’ (মানুষ অন্যায়কারী, কিন্তু স্রষ্টা ন্যায়বিচারক) এই কথাগুলো বলেই সে শুধু আকাশের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল। 
এই কবিতার “প্যাট্রিয়ট”-এর মতো শুধু ক্ষমতাকে আকরে ধরতে চাইলে জনতাও তোমাদের আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে মারতে দ্বিধা করবে না—এটা মাথায় রেখে কাজ কর।
প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G