১১ জেলের কাছ থেকে জব্দ ৬০ কেজি ইলিশ বিতরণ করা হলো এতিমখানায়
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার অভিযোগে ১১ জেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রত্যেককে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে ৬০ কেজি ইলিশ ও দুই লাখ ৭৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন।
অভিযানে আটক ১১ জেলে
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে মেঘনা নদীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের অভিযোগে ১১ জেলেকে আটক করা হয়।
পরে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী তাঁদের প্রত্যেককে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট, ইলিশ বিতরণ এতিমখানায়
অভিযানে জব্দ করা দুই লাখ ৭৫ হাজার মিটার জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অন্যদিকে, জব্দ করা ৬০ কেজি ইলিশ স্থানীয় এতিমখানার শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত
কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইন জানান, মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় সরকার নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করতে নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন নদী ও সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ সময়ে মাছ আহরণের পাশাপাশি পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে শাস্তির বিধান
সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের দায়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।
ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞার সময় নদী ও সাগরে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতি / এডি / শাআ
















