ফ্রিজ আধুনিক জীবনে খাবার সংরক্ষণের অন্যতম ভরসা। এতে খাবার দীর্ঘদিন ভালো থাকে, নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং দৈনন্দিন রান্নার কাজ সহজ হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব খাবার ফ্রিজে রাখা নিরাপদ বা উপকারী নয়। বরং কিছু খাবার ঠান্ডা পরিবেশে রাখলে স্বাদ বদলে যায়, পুষ্টিগুণ কমে এবং কখনো কখনো স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
অনেকেই না জেনে প্রায় সব খাবার ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—কিছু সাধারণ খাবার ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলেই ভালো থাকে। জেনে নেওয়া যাক এমন কয়েকটি খাবারের কথা, যেগুলো ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়।
কফি:
অনেকে কফি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ফ্রিজে রাখেন। কিন্তু এতে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। ফ্রিজের ভেতরের আর্দ্রতা ও অন্য খাবারের গন্ধ কফির স্বাদ নষ্ট করে দেয়। কফি রাখার জন্য সবচেয়ে ভালো হলো শুষ্ক, ঠান্ডা নয় এমন জায়গা এবং বায়ুরোধী পাত্র।
আলু:
আলু ফ্রিজে রাখলে এর ভেতরের স্টার্চ দ্রুত চিনিতে পরিণত হয়। ফলে রান্নার সময় স্বাদ ও গঠন দুইই বদলে যায়। ঠান্ডা তাপমাত্রায় আলু শক্ত হয়ে যায় এবং ভাজার সময় অস্বাভাবিক রঙ ধরতে পারে। তাই আলু রাখার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো শুষ্ক ও অন্ধকার কোনো কোণা।
কলা:
ফ্রিজের ঠান্ডা বাতাস কলার খোসা দ্রুত কালো করে ফেলে। এতে অনেকের মনে হয় কলা নষ্ট হয়ে গেছে, যদিও ভেতরের অংশ তখনো ভালো থাকে। কলা স্বাভাবিকভাবে পাকতে দিলে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুইই ভালো থাকে। তাই কলা ঘরের তাপমাত্রাতেই রাখা উচিত।
তরমুজ:
আস্ত তরমুজ ফ্রিজে রাখলে এর পচন প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে এবং স্বাদও বদলে যায়। তরমুজ সাধারণত ঘরের তাপমাত্রায় বেশ ভালোই থাকে। কেটে ফেলার পর অল্প সময়ের জন্য ফ্রিজে রাখা যেতে পারে, তবে আস্ত অবস্থায় নয়।
পেঁয়াজ:
পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখলে নরম হয়ে যায় এবং সহজে পচে। এর জন্য প্রয়োজন খোলা বাতাস চলাচল করে এমন পরিবেশ। পাশাপাশি আলু ও পেঁয়াজ একসঙ্গে রাখলেও দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দুটিই আলাদা জায়গায়, ফ্রিজের বাইরে সংরক্ষণ করাই ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অন্ধভাবে ফ্রিজের ওপর নির্ভর না করে কোন খাবার কোথায় রাখা উচিত—সে বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে খাবারের স্বাদ, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য—সবই সুরক্ষিত থাকে।
প্রতি /এডি /শাআ