পাখির রাজ্যে কিছুসময়!

প্রকাশঃ জুন ২১, ২০১৫ সময়ঃ ১২:০৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

pakhibari2নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে হাঁপিয়ে উঠে নগরের মানুষ। প্রকৃতিকে একটু কাছ থেকে দেখার সুযোগ কমই এ মানুষগুলোর। সেজন্য অবসর পেলেই এরা ছুটে যায় কোন প্রকৃতির মাঝে।

দুটিপাতা একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট। উঁচু-নীচু পাহাড় ও ঝর্না ধারায় পরিপূর্ণ দেশের প্রসিদ্ধ এ নগরীতে শীতের শুরু থেকেই অগনিত পর্যটকের পদভারে হয়ে উঠে মুখরিত। দেশ-বিদেশের অজস্র ভ্রমণ পিপাসুরা প্রতিনিয়তই সিলেটে ছুটে আসেন আনন্দ ভ্রমণ কিংবা শিক্ষা সফরে।আর সিলেটের যতগুলো দর্শনীয়স্থান আছে তার মধ্যে নুরুদ্দিনের পাখিবাড়ী অন্যতম। সিলেট শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে ছালিয়া গ্রাম। সেখানেই নুরুদ্দিনের বাড়ি। বাড়ীর সামনে দাঁড়ালে হঠাৎ থমকে যাবে আপনার নজর। এ যেন পাখির রাজ্য!pakhibari3

বিশাল পাখির অভয়ারন্য। জানা অজানা হাজারো পাখির কলতানে মুখরিত পুরো বাগান। মুহুর্তের মাঝে আপনি পুরো স্বপ্নের জগতে চলে যাবেন। ব্যক্তি উদ্দ্যোগে এমন অসাধারন অভয়ারন্য তৈরি করা যায় সেটা চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করা যাবে না।

যারা পাখি ভালবাসেন, ভালবাসেন নিরিবিলি পরিবেশ কিংবা বুনো জগত তাদের জন্য একটি আদর্শ জায়গা হল নুরুদ্দিনের পাখিবাড়ী। শুধু দেখার জন্য নয় এমন একটি আদর্শ ব্যক্তির সৃষ্টি নিজ চোখে দেখা আমাদের একান্তই নৈতিক দায়িত্বে পরিনত হয়েছে।

যেখানে মানুষ নির্বিচারে পাখি নিধন করছে সেখানে আর একজন তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টায় মত্ত হয়েছে। অন্তত একবার সাধুবাদ দেবার জন্য হলেও সেখানে যাওয়া উচিত।pakhibari5

নুরুদ্দিন! বাজারে গেলেই পাখি কিনতেন। কখনো এক জোড়া, কখনো চার-পাঁচ জোড়া। বাড়িতে এনে সেগুলোকে ছেড়ে দিতেন। বলতেন, পাখির জায়গা খাঁচায় না, আকাশে। কিছু পাখি তাঁর তিন একর বাড়ির গাছগাছালিতে থেকে যেত। আর তাদের দেখাদেখি আরো কিছু পাখি আসতে থাকে,এভাবে একসময় হয়ে যায় পাখির অভয়ারন্য। পাখি চুরি ঠেকাতে পাহারা বসান নুরুদ্দিন। এই মহান লোকটি এখন আর বেঁচে নেই। নুরুদ্দিন মারা যাবার পর তাঁর ছেলে এমদাদুল হক পাখি দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। তবে বাড়িতে বক জাতীয় পাখিই বেশি। শীতে অতিথি পাখিও আসে। এরা সারা দিন বিলে খাবার খুঁজে সন্ধ্যায় নুরুদ্দিনের বাড়িতে এসে আড্ডা জমায়।

সিলেট ঘুরতে এসে এমন একটি জায়গা না দেখে গেলে ভ্রমনটাই অসম্পূর্ন থেকে যাবে। তাই চলে আসুন নুরুদ্দিনের পাখিবাড়ীতে। যেভাবে যেতে হবে: সিলেট থেকে অটোরিক্সা, নিজস্ব গাড়ী বা সি.এন.জি নিয়ে যাওয়া যায় ছালিয়া গ্রামে। তবে সিলেট থেকে আপনাকে সিএনজি ভাড়া গুনতে হবে ১৫০ টাকা।

প্রতিক্ষণ/এডি/জহির

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

March 2026
SSMTWTF
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031 
20G