পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ শুক্রে প্রাণের ইঙ্গিত পেলেন বিজ্ঞানীরা

প্রকাশঃ এপ্রিল ৯, ২০২৬ সময়ঃ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ শুক্রকে সাধারণত ‘সন্ধ্যাতারা’ বা ‘শুকতারা’ হিসেবে আমরা আকাশে দেখি। সৌরজগতের ক্রম অনুযায়ী বুধের পরে দ্বিতীয় গ্রহ হিসেবে শুক্র অবস্থান করছে। তার বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৫ শতাংশই কার্বন ডাই অক্সাইডে পূর্ণ। এই গ্যাস সাধারণত জীবনধারণের জন্য উপযুক্ত নয়। তবুও, এমআইটির (ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি) বিজ্ঞানীরা শুক্রের বায়ুমণ্ডলে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেছেন যা প্রাণের অনুকূল হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও প্রাণ আছে কি না তা পরীক্ষা করছেন। মঙ্গলের ওপর ইতিপূর্বে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও শুক্রকে কখনো এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

শুক্রের পৃষ্ঠদেশ তপ্ত, গড় তাপমাত্রা প্রায় ৪৬৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বায়ুচাপ পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় ৯২ গুণ বেশি। তাই এই পৃষ্ঠে প্রাণের বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। তবে শুক্রের বায়ুমণ্ডলের উপরের অংশে তাপমাত্রা ০ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, যা জীবনের জন্য অনেক বেশি সহনীয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, শুক্রের মেঘে সালফিউরিক অ্যাসিডের উপস্থিতি জৈব বিক্রিয়ার জন্য সহায়ক হতে পারে। নিউক্লিক অ্যাসিড বেস, ডাইপেপটাইড এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো প্রাণের গঠনকারী এককগুলি এমন অম্লীয় পরিবেশে স্থিতিশীল থাকে। ২০২০ সালে শুক্রের মেঘে ফসফিন যৌগ শনাক্ত হওয়ায় বিজ্ঞানীদের উৎসাহ আরও বেড়েছে। যদিও এটি সরাসরি প্রাণের অস্তিত্ব প্রমাণ করে না, তবুও জীবনের সম্ভাবনার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শুক্রের মেঘ ও বায়ুমণ্ডল নিয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন। তারা আশা করছেন, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে মহাকাশে প্রাণ অনুসন্ধানে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

May 2026
SSMTWTF
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 
20G