সরকারি ওষুধে সয়লাব চট্টগ্রামের ফার্মেসিগুলো

প্রকাশঃ মার্চ ৫, ২০১৭ সময়ঃ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৫২ অপরাহ্ণ

বিপ্লব পার্থ:

সরকারি ও অনুমোদনহীন ওষুধে ভরে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর ফার্মেসিগুলো। এছাড়া নগরীর অধিকাংশ ওষুধের দোকানের লাইসেন্স নেই।

২০১৫ সালে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কারণে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও বর্তমানে আবারও সরকারি ওষুধে ভরে গেছে ফার্মেসিগুলো।

এজন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন সচেতন মহল। তাদের দাবি, ফের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ফার্মেসিগুলোতে নজরদারি করলে এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তৎকালীন আরডিসি(বর্তমানে সীতাকুন্ড উপজেলার এসিল্যান্ড) মোহাম্মদ রুহুল আমীন। সে সময় পাঁচ মাস অভিযান চালিয়ে তিনি ১৩৬টি ফার্মেসির মধ্যে ১২৬টিতেই সরকারি বিক্রয় নিষিদ্ধ, অননুমোদিত ও বিক্রি অযোগ্য ওষুধ পান। অভিযানে এসব ফার্মেসি থেকে জরিমানা আদায় করা হয় ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ টাকা। জব্দ করা হয় একটি লাইসেন্স ও ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার ওষুধ। এছাড়াও সিলগালা করে দেয়া হয়েছে ২৫টি দোকান। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর নগরীর হাজারি গলিতে অভিযান পরিচালনাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপর হামলা করে ওষুধ ব্যবসায়ীরা। এরপর থেকে থমকে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেটুপি কালেক্টর রুহুল আমীনও বদলি হয়ে সীতাকুন্ড উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। এসব কারণে ভাটা পড়ে যায় ওষুধের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঝটিকা অভিযান।

একটি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালের ওষুধ ডাক্তার-নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ফার্মেসিতে। এ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ওষুধ বিক্রির সিন্ডিকেটও রয়েছে। সিন্ডিকেটের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ওষুধ বের করে এনে ফার্মেসিতে বিক্রি করছে। বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতাল থেকে সন্ধ্যার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি ওষুধ বের করে আনেন নানা কৌশলে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, ফৌজদারহাট বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক থেকেও এভাবে ওষুধ চুরি করা হচ্ছে। এ চক্রের সাথে সরকারের উপরের স্তরের কর্মকর্তারাও জড়িত বলে জানা গেছে।

ড্রাগ (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২-এর ১৮ ধারা অনুযায়ী ফার্মেসির লাইসেন্স না থাকলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদন্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা যেতে পারে। অন্যদিকে এ আইনের ২০ ধারায় সরকারি মজুদ, হাসপাতাল, ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ রাখা বা বিক্রিকে চুরি হিসেবে আখ্যায়িত করে, সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর অধিকাংশ ফার্মেসিতে লাইসেন্স নেই। এরপরও অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। সূত্র জানায়, ওষুধ প্রশাসনের কর্মকতাদের যোগসাজশে চলে এ ব্যবসা। এজন্য মাসিক মাসোহারাও পান এ বিভাগের কর্মকর্তারা। ফলে লাইসেন্সবিহীন ওষুধের দোকানের বিরুদ্ধে নেই কোনো কঠোর ব্যবস্থা।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওষুধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক মাখনুওন তাবাসসুম প্রতিক্ষণকে বলেন, ‘মাসোয়ারা নেয়ার ঘটনাটি সত্য নয়। তবে অনেক ফার্মেসি লাইসেন্স ছাড়া তাদের দোকান পরিচালনা করে। আমরা বিষয়টি জানতে পারলে অভিযান চালিয়ে তা সিলগালা করি’।

মোহাম্মদ এরশাদুল আলম নামে এক চাকুরীজীবী প্রতিক্ষণকে বলেন, ২০১৫ সালে ওষুধের দোকানগুলোতে ঘন ঘন অভিযান পরিচালনা হতো। এ কারণে অভিযানে ওষুধের দোকান মালিকদের অপকর্মগুলোও ফুটে উঠতো। কিন্তু কী কারণে তা বন্ধ করে দেয়া হলো তা সকলের প্রশ্ন। অবিলম্বে আবার টিম করে ওষুধের দোকানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন প্রতিক্ষণকে জানান, ‘সরকারি ওষুধ বিক্রয় ও লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসিগুলোর বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযান পরিচালিত হবে। ২০১৫ সালে আমি এখানে জেলা প্রশাসক ছিলাম না। তখন কী কারণে অভিযান বন্ধ করা হয়েছিল আমার জানা নেই।’

প্রতিক্ষণ/এডি/শাআ

 

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

April 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
20G