ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির আভাসে বিশ্ববাজারে চাপে ডলার

প্রকাশঃ মে ২৯, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৫৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক মুদ্রা ও জ্বালানি বাজারে।

শুক্রবার এশিয়ার বাজারে প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের মান কিছুটা কমে যায়। একই সময়ে তেলের দামও নিম্নমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা আগের তুলনায় কমেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা একটি সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাস বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করার আলোচনা চলছে।

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও বর্তমানে বাজার কিছুটা ইতিবাচক সংকেত পাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে এখনো সতর্ক অবস্থান রয়েছে।

শুক্রবারের লেনদেনে ইউরোর মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.১৬৫৩ ডলারে। ব্রিটিশ পাউন্ড প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ১.৩৪৪৫ ডলারে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলীয় ডলারের দর ছিল ০.৭১৬৪ মার্কিন ডলার। নিউজিল্যান্ড ডলারও সামান্য শক্তিশালী হয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের অবস্থান পরিমাপের সূচক ‘ডলার ইনডেক্স’ শুক্রবার ৯৮.৯৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। আগের দিনের তুলনায় সূচকটি খুব বেশি পরিবর্তন না হলেও চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে এর মান কমতির দিকে রয়েছে।

ইউবিএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বৈশ্বিক বাজার কৌশল বিভাগের প্রধান মাসিমিলিয়ানো কাস্তেল্লি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমে গেলে ডলারের দুর্বলতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাতের সময় নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের প্রতি আগ্রহ বাড়লেও বর্তমানে অনেক বিনিয়োগকারী বিনিয়োগের ঝুঁকি ভাগ করে নিতে বিকল্প সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডেও বিনিয়োগ কমছে।

ডলারের দুর্বলতার প্রভাবে জাপানি ইয়েনও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৫৯.২৭ ইয়েন লেনদেন হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েনের জন্য ১৬০ একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সীমা হিসেবে বিবেচিত হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে থাকায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আপাতত অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

[fbcomments]

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G