ওজন কমার পর ঝুলে যাওয়া ত্বক ঠিক করার উপায়

প্রকাশঃ মে ৬, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

ওজন কমানো অনেকের কাছেই বড় অর্জন। কিন্তু মেদ ঝরার পর অনেকেই নতুন এক সমস্যার মুখে পড়েন, আর তা হলো ত্বক ঢিলে বা ঝুলে যাওয়া। শরীরের ওজন কমলেও ত্বকের টানটান ভাব কমে গেলে পুরো গড়নে একটা আলগা ভাব চলে আসে, যা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর মনে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমার পর ত্বক ঝুলে যাওয়া খুবই সাধারণ একটি বিষয়। বিশেষ করে অল্প সময়ে দ্রুত ওজন কমলে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। কারণ, শরীরে জমে থাকা চর্বি ত্বকের নিচে একটি ভর তৈরি করে, যা ত্বককে টানটান রাখে। সেই চর্বি দ্রুত কমে গেলে ত্বকের নিচে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, আর তখনই ত্বক ঢিলে হয়ে পড়ে।

কেন ওজন কমলে ত্বক ঝুলে যায়

ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখতে মূল ভূমিকা রাখে কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামের দুটি প্রোটিন। এই উপাদানগুলো ত্বককে নমনীয় ও দৃঢ় রাখতে সাহায্য করে।

যখন শরীরে ওজন বাড়ে, তখন ত্বক ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়। কিন্তু দ্রুত ওজন কমে গেলে সেই বাড়তি ত্বক আগের অবস্থায় ফিরে আসার জন্য যথেষ্ট সময় পায় না। ফলে ত্বক ঝুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

দীর্ঘদিন শরীরে অতিরিক্ত মেদ থাকলেও ত্বক বেশি প্রসারিত হয়ে যায়। তখন ওজন কমার পর সেটি আগের মতো সহজে সঙ্কুচিত হতে পারে না।

বয়সও বড় কারণ

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোলাজেন ও ইলাস্টিন উৎপাদন কমতে থাকে। ফলে ত্বকের স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতাও কমে যায়। এ কারণে কম বয়সীদের তুলনায় বয়স্কদের ত্বক ওজন কমার পর বেশি ঝুলে পড়তে পারে।

শুধু চর্বি নয়, অনেক সময় ওজন কমানোর সময় পেশিও কমে যায়। এতে শরীর আরও ঢিলে দেখায়। বিশেষ করে বাহু, পেট, উরু ও ঘাড়ের অংশে এ পরিবর্তন বেশি চোখে পড়ে।

যাদের ঝুঁকি বেশি

ত্বক কতটা ঝুলে যাবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। এটি নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। যেমন:

  • কত দ্রুত ওজন কমানো হয়েছে
  • কত দিন ধরে শরীরে অতিরিক্ত মেদ ছিল
  • বয়স কত
  • খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন ছিল কি না
  • শরীরচর্চা করা হয়েছে কি না
  • ধূমপানের অভ্যাস আছে কি না

বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতিরিক্ত ধূমপান ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে। এতে ত্বক দ্রুত ঢিলে হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

কী করলে ত্বক টানটান রাখা যায়

ওজন কমানোর সময় শুধু ডায়েট করলেই হবে না, শরীরচর্চাও জরুরি। বিশেষ করে রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং বা পেশিশক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম খুবই কার্যকর। এটি পেশি ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে শরীরের গড়নও ভালো থাকে।

ধীরে ধীরে ওজন কমানো ত্বকের জন্য ভালো। এতে ত্বক নতুন গড়নের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় পায়।

প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা জরুরি। কারণ কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরিতে প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়ামও ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে।

চিকিৎসায় কী করা যায়

অস্ত্রোপচার ছাড়াও কিছু চিকিৎসা পদ্ধতিতে ত্বকের টান কিছুটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এর মধ্যে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডভিত্তিক কিছু চিকিৎসা ত্বকে কোলাজেন ও ইলাস্টিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে।

তবে এসব পদ্ধতি নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ধীরে ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে ওজন কমান

ওজন কমানো ভালো, তবে সেটি হতে হবে ধীরে, নিয়ম মেনে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে। অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করে ওজন কমালে শরীরের গড়ন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ত্বক ঝুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত প্রোটিন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ধীরে ধীরে ওজন কমানোর অভ্যাসই পারে এই সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনতে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G