চার মাস সংরক্ষণের পর খামেনিকে শেষ বিদায়, যেভাবে রাখা হয়েছিল মরদেহ

প্রকাশঃ জুলাই ৩, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর চার মাসের বেশি সময় পর তার দাফনের প্রস্তুতি চলছে। ৯ জুলাই নির্ধারিত এই দাফনকে ঘিরে তেহরানে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্ভাব্য বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে বাসিজ বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পর দাফনের আয়োজন হওয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে তার মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী শরিয়তে সাধারণত মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব দাফনের নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে রাসায়নিক উপায়ে মরদেহ সংরক্ষণকে নিরুৎসাহিত করা হয়। তাই খামেনির মরদেহ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শীতলীকরণ বা রেফ্রিজারেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক গবেষক ড. মোহাম্মদ ওমর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণের পরিবর্তে হিমায়িত অবস্থায় রাখা হয়েছে বলেই তার ধারণা। কারণ ইসলামী বিধানে রাসায়নিক সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য নয়।

তার ভাষ্য, বিশেষ পরিস্থিতিতে শিয়া ফিকহ অনুযায়ী দাফন বিলম্বিত করা এবং শীতলীকরণ ব্যবস্থায় মরদেহ সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ক্ষেত্রে এমন ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আরও বেশি।

তিনি আরও বলেন, ইরানের ফরেনসিক মর্গে প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের নজির রয়েছে। তাই কয়েক মাস ধরে হিমায়িত অবস্থায় মরদেহ রাখা অস্বাভাবিক নয় এবং এটি ধর্মীয় ও আইনি কাঠামোর মধ্যেই সম্ভব।

ড. মোহাম্মদ ওমরের মতে, জনসমক্ষে প্রদর্শনের জন্য মরদেহ সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় নাও থাকতে পারে। তার দাবি, বাঙ্কার বিধ্বংসী হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়েছিল। যদি মরদেহ অক্ষত থাকত, তাহলে শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান, দাফনের স্থান কিংবা সময় নিয়ে এত পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অপারেশন এপিক ফিউরি-এর অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনি নিহত হন। তিনি টানা ৩৬ বছর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দাফনের আগে শনিবার ও রোববার তেহরানে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রায় দেড় থেকে দুই কোটির মতো মানুষ অংশ নিতে পারেন। পরদিন শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র শহর কুমেও আরেকটি শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ড. মোহাম্মদ ওমরের মতে, তেহরানসহ দেশজুড়ে কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং হাজারো আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের আগ্রহ এই আয়োজনকে শুধু একটি দাফন অনুষ্ঠান নয়, বরং রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্বসম্পন্ন একটি ঘটনায় পরিণত করেছে।

প্রতি / এডি / শাআ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G