বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক, যেভাবে আবেদন করবেন ব্যবসায়ীরা

প্রকাশঃ জুলাই ৩, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

দেশে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ, নিরাপদ ও বিস্তৃত করতে বাধ্যতামূলকভাবে চালু করা হয়েছে বাংলা কিউআর। এর মাধ্যমে নগদ টাকার ব্যবহার কমানো, ছেঁড়া-ফাটা নোট, খুচরা টাকার সংকট এবং জাল নোটের ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি ক্যাশলেস লেনদেনকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা কিউআর একটি একীভূত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর আওতায় পর্যায়ক্রমে ট্রেড লাইসেন্স ফি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন, হাসপাতালের বিল, পরিবহন টোলসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবার অর্থও ডিজিটালভাবে পরিশোধের সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলা কিউআর চালুর ফলে বড় শপিং মল, সুপারশপ, ছোট দোকান কিংবা ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সবাই একই ধরনের কিউআর কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা কিউআর ব্যবহারের প্রয়োজন থাকবে না।

এই ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো কম খরচে সহজে ব্যবহার করা যায়। যেখানে কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের জন্য ব্যয়বহুল পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন প্রয়োজন হয়, সেখানে বাংলা কিউআরের ক্ষেত্রে একটি কিউআর স্টিকারই যথেষ্ট। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও সহজেই ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারবেন।

যেভাবে আবেদন করবেন

বাংলা কিউআর সংগ্রহ করতে আগ্রহী ব্যবসায়ীকে প্রথমে যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে একটি সেভিংস, কারেন্ট অথবা এসএনডি (SND) হিসাব থাকতে হবে।

এরপর নিজের নামে ব্যাংক হিসাব এবং বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় জমা দিতে হবে। আবেদন গ্রহণের পর ব্যাংক প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সেটি সংশ্লিষ্ট কার্ড বিভাগে পাঠাবে।

সাধারণত তিন থেকে চার কার্যদিবসের মধ্যে কিউআর কোড প্রস্তুত হয়। এরপর এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনকারীকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে ব্যাংকের সিএমএস সফটওয়্যারে কিউআর কোড আপলোড হলে ব্যবসায়ী সেটি প্রিন্ট করে দোকান বা প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন করতে পারবেন।

আবেদন করতে যেসব কাগজপত্র লাগবে

বাংলাদেশ ব্যাংক মাসিক লেনদেনের পরিমাণ অনুযায়ী মার্চেন্টদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে।

মাইক্রো মার্চেন্ট (মাসিক লেনদেন ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত):

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • এক কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি

রেগুলার মার্চেন্ট (মাসিক লেনদেন ১০ লাখ টাকার বেশি):

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • ই-টিন সনদ
  • সর্বশেষ করবর্ষের টিন রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা রিটার্ন জমার স্লিপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, বাংলা কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। একই সঙ্গে ছোট থেকে বড় সব ধরনের ব্যবসায়ী কম খরচে ক্যাশলেস লেনদেনের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G