নতুন পে স্কেল চালুর প্রস্তুতি, ১ জুলাই থেকে তিন ধাপে বাস্তবায়ন

প্রকাশঃ মে ২১, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৪২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৪২ অপরাহ্ণ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল চালুর পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে কাজ এগোচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছর থেকে মূল বেতনের একটি বড় অংশ বৃদ্ধি করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট বেতন বৃদ্ধি এবং বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয় করা হবে।

এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেলও ধাপে ধাপে কার্যকর করা হয়েছিল। তখন প্রথমে মূল বেতন বাড়ানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে ভাতার নতুন হার কার্যকর হয়।

বাজেটে বড় বরাদ্দের প্রস্তুতি

নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য আগামী বাজেটে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। পুরো পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় এক লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে হিসাব করা হচ্ছে।

এর মধ্যে বড় অংশ ব্যয় হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ। পাশাপাশি পেনশনার ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে।

কেন দেরি হলো?

নবম পে কমিশন চলতি বছর থেকেই আংশিক বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম রাজস্ব আদায়ের কারণে বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায়।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ এড়াতে ধীরে ধীরে এই কাঠামো কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

নতুন প্রস্তাবিত পে স্কেলে মোট ২০টি গ্রেড রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। একইসঙ্গে উচ্চ গ্রেডের বেতনও প্রায় দ্বিগুণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পে কমিশনের মতে, গত এক দশকে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এই নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় যেন মূল্যস্ফীতির কারণে কমে না যায়।

বাড়বে সরকারের ব্যয়

বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনারদের পেছনে সরকারের বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নতুন পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হলে এই ব্যয় আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, একদিকে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে সরকারের জন্যও এটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

[fbcomments]

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G