ফ্যাশনে শারদ
প্রতিক্ষণ ডেস্ক
এই সাদা-লালের বিশেষত্ব সম্পর্কে অনেকে মনে করেন, লাল হলো শক্তি আর উৎসবের প্রতীক আর সাদা প্রতিনিধিত্ব করে পবিত্রতার। অঞ্জলি দানের সময় ভক্তের একাগ্র মানসিক শক্তির যোগ এবং পুরো প্রক্রিয়ার ধর্মীয় পবিত্রতা মিলেমিশে উঠে আসে পোশাকে। তবে সর্বজনীন দুর্গোৎসব মোট পাঁচ দিনের হওয়ায় ঐতিহ্য রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে ইচ্ছেমতো ফ্যাশনেবলও হয়ে ওঠা যায়। উৎসব সব সময়ই রঙিন। তবে এর রূপ প্রকৃতিভেদে আলাদা। যেমন গেরুয়া, কমলা, সবুজ, বেগুনি, ম্যাজেন্টা- সবই শরতের সাদা মেঘের নিচে চমৎকার খেলে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা ভারতীয় চ্যানেলের প্রভাব- যা-ই হোক না কেন, পশ্চিমবঙ্গের ছাপ বাংলাদেশের দুর্গোৎসবের পোশাকে দশ বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। ফ্যাশন ডিজাইনাররা যেহেতু ফিউশন করতে চান, তাঁদের নকশা কিছু ক্ষেত্রে পশ্চিম বাংলায় পূজার ফ্যাশনের সঙ্গে মিলে যায়। এর ভালো দিক হচ্ছে, সর্বজনীন শারদ উৎসবের চেহারা সবখানে একই থাকছে।
দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোর আবির্ভাব এবং জনপ্রিয় হয়ে ওঠার আগে পূজাকেন্দ্রিক ভিন্নমাত্রার পোশাক তৈরির প্রবণতা ছিল না। দেশি ফ্যাশন হাউজের ডিজাইনার আর আমাদের বয়নশিল্পীদের মিলিত উদ্যোগে এখন বাজারে আসছে পূজার জন্য স্পেশাল আউটফিট। বছরের কোন সময়টাতে পূজা, হাল ফ্যাশন, চলতি বছরে রঙের প্রাধান্য- সবদিক মাথায় রেখে শারদ উৎসবে মানানসই পোশাক তৈরি করে রাখছে ফ্যাশন হাউজগুলো, উৎসবের অন্তত এক মাস আগে থেকেই। কয়েক বছর ধরে ঈদ ও পূজার সময়ের মাঝে বেশ ব্যবধান থাকায় ঈদের ফ্যাশনকে পূজার ফ্যাশন বলে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও বাজার ঘুরে দেখা যায় না; বরং ঈদের বেচাকেনা শেষে ফ্যাশন হাউজগুলোসহ অন্যান্য বিপণিবিতানও পূজা উপলক্ষে ডিজাইন করা পোশাকের সম্ভারে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে চায়।
ট্র্যাডিশনাল অথচ ফ্যাশনেবল এবং রঙের বৈচিত্র্য থাকবে, এমন পোশাকের চল বাঙালির মাঝে নিয়ে এসেছে দেশি ফ্যাশন হাউজগুলো। সুতি, গরদ, জামদানি, তাঁত, তসর ইত্যাদি ট্র্যাডিশনাল ফ্যাব্রিক ব্যবহার করে এখন আন্তর্জাতিক ফ্যাশনকে মাথায় রেখে পূজার পোশাক ডিজাইন করছে তারা; সঙ্গে শাড়ি তো থাকছেই। লাল পেড়ে সাদা শাড়ির জমিনে অথবা গেরুয়া শাড়ির আঁচলে পূজাভিত্তিক কিছু মোটিফ প্রিন্ট বা ব্লক করা হয়েছে। মাঝবয়সীদের জন্য তাঁতের শাড়িতে চওড়া পাড় আর গোল্ডেন জরির ব্যবহার এবং জামদানির বুনন ও রঙে বৈচিত্র্য থাকছে।-তরুণ-তরুণীদের পূজার পোশাকের বেলায় সবচেয়ে বেশি মুনশিয়ানা দেখায় ফ্যাশন হাউজগুলো। কেননা এই উৎসব ঘিরে উচ্ছ্বাস সবচেয়ে বেশি থাকে তাদেরই, হোক সে সনাতন বা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী। পূজার অপ্রচলিত মোটিফ ব্যবহার করে ডিজাইন করা পোশাক কেবল এ সময়ই পাওয়া যায়। এবার ফ্যাশন হাউজ উপলক্ষে ঘুরে সালোয়ার-কামিজে লাল রঙের প্রাধান্য দেখতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া গেরুয়া পাঞ্জাবিতে লাল সাদা ছোট প্রিন্ট, সাদা ও লাল পাঞ্জাবি, বাচ্চাদের জন্য ফতুয়াসহ হাফসিল্ক এগুলোর পরিমাণ চোখে পড়ার মতো।
সাধারণত ঈদের পরপর যেহেতু পূজা আসে, তাই পূজার কালেকশনে ঈদের কিছুটা রেশ থাকে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। ফ্যাশন হাউজগুলোর পূজা কালেকশনে থাকছে। সব বয়সী ক্রেতার জন্য পূজার পোশাক আনা হয়েছে। বেশির ভাগ ড্রেসে সুতির ব্যবহার লক্ষণীয়। যেমন সকালের রোদে পূজার অর্চনা দিতে যাওয়ার সময় একটু পাতলা ও সুতি ফ্যাব্রিকের পোশাকগুলো মানুষের প্রধান পছন্দ। রাতের বেলা পূজামণ্ডপ ও পার্টির জন্য একটু গর্জাস লুকের দরকার হয়। সে জন্য সিল্কের ব্যবহার বেশি। শাড়ি, কামিজ, শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ইত্যাদি পোশাক থাকছে এবারের কালেকশনে। সঙ্গে যদি থাকে মেটাল বিডস, অক্সি, গোল্ড প্লেটেড ও মিক্সড মিডিয়ার গয়না, তবে সেটা পূজার পোশাকে আনবে বাড়তি আকর্ষণ।
পূজার পাঁচ দিন শরতের হালকা ঠান্ডা হাওয়া বাঙালিকে উৎসবের আমেজে নিজের মতো করে ফ্যাশনেবল হয়ে উঠতে খুব সাহায্য করে। অনুকূল আবহাওয়ায় পাঁচ দিন পাঁচ পোশাক নয়, বরং পাঁচ রকম লুকে সবাই উৎসবে মেতে উঠুক- সে প্রচেষ্টাই থাকে ফ্যাশন কারিগরদের।
ঈদের মতো পূজাও যে বাঙালির প্রধান এক উৎসব, তা অনুভূত হয় ফ্যাশন হাউজগুলোর সক্রিয়তা থেকেও। দুর্গোৎসব সত্যিকার অর্থেই সবার জন্য নতুন আউটফিটে ফ্যাশনেবল হয়ে ওঠার উপলক্ষ।
প্রতিক্ষণ/এডি/এসএবি



















