যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে পাকিস্তান

প্রকাশঃ এপ্রিল ৮, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান—এমন ইঙ্গিত মিলছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো থেকে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগে থেকেই পর্দার আড়ালে দ্রুতগতিতে আলোচনা চলছিল, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ছিল ইসলামাবাদ।

বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে খুব ছোট কিন্তু দক্ষ একটি দল এই আলোচনায় যুক্ত ছিল। তারা অত্যন্ত সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমাধানের আশায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।

মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে সেতুবন্ধনের কাজ করেছে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ—দুই দিকই কাজে লাগিয়েছে দেশটি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনিরের প্রশংসা করে তাকে ‘বিশ্বস্ত সামরিক নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, ইরান সম্পর্কে তার ভালো বোঝাপড়া রয়েছে।

উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনা

যদিও আলোচনার অগ্রগতি হচ্ছিল, তবুও পরিস্থিতি ছিল অনিশ্চিত। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক বক্তব্যে বলেন, তারা ইতিবাচক অগ্রগতির আশা দেখছিলেন, তবে ঘটনাপ্রবাহ যেকোনো সময় পাল্টে যেতে পারত।

ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা নতুন করে বাড়ে। বিশেষ করে সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় পাকিস্তান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।

শেষ মুহূর্তের তৎপরতা

রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে জানান, আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং দ্রুত অগ্রগতি হতে পারে।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং ইরানকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার অনুরোধ করেন।

ইরানের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মেলে। দেশটির রাষ্ট্রদূত এক বার্তায় জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে।

যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

ভোরের দিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। পাশাপাশি দুই পক্ষকে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়, যাতে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যায়।

তবে এখনো পুরো পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তান আলোচনা শুরু করতে সক্ষম হলেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G