সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের পরাজয়

প্রকাশঃ মে ২২, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৪১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৪১ অপরাহ্ণ

সিন্ধু পানি চুক্তিকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধে আন্তর্জাতিক আদালত পাকিস্তানের দাবির পক্ষে রায় দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন (পিসিএ) ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত পাকিস্তানের আপত্তিকে সমর্থন করেছে।

আদালত তাদের আগের অবস্থান বহাল রেখে জানিয়েছে, ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত ‘ইন্দাস ওয়াটার্স ট্রিটি’ বা সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং ভারত একতরফাভাবে এটি স্থগিত করতে পারে না।

পাকিস্তানের অভিযোগ ছিল, কাশ্মীর অঞ্চলের রাতলে ও কিশেঙ্গাঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এমন কিছু অবকাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভারত অস্থায়ীভাবে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ বা আটকে রাখার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। বিশেষ করে ‘পন্ডেজ’ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে ইসলামাবাদের আশঙ্কা।

রায়ের পর পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, আদালতের সিদ্ধান্ত তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। তাদের দাবি, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে ভারতের নিয়ন্ত্রণক্ষমতার ওপর এই চুক্তি স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।

অন্যদিকে ভারত পিসিএর এই সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ভারত এই সালিশি প্রক্রিয়াকে বৈধ বলে মনে করে না এবং আদালতের কোনো রায় বা সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দেয় না। একই সঙ্গে ভারত জানায়, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও বহাল থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে পাকিস্তানের অবস্থানকে শক্তিশালী করলেও ভারত-পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে বাস্তব প্রয়োগে জটিলতা থেকেই যাবে।

পানি আইন ও নীতিবিষয়ক গবেষক ইরুম সাত্তার বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তির কাঠামো মানতে কোনো পক্ষ অস্বীকৃতি জানালে সেই চুক্তির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। তার মতে, স্বল্পমেয়াদে ভারত আগের অবস্থানেই থাকতে পারে এবং পাকিস্তানকে কূটনৈতিক ও আইনি চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত বছরের সংঘাতের পর কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং দুই দেশই একে অপরের বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে।

তবে ভারতের কিছু রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করার পক্ষে বক্তব্যও সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে ন্যূনতম কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অনাগ্রহী থাকলেও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন কাজে লাগিয়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল অব্যাহত রাখবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G