পোস্টার ছাড়াই নির্বাচনী প্রচারণা, আচরণবিধিতে কড়াকড়ি ইসির
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণার নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী, এবার কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী ভোটের প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম পোস্টারবিহীন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সংশোধিত আচরণবিধিতে আরও বলা হয়েছে, লিফলেট, ব্যানার বা ফেস্টুনে রাজনৈতিক দলের প্রধান ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি প্রচারণায় হেলিকপ্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তবে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই সুবিধা পাবেন।
ইসি জানিয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রচারণা ঘিরে সংঘাত এড়াতেই পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোস্টারের লেমিনেশন থেকে জলাবদ্ধতা, কালি থেকে ফসলের ক্ষতি এবং পোস্টার লাগানো নিয়ে বিরোধ—এসব বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
যদিও পোস্টার নিষিদ্ধ, তবে প্রার্থীরা লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ব্যবহার করতে পারবেন। তবে সেগুলো কোনো দেয়াল, গাছ, সরকারি স্থাপনা, বিদ্যুৎ খুঁটি বা যানবাহনে লাগানো যাবে না। একই সঙ্গে মিছিল, শোডাউন, মোটরসাইকেল বা গাড়িবহরসহ যেকোনো ধরনের যান্ত্রিক বাহন ব্যবহার করেও প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এবার প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার জন্য আলাদা নিয়ম যুক্ত করেছে ইসি। প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট দলকে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় বিভ্রান্তিকর তথ্য, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে জরিমানা থেকে শুরু করে প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে বিধি ভাঙার অভিযোগে কয়েকজন প্রার্থীকে জরিমানাও করা হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “নির্বাচনকে সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আচরণবিধি ভাঙলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”













