প্লাস্টিকের বোতলের অদৃশ্য ঝুঁকি, গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য
থাইল্যান্ডের ফি ফি দ্বীপে ভ্রমণের সময় প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহ চিত্র দেখে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন পরিবেশ গবেষক সারা সাজেদি। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে প্লাস্টিকের বোতলের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে।
কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতে ডক্টরাল গবেষণার অংশ হিসেবে প্রায় ১৪০টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিশ্লেষণ করে সারা সাজেদি দেখান, একজন মানুষ খাবার ও পানির মাধ্যমে বছরে গড়ে ৩৯ থেকে ৫২ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শরীরে গ্রহণ করে। তবে যারা নিয়মিত বোতলজাত পানি পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা আরও প্রায় ৯০ হাজার পর্যন্ত বেড়ে যায়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের বোতল তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিবহনের সময় অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পানিতে মিশে যায়। বিশেষ করে তাপ বা রোদে এসব কণা বেশি নির্গত হয়। এগুলো খালি চোখে দেখা না গেলেও শরীরে ঢুকে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পৌঁছাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ, হরমোনজনিত সমস্যা, প্রজননক্ষমতা হ্রাস এবং স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু গবেষণায় ক্যানসারের ঝুঁকির ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
সারা সাজেদির পরামর্শ, জরুরি পরিস্থিতিতে বোতলজাত পানি গ্রহণ করা গেলেও দৈনন্দিন অভ্যাস হিসেবে প্লাস্টিকের বোতলের ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি। নিরাপদ পানির বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষকেরা।
প্রতি /এডি /শাআ












