জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে স্বস্তির খবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী
আগামী মে মাস পর্যন্ত দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণে কোনো ঘাটতি হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের আনা একটি আলোচনার জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ছিল খুবই সীমিত, যা দিয়ে মাত্র কয়েক দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। পরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস ও পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি জানান, বর্তমানে শুধু মে মাস নয়, জুন ও জুলাই মাসের চাহিদা মেটানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে জ্বালানির মূল্য ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে সীমিত হারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন ও সেচ ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রথম দিকের সময় দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদে তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও পাচারের চেষ্টা চলছে। কোথাও গোপনভাবে বড় পরিমাণ ডিজেল সংরক্ষণ, আবার কোথাও বিভিন্ন কৌশলে পাচারের ঘটনা পাওয়া যাচ্ছে। এসব রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ করতে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে নতুন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে।
তিনি বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, জ্বালানি সংকট কোনো এককভাবে সমাধানের বিষয় নয়, এটি সম্মিলিত উদ্যোগে মোকাবিলা করতে হবে। প্রয়োজনে আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো কার্যকর প্রস্তাব গ্রহণে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতি / এডি / শাআ









