সন্তান কি আপনার অবাধ্য? জেনে নিন বাধ্য করার ৬ কার্যকর উপায়

প্রকাশঃ জুন ১, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৫৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

বাড়িতে ছোট শিশু থাকলে প্রায়ই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যখন তারা বাবা-মায়ের কথা শুনতে চায় না। কখনো খেলায় ব্যস্ত, কখনো কার্টুনে ডুবে থাকা কিংবা নিজের কল্পনার জগতে মগ্ন থাকার কারণে তারা নির্দেশ এড়িয়ে যায়। এতে অনেক অভিভাবক বিরক্ত হয়ে পড়েন, ধৈর্য হারান, এমনকি চিৎকারও করে বসেন।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, সবসময় শিশুদের অবাধ্যতা এর কারণ নয়। অনেক সময় বড়দের কথা বলার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটু ভিন্নভাবে কথা বললে শিশুরা অনেক বেশি মনোযোগী হতে পারে এবং নির্দেশ সহজে বুঝতে পারে।

একসঙ্গে অনেক নির্দেশ দেবেন না

ছোট শিশুদের একসঙ্গে অনেক কাজ করতে বললে তারা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। যেমন, টিভি বন্ধ করা, জামা বদলানো, হাত ধোয়া এবং দাঁত ব্রাশ করার মতো কয়েকটি নির্দেশ একবারে দিলে সব মনে রাখা কঠিন হয়।

তাই ধাপে ধাপে বলুন। আগে একটি কাজ শেষ করতে বলুন, তারপর পরের নির্দেশ দিন। এতে শিশু সহজে বুঝতে ও অনুসরণ করতে পারে।

ছোট ও স্পষ্টভাবে কথা বলুন

অনেক অভিভাবক মূল কথার আগে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দিতে থাকেন। এতে শিশু আসল নির্দেশটাই ভুলে যেতে পারে।

তার বদলে সংক্ষিপ্ত ও পরিষ্কারভাবে বলুন। যেমন, “এখন জুতা পরে নাও” বা “খাবার খেতে বসো।” এতে শিশুর মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

দূর থেকে চিৎকার না করে সামনে গিয়ে বলুন

অন্য ঘর থেকে বারবার ডাকাডাকি করলে অনেক সময় শিশু শুনলেও গুরুত্ব দেয় না। তাই তার কাছে গিয়ে চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। প্রয়োজনে আলতোভাবে স্পর্শ করুন।

এতে শিশু বুঝতে পারে আপনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলছেন এবং সে মনোযোগ দেয়।

একই কথা বারবার বলবেন না

একই নির্দেশ বারবার দিলে শিশু ধরে নেয় যে প্রথমবার না শুনলেও সমস্যা নেই। ফলে তারা দেরি করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

তাই এক বা দুইবার বলুন। এরপরও না শুনলে আগে থেকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করুন। আবার নির্দেশ মানলে প্রশংসা করতে ভুলবেন না। ছোট ছোট ইতিবাচক কথা শিশুর আচরণে ভালো প্রভাব ফেলে।

শোনার অভ্যাসকে আনন্দের অংশ বানান

খেলার মাধ্যমেই শিশুরা সবচেয়ে বেশি শেখে। বাইরে হাঁটতে গিয়ে আশপাশের শব্দ শুনতে বলা বা ছোট ছোট পর্যবেক্ষণমূলক খেলায় অংশ নিতে উৎসাহ দিলে তাদের মনোযোগ বাড়ে।

এতে ধীরে ধীরে মন দিয়ে শোনার অভ্যাসও তৈরি হয়।

সন্তানের কথাও মন দিয়ে শুনুন

শিশুরা শুধু উপদেশ থেকে শেখে না, বড়দের আচরণ দেখেও শেখে। আপনি যদি তার কথা শুনতে অনীহা দেখান, তাহলে সেও অন্যের কথা গুরুত্ব দিতে শিখবে না।

তাই সন্তান কিছু বলতে চাইলে সময় দিন। মোবাইল সরিয়ে রেখে তার দিকে মনোযোগ দিন, প্রশ্ন করুন এবং আগ্রহ দেখান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানকে কথা শোনানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শান্তভাবে কথা বলা, স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া এবং তাদের কথাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

June 2026
SSMTWTF
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
20G