ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় নিয়ে সৌদি আরবের নতুন উদ্যোগ

প্রকাশঃ জুন ৩, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৪৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র হজ শেষে ফেলে দেওয়া ইহরামের কাপড়কে নতুনভাবে কাজে লাগাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। ‘সাসটেইনেবল ইহরাম’ নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে হাজিদের ব্যবহৃত কাপড় পুনর্ব্যবহার করে হাজার হাজার নতুন পণ্য তৈরি করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, গত এক বছরে ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় থেকে ৫ হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করা হয়েছে। এই উদ্যোগ দেশটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

হজ পালনকালে পুরুষ হাজিদের জন্য সেলাইবিহীন দুটি সাদা কাপড় বা ইহরাম পরিধান বাধ্যতামূলক। হজের নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিপুল পরিমাণ ইহরামের কাপড় অব্যবহৃত অবস্থায় থেকে যায়। আগে এসব কাপড়ের বড় অংশ বর্জ্যে পরিণত হতো।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এই প্রকল্পের ফলে পরিবেশ দূষণ কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধাও তৈরি হয়েছে। ব্যবহৃত কাপড় পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খরচ কমেছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ জনের খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ জন প্রান্তিক নারী দর্জিও এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ পেয়েছেন। এটি চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তোলার একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিবেশগত দিক থেকেও উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ২১১ টনের বেশি কাপড়ের বর্জ্য ল্যান্ডফিলে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এতে কার্বন নিঃসরণও কমেছে।

হজ মৌসুমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে প্রায় দুই লাখ হাজিকে পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

প্রকল্পের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পবিত্র স্থানগুলোর বিভিন্ন নির্ধারিত বুথ থেকে ব্যবহৃত ইহরাম সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর এসব কাপড় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, বালিশ, কভার ও উপহারসামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে।

সরকারি, বেসরকারি ও অলাভজনক মিলিয়ে মোট ২২টি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে অংশ নিয়েছে। শুধু কাপড় নয়, হজের সময় উদ্বৃত্ত খাবার পুনর্ব্যবহার করেও জৈব সার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতে এই মডেল দেশের আরও বড় বড় প্রকল্পে ব্যবহার করা হতে পারে, যাতে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G