পৃথিবীতে যখন আমানতদার মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে!

প্রকাশঃ জুন ৯, ২০২৬ সময়ঃ ১১:২১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:২১ অপরাহ্ণ

হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমানত ও মানুষের নৈতিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, তাঁর কাছে এমন দুটি ঘটনা বা বাণী পৌঁছেছে, যার একটি বাস্তব জীবনে দেখা গেছে এবং অন্যটির জন্য সময়ের অপেক্ষা চলছে।

হাদিস অনুযায়ী, মানুষের অন্তরে শুরুতে আমানত বা বিশ্বাস রক্ষার অনুভূতি গভীরভাবে স্থাপন করা হয়। এরপর আল্লাহর পক্ষ থেকে কোরআন অবতীর্ণ হয় এবং মানুষ তা থেকে জ্ঞান অর্জন করে জীবন পরিচালনা করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অন্তর থেকে এই আমানতের অনুভূতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

মহানবী (সা.) আরও বর্ণনা করেন, এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ ঘুমের অবস্থার মতো অসচেতনভাবে ধাপে ধাপে আমানত হারাতে থাকবে। প্রথমে হালকা দাগের মতো প্রভাব দেখা দেবে, পরে তা আরও গভীর হয়ে ক্ষতের মতো রূপ নেবে। তখন মানুষের অন্তরে সত্য ও বিশ্বাসের জায়গা প্রায় শূন্য হয়ে যাবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি পাথরকে ঘষে যেমন তার বাহ্যিক রূপ পরিবর্তিত হয়, তেমনি মানুষের অন্তর থেকেও আমানতের অনুভূতি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাবে। তখন মানুষ বাহ্যিকভাবে স্বাভাবিক আচরণ করলেও তার ভেতরে সততার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।

ঐ সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক লেনদেনে বিশ্বস্ত মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। সমাজে কেউ কাউকে বিশ্বাস করবে না, বরং অল্প কিছু লোককে “বিশ্বস্ত” হিসেবে উল্লেখ করা হবে, যদিও তাদের অন্তরের অবস্থা থাকবে অত্যন্ত দুর্বল।

হুজাইফা (রা.) আরও বলেন, এক সময় ছিল যখন তিনি যেকোনো মুসলমানের সঙ্গে লেনদেনে স্বস্তি বোধ করতেন। কারণ মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ই তাদের সততার নিশ্চয়তা দিত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু মানুষ ছাড়া অন্যদের ওপর আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

হাদিস থেকে শিক্ষণীয় দিক

১. আমানত শুধু গচ্ছিত সম্পদ নয়, বরং দায়িত্ব, বিশ্বাস, প্রতিশ্রুতি ও নৈতিক দায়বদ্ধতাও এর অন্তর্ভুক্ত।
২. মানুষের অবহেলা ও গুনাহের কারণে ধীরে ধীরে আমানতের অনুভূতি কমে যেতে পারে।
৩. বাহ্যিকভাবে মানুষ ভালো মনে হলেও অন্তরের অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
৪. শেষ সময়ের আগে সমাজে সত্যিকারের আমানতদার মানুষের সংখ্যা কমে যাবে।
৫. একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য তার চরিত্র, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
৬. মুমিনের অন্যতম বড় গুণ হলো অন্যের সম্পদ ও অধিকার রক্ষা করা।
৭. ব্যবসা ও সামাজিক জীবনে সততা বজায় রাখা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হাদিসের এই বর্ণনা সমাজে নৈতিকতা ও বিশ্বাস রক্ষার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই একজন মানুষের উচিত তার আচরণ, দায়িত্ব ও লেনদেনে সর্বোচ্চ সততা বজায় রাখা, যাতে সমাজে আস্থা ও ন্যায়বোধ টিকে থাকে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

[fbcomments]

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G