ত্বকের যত্নে ঘরে বসেই তৈরি করুন নিমের ফেসওয়াশ
দিনভর বাইরে থাকার পর মুখে জমে থাকা ধুলাবালি, ঘাম ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করতে অনেকেই বাজারের বিভিন্ন ফেসওয়াশ ব্যবহার করেন। তবে এসব পণ্যে নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকার পাশাপাশি দামও তুলনামূলক বেশি। চাইলে ঘরেই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে সহজে ফেসওয়াশ তৈরি করা সম্ভব, যা ত্বক পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ব্রণ ও দাগ কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
ত্বকের যত্নে বহু বছর ধরেই নিমের ব্যবহার জনপ্রিয়। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে নিমপাতা ব্রণ, ব্রণের দাগ, ব্ল্যাকহেডস এবং ত্বকের কালচে দাগ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই ঘরোয়া উপায়ে ফেসওয়াশ তৈরি করতে নিম একটি কার্যকর উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।
নিম ও অ্যালোভেরা ফেসওয়াশ
অ্যালোভেরায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি এবং ত্বকের জন্য উপকারী বিভিন্ন উপাদান। নিমের সঙ্গে এটি ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি ব্রণ ও দাগ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
যা লাগবে
- ১ চা চামচ নিম গুঁড়ো
- ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল
তৈরির পদ্ধতি
দুটি উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে পেস্টটি মুখে লাগিয়ে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। প্রায় ৫ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শেষে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন।
নিম ও হলুদের ফেসওয়াশ
হলুদে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের লালচে ভাব ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিমের সঙ্গে হলুদের মিশ্রণ ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও উপকারী।
যা লাগবে
- ২ চা চামচ নিম গুঁড়ো
- ১/৪ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো
- ১ চা চামচ গোলাপ জল
- প্রয়োজনমতো পানি
তৈরির পদ্ধতি
প্রথমে নিম গুঁড়ো ও হলুদ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর গোলাপ জল ও সামান্য পানি দিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। মুখ পরিষ্কার করে মিশ্রণটি লাগিয়ে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। ৫ থেকে ৬ মিনিট অপেক্ষা করে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন।
ব্যবহারের আগে যা মনে রাখবেন
যাদের ত্বক সংবেদনশীল বা অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে, তারা যেকোনো ঘরোয়া উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পেছনের অংশে প্যাচ টেস্ট করে নিন। কোনো ধরনের জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা অস্বস্তি দেখা দিলে সেই উপাদান ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া ত্বকের গুরুতর সমস্যা থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
প্রতি / এডি / শাআ










