আফগানিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম পথিকৃৎ ও সাবেক তারকা পেসার শাপুর জাদরান আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৮ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।
কয়েক দিন আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর প্রকাশ্যে আসে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই সাবেক ফাস্ট বোলার।
যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল শাপুর জাদরানের। গতি, আগ্রাসী বোলিং এবং লড়াকু মানসিকতার কারণে তিনি সমর্থকদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।
শাপুরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এক বিবৃতিতে বোর্ড জানায়, তিনি ছিলেন আফগান ক্রিকেটের ভিত্তি গড়ে তোলা অন্যতম অগ্রদূত। তার নিষ্ঠা, আবেগ ও অটুট প্রতিশ্রুতি দেশের ক্রিকেটের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আফগানিস্তানের পথচলা সুদৃঢ় করতেও তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
এসিবি আরও জানায়, ক্যারিয়ারের পুরো সময়জুড়ে শাপুর সম্মান, সাহস ও গর্বের সঙ্গে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার অবদান ও সাফল্য আফগান ক্রিকেটের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতীয় দলের প্রতি তার নিবেদন কখনো ভোলা যাবে না।
বোর্ডের ভাষ্য, মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও শাপুর ছিলেন অসংখ্য তরুণ আফগান ক্রিকেটারের অনুপ্রেরণা। তার লড়াকু মানসিকতা, দৃঢ় সংকল্প এবং ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা নতুন প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করেছে।
বিবৃতির শেষে শাপুর জাদরানের পরিবার, বন্ধু, স্বজন, সাবেক সতীর্থ এবং সমগ্র আফগান ক্রিকেট পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, তার শূন্যতা গভীরভাবে অনুভূত হবে, তবে তার অবদান ও স্মৃতি আফগানিস্তান এবং বিশ্ব ক্রিকেটে চিরকাল অম্লান থাকবে।
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় শাপুর জাদরানের। প্রায় এক দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি আফগানিস্তানের হয়ে ৮০টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ৪৪টি ওয়ানডেতে নিয়েছেন ৪৩ উইকেট এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টিতে শিকার করেছেন ৩৭ উইকেট।
তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ জয় এনে দেওয়ার ম্যাচে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দলের জয়ে অবদান রাখেন তিনি। ম্যাচটি আজও আফগান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে স্মরণীয়।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান শাপুর জাদরান। মাঠ ছাড়লেও আফগান ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
প্রতি / এডি / শাআ
আফগান ক্রিকেটে শোক, না ফেরার দেশে শাপুর জাদরান
৬৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়ল স্পেন
ইংল্যান্ড ম্যাচে নীল জার্সিই কেন চাইছে আর্জেন্টিনা? কী আছে এর পেছনে?
কোটি টাকার বেতন ছেড়ে পর্তুগালের কোচ হতে যাচ্ছেন হোর্হে হেসুস
বিশ্বকাপের মাঠে শিশুদের কানে হেডফোন ব্যবহার করা হয় কেন? জানুন আসল কারণ
বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইতিহাসের নতুন মাইলফলক ছুঁলেন মেসি ও জকোভিচ
‘আমার আগে কিছুই জেতেনি পর্তুগাল’, বিদায়ের বার্তায় রোনালদো
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করা ৭ কিংবদন্তি ফুটবলার
ফ্রান্সের জার্সিতে কেন মুরগির প্রতীক? জানুন এর পেছনের ইতিহাস
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে ফিফার বিরুদ্ধে বিলিয়ন ডলারের মামলা ইরানের