শরীর সুস্থ রাখতে কখন গোসল করা সবচেয়ে ভালো, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
দিনের শুরুতে গরম পানিতে একবার গোসল করে সতেজ হতে পছন্দ করেন অনেকেই। আবার কারও কাছে সারাদিনের ক্লান্তি, ঘাম ও ধুলোবালি ধুয়ে রাতে গোসল করে ঘুমাতে যাওয়াই সবচেয়ে আরামদায়ক। তবে প্রশ্ন হলো, স্বাস্থ্যগত দিক থেকে কোন সময় গোসল করা বেশি উপকারী? এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত কী?
মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রিমরোজ ফ্রিস্টোনের মতে, সকালের গোসল শরীরকে সতেজ করার পাশাপাশি রাতে জমে থাকা ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ এবং জীবাণু পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ঘুমের সময় শরীর থেকে ঘাম ও মৃত কোষ বিছানায় জমে, যা ধুলিকণা বা ডাস্ট মাইটের বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই সকালে গোসল করলে পরিচ্ছন্ন অনুভূতির পাশাপাশি সারাদিন সতেজ থাকা সহজ হয়।
অন্যদিকে, রাতের গোসলেরও রয়েছে বেশ কিছু উপকারিতা। সারাদিন বাইরে থাকার কারণে শরীরে জমে থাকা ধুলো, ঘাম, দূষণ ও বিভিন্ন অণুজীব রাতে গোসলের মাধ্যমে ধুয়ে ফেলা যায়। এতে বিছানার চাদর ও বালিশ তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে প্রায় ১০ মিনিট কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সুবিধা হয়। গোসলের পর শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে, যা মস্তিষ্ককে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সংকেত দেয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, রাতে গোসল করলেই সব উপকার পাওয়া যাবে এমন নয়। বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও অন্যান্য বিছানাপত্র নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান জমতে পারে। গবেষক হোলি উইলকিনসনের মতে, রাতে গোসলের চেয়ে পরিষ্কার বিছানায় ঘুমানো আরও গুরুত্বপূর্ণ। অপরিচ্ছন্ন বিছানায় ঘুমালে ত্বকের সংক্রমণ ও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোসলের আদর্শ সময় সবার জন্য এক নয়। এটি অনেকটাই ব্যক্তির জীবনযাপন, কাজের ধরন এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। যারা বাইরে বেশি সময় কাজ করেন বা শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য দিনের শেষে গোসল করা বেশি উপকারী হতে পারে। অন্যদিকে, অনেকের জন্য সকালে গোসল করাই স্বস্তিদায়ক ও কার্যকর।
সব মিলিয়ে, সকালে হোক বা রাতে, দিনে অন্তত একবার গোসল করে শরীর পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিয়মিত পরিষ্কার কাপড় পরা এবং বিছানাপত্র পরিষ্কার রাখা সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।
প্রতি / এডি / শাআ










