বেকারত্ব কমাতে বছরে ১ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের
কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমের সম্পাদক, সংবাদ প্রধান, বিপণন প্রধান, নীতিনির্ধারক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘মিডিয়া কানেক্ট সামিট’-এ এ লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহম্মদ।
রাজধানীর আফতাবনগরে ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ, পারস্পরিক মতবিনিময় এবং ফাউন্ডেশনের চলমান সেবামূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিরা আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ফ্রি মোবাইল রিপেয়ারিং ট্রেনিং সেন্টার, নারী স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারসহ বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তারা প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, ল্যাব ও শিক্ষার পরিবেশ ঘুরে দেখেন।
ফাউন্ডেশনের হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফরিদ খান জানান, দেশের যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা সমাজের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে দেওয়া, বেকারত্ব হ্রাস এবং টেকসই কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনের বহুমুখী কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে সরাসরি অবহিত করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহম্মদ জানান, ২০২৫ সালে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ১৭৯ জন তরুণ-তরুণীকে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা এক বছরের মধ্যেই সম্মিলিতভাবে ৪২ কোটিরও বেশি টাকা আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে ১৪টি কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কোর্স চালু রয়েছে এবং সময়োপযোগী নতুন কোর্স যুক্ত করার কার্যক্রম চলমান।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর এক লাখ বেকার তরুণ-তরুণীকে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
পরিদর্শন শেষে ফাউন্ডেশনের শিক্ষা, মানবিক সেবা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা করা হয়। পরে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অতিথিরা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণের প্রভাব, কর্মসংস্থান মডেল এবং সম্প্রসারণ কৌশল নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীলরা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও পরামর্শ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত দাতব্য সংস্থা। ২০১৭ সালে শায়খ আহমাদুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত এ ফাউন্ডেশন শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং দাওয়াহ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশজুড়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতি / এডি / শাআ













