সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য দুঃসংবাদ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের প্রায় আট মাস পার হলেও গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থ পুরোপুরি ফেরত পাওয়ার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ পাওয়া যায়নি। সীমিত পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ চালু থাকলেও বিপুল অঙ্কের আমানত কবে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে অবশিষ্ট প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার আমানত ফেরতের সময়সূচি প্রকাশ না হওয়ায় প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
শুধু আমানতকারীরাই নন, ব্যবসায়িক গ্রাহকেরাও বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। নতুন ঋণ সুবিধা না পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারছে না। পাশাপাশি পুরোনো এলসির অর্থ পরিশোধেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। বন্ধক রাখা সম্পদ অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করা সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প অর্থায়নের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এলসির বকেয়া পরিশোধে বিলম্বের কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আস্থা কমেছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও। নতুন এলসি খোলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কমিশন ও চার্জ গুনতে হচ্ছে, যা আমদানিকারকদের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে একটি নস্ট্রো হিসাব জটিলতাসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক আইনি বিষয়ও চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান বলেছেন, এলসি-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা মোকাবিলায় একটি আইনগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, বকেয়া এলসি নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হওয়ায় ব্যাংকের প্রতি আস্থা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ব্যাংকটির পুনর্গঠন কার্যক্রমে একটি বিশেষ কারিগরি দল কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য ধাপে ধাপে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রম একটি প্ল্যাটফর্মে আনতে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (CBS) সমন্বয় অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পুনঃমূলধনীকরণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের কাজও চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে এবং গ্রাহকদের আমানত পরিশোধ প্রক্রিয়াও আরও স্বাভাবিক হতে পারে। তবে এ জন্য সময়, কার্যকর পরিকল্পনা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার—এই তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতি / এডি / শাআ













